স্বাধীন গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী ও কার্যকর রাখতে সংবাদমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সত্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ নানা প্রতিবন্ধকতা ও চাপের মুখে পড়ে তার স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জাতীয় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও, যখন কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়, তখন কার্যকর রাষ্ট্রীয় ভূমিকা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক অনিয়ম, অর্থনৈতিক দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা, একটি উদ্বেগজনক ধারায় পরিণত হয়েছে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরবতা জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধী চক্র ও অপশক্তির বিষয়ে তথ্য থাকা সত্ত্বেও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতা অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতীয় গণমাধ্যমকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে হলে সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়ন। স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। এটা উপলব্ধি করেই রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সাব্বির হোসেন মিরাজ

সম্প্রতি