পাসপোর্টের মর্যাদা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে যে কোনো দেশের নাগরিক সবচেয়ে গর্বের সঙ্গে যা বহন করতে পারেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাসপোর্ট। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নথি নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি রাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। একজন নাগরিক যখন বিদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন তার হাতে থাকা পাসপোর্টই সেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই পাসপোর্টের মান আসলে একটি দেশের সামগ্রিক অবস্থানের প্রতিফলন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো অবৈধ অভিবাসন। দীর্ঘদিন ধরে কিছু মানুষ দালালচক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের ঘটনা বহুবার সামনে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে অনেকেই মানবপাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ জিম্মি হয়েছেন, কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এই মানবিক বিপর্যয় শুধু ব্যক্তিগত ট্রাজেডি নয়; আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

শুধু শ্রম অভিবাসন নয়, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অনেকে শিক্ষার্থী ভিসা বা ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফেরেন না। কেউ অন্য দেশে চলে যান, কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের বিষয়ে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করছে। বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই, এমনকি ভিসা বাতিল-এসব ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। পাসপোর্টের মান কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিক-উভয়ের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের উন্নয়ন প্রমাণ করতে পারি, তবে শক্তিশালী পাসপোর্ট অর্জন অসম্ভব নয়। পাসপোর্টের মর্যাদা রক্ষা মানে দেশের মর্যাদা রক্ষা। আর সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজন সুশাসন, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা।

ওরাইনা খান চৌধুরী

সম্প্রতি