চাপ, নীরবতা এবং ৪০৩টি প্রাণ

২০২৫ সালে সারা দেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সংখ্যাটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই শোক, বিস্ময় এবং উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে। আঁচল ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, আত্মহত্যাকারী অধিকাংশই ১৩-১৯ বছর বয়সী কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সংখ্যায় কি আমাদের সত্যিই বিস্মিত হওয়ার কিছু আছে? নাকি এটি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এক নীরব সংকটের অনিবার্য পরিণতি? এই ৪০৩টি মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক মানসিকতা এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার সম্মিলিত ফল।

আমাদের সমাজে এখনও একটি বিশ্বাস শক্তভাবে গেঁথে আছে শিক্ষার্থী মানেই চাপের মধ্যে থাকবে। পরীক্ষা, ফলাফল, ভর্তি প্রতিযোগিতা, চাকরির অনিশ্চয়তা; সব মিলিয়ে চাপকে আমরা স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছি। কিন্তু চাপ স্বাভাবিক হলেও, চাপ সামলানোর কাঠামো তৈরি হয়নি। প্রশ্ন হলো- ৪০৩ কি প্রকৃত সংখ্যা? পরিসংখ্যান বলছে, সম্ভবত নয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, সামাজিক লজ্জা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক আত্মহত্যার ঘটনা রিপোর্টই হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী পরিচয় বাদ পড়ে যায় বা ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ, আমরা হয়তো সমস্যার পুরো চিত্রই দেখছি না। আত্মহত্যা অনিবার্য নয়। এটি প্রতিরোধযোগ্য। সংখ্যা কমানো নয়, মানুষ বাঁচানোই হওয়া উচিত লক্ষ্য। আর সেই সিদ্ধান্ত যত দেরিতে আসবে, তত বেশি নাম যুক্ত হবে এই পরিসংখ্যানে।

তৌসিফ রেজা আশরাফী

সম্প্রতি