আজকের বিকেলের মাঠগুলো নিঝুম, শান্ত। নেই শিশুদের সেই চিরচেনা কোলাহল বা ধুলোবালি মাখা হাসি। কয়েক বছর আগেও যে মাঠে শিশুদের ভিড় থাকত, আজ সেখানে কেবল নীরবতা। কারণ, বর্তমান প্রজন্মের শৈশব এখন খোলা মাঠ ছেড়ে বন্দি হয়েছে স্মার্টফোনের চার ইঞ্চি স্ক্রিনে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
মাঠের বদলে অনলাইন গেমস আর ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে দলবদ্ধ খেলার অভাব শিশুদের সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা শিখতে দিচ্ছে না।
কায়িক শ্রমের অভাবে স্থূলতা, চোখের সমস্যা ও ঘুমের ব্যাঘাত বাড়ছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মধ্যে একাকিত্ব, মনোযোগহীনতা ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি করছে।
পারিবারিক ও সামাজিক ব্যস্ততার অজুহাতে আমরা শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছি, যা আসলে তাদের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করছে। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার। সন্তানদের হাতে ফোন নয়, বরং আমাদের পর্যাপ্ত সময় ও খেলার সরঞ্জাম তুলে দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শৈশব একবার চলে গেলে আর ফেরে না। প্রযুক্তি আসক্তির এই নীল দংশন থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। আসুন, শৈশবকে আবার শৈশবের মতো করে বাঁচতে দিই।
তৌসিফ রেজা আশরাফী