‘আমি না সুর, না অসুর। / মধ্যবর্তী গুণে তৈরি আমি মানব!’ টপার আর ব্যাকবেঞ্চার নিয়ে সবাই কথা বলে। কিন্তু খুব কম কথা হয়, এভারেজ স্টুডেন্টদের নিয়ে। অথচ এদের সংখ্যাই বেশি। আমরা যারা এভারেজ স্টুডেন্ট আছি তারা অতিরিক্ত পড়তেও পারি না, আবার একবারে না পড়েও থাকি না। ক্লাস চলাকালীন আমরা সামনের বেঞ্চেও বসি না আবার ব্যাকবেঞ্চেও বসি না। আমাদের পাবেন একদম মাঝের বেঞ্চে। আমাদের জীবনটা এরকমই। শুধু স্টুডেন্ট হিসেবে নয়, আমরা অনেকেই আছি যারা জীবনে প্রায় সব কিছুতে এভারেজ। এই ধরুণ না চেহারা- কেউ কেউ আছে দেখতে খুব ফর্সা, কেউ বা কালো, মাঝে আসে শ্যামবর্ণরা। সাদা কালোর মিশ্রণ। আবার পার্সোনালিটির কথা যদি বলি, কেউ ইন্ট্রোভার্ট কেউ বা এক্সট্রোভার্ট কিন্তু এদের মাঝে আরেক দল আছে অ্যাম্বিভার্ট। সবখানে মধ্যবর্তী একটা জায়গা পাবেনই। প্রকৃতিও তাতে পিছিয়ে নেই। একদিকে আছে দিন, একদিকে রাত, মাঝে আছে সন্ধ্যা বেলা বা গোধুলি লগ্ন। আর এই সময়টা সবচেয়ে রমনীয়। অর্থনীতিক অবস্থানের দিক দিয়ে আমাদের সমাজে উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত যেমন আছে, তেমনই একটা বড় সংখ্যাজুড়ে আছে মধ্যবিত্ত! আসলে পারফেকশনের উদাহরণ আমি কখনোই মানুষের মাঝে খুঁজে পাই না। স্রষ্টার সৃষ্টিতে আছে দেবতা যারা ভালোর প্রতীক, আবার আছে অসুর যারা খারাপের প্রতীক। এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানে আছে মানুষ। যারা ভালো খারাপের মিশ্রণ। হ্যাঁ, মানুষ চাইলেই কর্মের দ্বারা দেবতা বা অসুরের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু ওসব কথা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। আমি বলছিলাম এভারেজের কথা। আসলে মানুষ মানেই এভারেজ।
অন্যদের বিষয়ে জানি না। কিন্তু আমি অবস্থা বুঝেই জীবনে চলার পক্ষপাতী, কোনো বাধা ধরা নিয়মের, পারফেকশনের পিছনে দৌঁড়াতে আমি রাজি নই। জীবনে চলার পথে কখনও ভালো, কখনও মন্দ সিদ্ধান্ত নিবই, ভুল হবেই কারণ আমি মানুষ। এভাবেই জীবন যাত্রাকে উপভোগ করে বাঁচতে চাই, কোনোরকম পারফেকশনের নীতির ভার ছাড়াই। তাই সবাইকে বলি পারফেক্ট হওয়ার পিছনে না ছুটে, জীবনকে উপভোগ করার পিছনে ছুটুন, জীবন যাত্রাকে উপভোগ করুন। দেখবেন বাস্তবতার নিষ্ঠুর সত্যেও জীবন কত সুন্দর লাগবে।
সেঁজুতি মুমু
নগর-মহানগর: গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাসের সাথে ইশরাকের বৈঠক
অর্থ-বাণিজ্য: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রায় ৩৯ লাখ