রাজশাহী শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও দর্শনার্থী বাইরে খাবার খেয়ে থাকেন। ফলে রেস্টুরেন্ট খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু খাদ্যের মান ও দাম নিয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও বাজার ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। খাদ্যের মানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বাস্থ্যবিধি মানার ঘাটতি।
অনেক রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, খাবার সংরক্ষণে সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা হচ্ছে না, এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক রেস্টুরেন্টে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা বা লাইসেন্স থাকলেও তদারকির ধারাবাহিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। নিয়মিত মনিটরিং ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান দায়সারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বচ্ছতা ও অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।
নির্দিষ্ট খাবারের কোনো মানসম্মত মূল্যতালিকা বা গাইডলাইন না থাকায় একই মানের খাবারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে উৎসব ও ভর্তি মৌসুম অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। অনেক রেস্টুরেন্ট দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টানায় না, ফলে গ্রাহক আগেভাগে দাম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না। নিয়মিত স্বাস্থ্য ও মান নিরীক্ষা চালু করা জরুরি। প্রতিটি রেস্টুরেন্টে দৃশ্যমান মূল্যতালিকা ও লাইসেন্স প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার প্রক্রিয়া কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট মালিক ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। নিরাপদ খাদ্য আইন ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন করা হলে ব্যবসায়ীরা মান বজায় রাখতে আরও উৎসাহী হবেন।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
নগর-মহানগর: গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাসের সাথে ইশরাকের বৈঠক
অর্থ-বাণিজ্য: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রায় ৩৯ লাখ