পিতার আত্মত্যাগ

বাবার মুখেই বলতে শুনেছি যখন তার বই খাতা বগলে নিয়ে স্কুলের বারান্দায় পা দেবার বয়স সে সময় তাকে কাজের জন্য রেখে দেন মা বাবা অন্যের বাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের অবহেলা ছিলো তার নিত্যসঙ্গী। চার ভাইবোনের তৃতীয় সন্তান তিনি।কোনো দোষ করলে ভাত জুটতো না। খেতের টমেটো ছিলো তার ক্ষুধা নিবারণের একমাত্র উপায়।এমন আরো হৃদয় বিদারক ঘটনার সাক্ষী আমার বাবা। আমার ছেলেবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার বিশেষ নজর ছিলো।

আমার স্পষ্ট মনে পড়ে ২০১২ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাবার পর আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বাবাকে বলেছিলাম। তিনি শুধু বলেছিলেন এর থেকে বেশি ভালো করা যায় নাআমি বললাম,এটাই সর্বোচ্চ। তখন তার চোখে মুখে অন্তহীন খুশির ফোয়ারা দেখতে পেয়েছিলাম।জে এস সি ও এস এস সি তে জিপিএ ফাইভ পেলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সিট পেয়ে গেলাম। বাবার মুখে যে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে দেখলাম তা কখনো ভুলবো না। তিনি পরিচিত সবাইকে বলেন তার মেয়ে ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে।

আজ রেলস্টেশনে বাবার সাথে দেখা। জিজ্ঞেস করলো টাকা লাগবে কি না।আমি কিছু বলার আগেই তিনি হাতে টাকা পুরে দিলেন। মায়ের কাছে জানতে পারলাম বাবা অল্প টাকা নিয়ে বের হয়েছেন অন্য জেলায় কাজ করার জন্য।অথচ তার অসুবিধার কথা চিন্তা না করে আমি যেনো অর্থের দুশ্চিন্তা না করি সে ব্যবস্থা করে গেছেন সব সময় ।বাবা জনসমুদ্রে লোকচক্ষুর আড়ালে না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলাম আর অজান্তেই দুই চোখ ভিজে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা নোনা জল।

রুমা আখতার

সম্প্রতি