মাত্র দুই সপ্তাহে চল্লিশটি খুন এবং এক সপ্তাহে ছয়টি নিষ্পাপ শিশুর লাঞ্ছিত প্রাণ- এটি আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের করুণ চিত্র। আমরা কি সত্যিই স্বাধীন দেশে নিরাপদ? যে দেশে জন্মদাতা বাবার হাত থেকে পনেরো বছরের কিশোরী নিরাপদ নয়, সেখানে আমাদের সভ্যতার বড়াই করা কি মানানসই?
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৭৮৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৫২.৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকারদের মধ্যে ৫৪৩ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে অন্তত ৫০টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মার্চ একদিনেই সাতজন শিশু নিহত এবং ছয়জন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, কারণ সামাজিক লোকলজ্জা ও নিরাপত্তার অভাবে অসংখ্য ঘটনা পুলিশের খাতায় লিপিবদ্ধ হয় না।
এই সব ঘটনার পেছনে আমাদের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমাজের উদাসীনতা স্পষ্ট। দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে অপরাধীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যাবে। বর্বরতা ও অন্যায় কখনও উপেক্ষা করা যাবে না। সমাজ, প্রশাসন ও পরিবার- সবাইকে মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, তবেই শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। অন্যায় দেখলে চুপ থাকা চলবে না, প্রতিবাদ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন মুখে বলার মাধ্যমে নয়, কাজের মাধ্যমে সম্ভব।
মনিষা শীল
অর্থ-বাণিজ্য: ভরিতে ৩ হাজার ২৩৬ টাকা বাড়লো সোনার দাম
অর্থ-বাণিজ্য: ঈদের ছুটিতে কাস্টম হাউসগুলো খোলা থাকবে