image

আসামের বাংলা ভাষা আন্দোলন

১৯৫৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। কেননা রফিক, সালাম, জব্বারদের মতো ভাষা শহীদদের কারণে আজকের দিনে এসে ও আমরা প্রাণের বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। তরুণ প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে এই ইতিহাসের আলোচনা সাধারণত শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকে এবং যার সমাপ্ত হয় ১৯৯৯ সালে শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মাঝখানে বাদ পরে গেছে আসামের বাংলা ভাষা আন্দোলন। ২০২৬ সালের নবম-দশম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বই এ ভাষা আন্দোলনের পটভূমি অংশটি দেখলে যায়, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে জানানো হচ্ছে না আসামের বাংলা ভাষা আন্দোলন ও তার প্রেক্ষাপটকে।

২১ ফেব্রুয়ারি যেমন আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয় তেমনই ১৯৬১ সালের ১৯ মে বাংলাভাষী মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। এই দিনে জব্বার, রফিক, শফিকের মতো আসামে বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন অনেক মানুষ। ১১ জন শহীদ হয় সেই আন্দোলনে। তাদের নাম-শচীন্দ্র পাল, কানাই নিয়োগী, কমলা ভট্টাচার্য, সুনীল সরকার, সুকোমল পুরকায়স্থ, কুমুদ দাস, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, তরণী দেবনাথ, হীতেশ বিশ্বাস, বীরেন্দ্র সূত্রধর, সত্যেন্দ্র দেব।

বাংলা ভাষা কেবল বাংলাদেশের নয়। এ ভাষা বিশ্বজুড়ে অবস্থান করা সব বাঙালির। তাই এই বাংলা ভাষাকে যে যেখান থেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে, তাদের সে অবদানকে অস্বীকার হলো বাংলা ভাষার মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা। তাই বাংলা ভাষার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলোচনায় বহৎ পরিসরে না হলে ও অল্প পরিসরে হলে ও আসামে বাংলা ভাষা আন্দোলন আলোচনা প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে জানিয়ে দেয়া প্রয়োজন যে, বাংলা ভাষার জন্য কেবল বাংলাদেশে অবস্থানরত বাঙালিরা নয় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বাঙালিরা ও প্রাণ দিতে পারে। সেজন্য পাঠ্যবই গুলো সহ গবেষকদের গবেষণার মাধ্যমে আরো তথ্য যাচাই বাছাই করে ২১ ফেব্রুয়ারির মতো ১৯ মের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করতে হবে। তবেই বিশ্বজুড়ে বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার প্রসার হবে।

মো. রিমেল

সম্প্রতি