প্রকৃতির নীরব প্রহরী

সুন্দরবন শুধু একটি প্রাকৃতিক বনভূমি নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে, উপকূলকে রক্ষা করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই সুন্দরবনের গুরুত্ব আবেগ নয়Ñএটি বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও মানবিকভাবে অত্যন্ত যৌক্তিক। সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক ঢাল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের ঢেউ যখন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে, তখন সুন্দরবনের ঘন গাছপালা ও শিকড় সেই শক্তিকে অনেকাংশে দুর্বল করে দেয়।

গবেষণায় প্রমাণিত, যেসব এলাকায় সুন্দরবনের প্রভাব রয়েছে, সেখানে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়। অর্থাৎ সুন্দরবন না থাকলে হাজারো মানুষ ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ত। সুন্দরবন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বন থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধু ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। পর্যটনের মাধ্যমেও প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আসে। তাই সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া মানে শুধু পরিবেশ নয়,

তাই সুন্দরবন রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয়-এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য বন সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে, নদী ও খাল দূষণমুক্ত রাখতে হবে, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করতে হবে এবং উপকূলজুড়ে নতুন ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাতে হবে।

মানুষকে সচেতন করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মানসিকতা গড়ে তোলাই টেকসই সমাধান। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন বাঁচানো মানে কেবল একটি বন বাঁচানো নয়-এটি বাংলাদেশকে বাঁচানো। যুক্তি, বিজ্ঞান ও বাস্তবতা সবই বলে, সুন্দরবন আমাদের আজকের নিরাপত্তা এবং আগামী দিনের নিশ্চয়তা।

আরবী আক্তার তামান্না

সম্প্রতি