অগ্নিকাণ্ডের প্রতিকার কী

রাজধানী ঢাকায় এবং দেশের অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ শহরে অগ্নিকাণ্ড অহরহ ঘটছে। জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের শরীর ও স্বপ্ন। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ক্ষয়-ক্ষতি তো রয়েছেই। গত কয়েকদিন পূর্বে ঢাকার কারওয়ান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দূর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছর আমরা দেখেছি ঢাকার মিরপুর, চট্টগ্রাম ইপিজেড ও বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমরা দেখেছি, মিরপুরের একটি গার্মেন্টস কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ আগুনে বহু শ্রমিক নিহত ও আহত হন। এর আগের বছর ঢাকার বেইলি রোডের শপিং মলে আগুনে প্রাণ হারান ৪৬ জন। ২০২৩ সালে বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ড হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা ছিন্নভিন্ন করে দেয়। গতবছর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন ২৭ ঘণ্টা চেষ্টার পরে নেভানো সম্ভব হয়েছে।

শরীরে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ক্ষত সবচেয়ে কষ্টদায়ক হওয়ার কয়েকটি কারণ হলো : ত্বকের উপরের স্তরের নিচে থাকা ব্যথা সংবেদী স্নায়ু প্রান্তগুলো আগুনে পুড়ে গেলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম মাত্রার পোড়ায় শুধু ত্বকের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা অনুভূত হয়। যেহেতু স্নায়ুগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, তাই ক্ষেত্রবিশেষে এখানে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। পোড়া ক্ষত নিরাময়ের সময়ও ব্যথার কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, স্নায়ুর পুনঃসৃজনের সময়ও অস্বাভাবিক ব্যথা হতে পারে। পোড়া ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হলে ব্যথা আরও বেড়ে যায়। সংক্রমণের কারণে প্রদাহ আরও বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। শারীরিক ব্যথার পাশাপাশি আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা মানসিক ট্রমারও সৃষ্টি করে, যা ব্যথার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আমরা ফায়ার সার্ভিস বিভাগের উন্নত মানের ও আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অভাব লক্ষ করি। বিশেষ করে ঢাকা শহরের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে কী করে কার্যকরভাবে অগ্নিনির্বাপণ করা যায়, সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কর্মীদের যেমন উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার।

আরমান হোসেন

সম্প্রতি