image
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারেক রহমানের করমর্দন -সংবাদ

শপথ নিলো তারেকের মন্ত্রিসভা, চমক খলিল

ফয়েজ আহমেদ তুষার

দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নুতন সরকার বা মন্ত্রিসভা গঠন করছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে; যাদের ৪০ জনই নতুন মুখ। এদের মধ্যে বিএনপির জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন। টেকনোক্র্যাট তিনজন মন্ত্রীর মধ্যে চমক হিসেবে আলোচনায় আছেন খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’ ছিলেন। তিনজন নারী জায়গা পেয়েছেন নতুন এই মন্ত্রিসভায়।

প্রথম এমপি হয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শপথের পর অভিনন্দন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন

৫০ জনের মন্ত্রিসভায় ৪১ জনই নতুন

টেকনোক্র্যাট ৩: আরও ২টি কোটা খালি

নারী ৩: রিতা, পুতুল ও শামা। তারা যথাক্রমে আফরোজা মুন্নু, পটল ও কেএম ওবায়দুরের উত্তরসূরী

শরীক দলের ২: সাকি ও নুর

ববি শরীক দলের হলেও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেছেন

এগিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগ

পিছিয়ে সিলেট বিভগে

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পায়নি ২৫ জেলা

রাতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ

মঙ্গলবার, (১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলো বিএনপি। আর তিন দশক পর নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ।

অনেকেই এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য [এমপি] হয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। মন্ত্রিসভার ২৫ মন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এর আগে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যের দায়িত্বে ছিলেন না। প্রতিন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ২৪ জনের কেউই এর আগে মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি।

নতুন মুখের ছড়াছড়ির মধ্যে এই সরকারে বিএনপির অভিজ্ঞ ও পুরনো নেতাদের অনেকেই জায়গা পাননি। বাদ পড়া তালিকায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ- স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টাম-লীর নেতারাও রয়েছেন। তবে রাতে বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংগীত, তারপর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী [সরকারপ্রধান] হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন।

হাত তালি দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। এরপর দুজন দাঁড়িয়ে একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন করেন। উপস্থিত অনেকেই এসময় হাত তালি দেন।

এরপর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। নতুন মন্ত্রীদের পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সর্বশেষে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করে তাদেরকে শপথগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রতিমন্ত্রীদের শপথ, গোপনীয়তার শপথ এবং শপথে স্বাক্ষরের পর অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তার মেয়ে দীনা আফরোজকে সঙ্গে নিয়ে। উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আববারকেও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

টেকনোক্র্যাট চমক খলিলুর

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা দেয়া এবং প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা কোরিডোর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিএনপির অনেকে খলিলুরের অপসারণ চেয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেও খলিলুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন তারা।

পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা খলিল টেকনোক্র্যাট [সংসদ সদস্য না হয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া] হিসেবে পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব।

কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। এবার কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ওই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। ইয়াছিন তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন সরকারে জায়গা পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হকও। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আমিনুল। তবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। আমিনুলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ি, মন্ত্রিসভায় যতজন সদস্য তার ১০ ভাগ [শতাংশ] টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায়। সে হিসেবে অর্ধশত সদস্যের বর্তমান মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট ৩ জন বা ৬ শতাংশ। মন্ত্রিসভার আকার অনুযায়ি আরও দুজনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

শরিক দলের যারা

শরিক দলের নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় ৩ নারী যারা

নতুন মন্ত্রিসভায় যে তিনজন নারী স্থান পেয়েছেন তারা হলেন- আফরোজা খানম রিতা, ফারজানা শারমিন পুতুল ও শামা ওবায়েদ। এরমধ্যে রিতা মন্ত্রী হিসেবে এবং পুতুল ও শামা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আফরোজা খানম রিতা। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হারুনার রশিদ খান মুন্নুর উত্তরসূরি। মুন্নু ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে এবং ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে জয়লাভের পর তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন ফারজানা শারমিন পুতুল (৪১)। রাজশাহী বিভাগে এবারের নির্বাচনে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থীও তিনি। বিএনপির হারানো এ আসন দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরুদ্ধার করেন পুতুল। তিনি বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। ফজলুর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয় এবং পরবর্তীতেও দলটির কোনো প্রতিনিধি জয়ী হতে পারেননি।

এবার নির্বাচনে বিএনপির প্রভাবশালী সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের উত্তরসূরি শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তার সমর্থকদের দাবি, ফরিদপুরের আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাবার জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতাকে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে ‘আরও সুসংহত করেন’ শামা।

রাতে ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজেও নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পায়নি ২৫ জেলা

মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় দেশের ২৫ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীর কোনো নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়। অতীতে এই জেলা থেকে মওদুদ আহমদের মতো নেতারা বিএনপির মন্ত্রী হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পায়নি। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জামায়াত-অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা- এই ৮ জেলার ৩০টি আসনের কোনোটিতেই জেতেনি বিএনপি। ফলে এই ৮ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নেই।

কুমিল্লায় বিএনপি এবার ভালো করেছে। মন্ত্রিসভায়ও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

এবারের মন্ত্রিসভায় এমন অনেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যাদের বাবা অতীতে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ছিলেন। রাজধানী ঢাকায় মন্ত্রিসভার সদস্য থাকলেও ঢাকার আশপাশের অনেক জেলা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে বাদ পড়েছে।

বড় জেলার মধ্যে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েছে খুলনা। এ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি। আবার যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই হেরেছে বিএনপি। একমাত্র আসনে জয়ী হয়েছেন অনিন্দ ইসলাম। তিনি এবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার বাবা তরিকুল ইসলাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারে অতীতে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুরে মন্ত্রী নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ থেকে এবার প্রথম ৩ জন সংসদ সদস্য পেয়েছে বিএনপি। কিন্তু এ জেলার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

গোপালগঞ্জের মতো মাদারীপুর ও শরীয়তপুরও আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত। অতীতের প্রায় সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দুটি জেলায় জয়ী হয়েছেন। এবার শরীয়তপুরের ৩টি এবং মাদারীপুরের ৩টি আসনের মধ্যে ২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পাননি।

অবশ্য ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে একজন করে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক নেতা কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজবাড়ী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

ঢাকার আশপাশেও নেই

এবার ঢাকা জেলায় ২০টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে শেখ রবিউল আলম পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার ও ধামরাইয়ে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের বেশির ভাগ সময় জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। অতীতে নাজমুল হুদা, আবদুল মান্নানসহ অনেকেই ঢাকা জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এবার ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

ঢাকার পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। মুন্সিগঞ্জ থেকে অতীতে বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এম শামসুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সিনহা, আবদুল হাইসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এবার এ জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পাননি।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একটি আসনে জোটের শরিক জমিয়তে ইসলামকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির দখলে যায়। নারায়ণগঞ্জের চারজন বিএনপির সংসদ সদস্যের কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

গাজীপুরের পাঁচটি আসনের চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতারা। কাপাসিয়ার আসনটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। অতীতে এই জেলা থেকে এম এ মান্নান, আ স ম হান্নান শাহসহ অনেকেই বিএনপির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন। এবার এই জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

টাঙ্গাইল থেকে অতীতে একাধিক মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার এই জেলা থেকে একমাত্র সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে একাধিক মন্ত্রী

রংপুর অঞ্চলে বিএনপি অনেক কম আসনে জয়ী হয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই অঞলে ভালো করেছে। রংপুর অঞ্চলের ৫টি জেলায় ২২টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে মাত্র ৪টি। অন্যদিকে জামায়াত ও তার সঙ্গীরা পেয়েছে ১৮টি। তবে লালমনিরহাট জেলার ৩টি আসনের সবগুলোই গেছে বিএনপির ঝুলিতে। সেখানকার প্রধান নেতা আসাদুল হাবিব দুলু জায়গা পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়।

দিনাজপুর অঞ্চলে ভালো করেছে বিএনপি। এই অঞ্চলের তিন জেলার একটি বাদে সব আসনই পেয়েছে বিএনপি। দলটির গুরুত্বপূর্ণ দুজন নেতাও আছেন এখানে। ঠাকুরগাঁও থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী হয়েছেন দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত এ জেড এম জাহিদ হোসেন। পঞ্চগড়ের ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে রাজশাহী বিভাগের বগুড়ার সন্তান। এর বাইরে বিভাগ থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং চারজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সিরাজগঞ্জ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ইকবাল হাসান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। অন্যদিকে মিনু রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বগুড়ার মীর শাহে আলম, নাটোর থেকে ফারজানা শারমিন, জয়পুরহাটের আবদুল বারী ও সিরাজগঞ্জের এম এ মুহিত। ফারজানা শারমিনের বাবা ফজলুর রহমান পটল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সরকারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

এগিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী

এবারের নির্বাচনে বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে বিএনপি বিপুল আসন জিতেছে। এর মধ্যে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। এ জেলা থেকে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তারা হলেনÑ মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), জাকারিয়া তাহের ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে চাঁদপুর থেকে আ ন ম এহসানুল হক মিলন পূর্ণ মন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মধ্যে নোয়াখালী জেলায় কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই। তবে ফেনী থেকে নির্বাচিত আবদুল আউয়াল মিন্টু ও লক্ষ্মীপুর থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হয়েছেন।

শীর্ষে চট্টগ্রাম বিভাগ

এবারের মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বেশি সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে। এই বিভাগ থেকে মোট ১২ জন স্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২ জন প্রতিমন্ত্রী।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখান থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৪ জন মন্ত্রী এবং ৬ জন প্রতিমন্ত্রী। রাজশাহী বিভাগে মোট ৬ জন (২ মন্ত্রী ও ৪ প্রতিমন্ত্রী), রংপুর বিভাগে মোট ৪ জন (৩ মন্ত্রী ও ১ প্রতিমন্ত্রী), বরিশাল ও খুলনা উভয় বিভাগ থেকেই ৫ জন করে সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে থেকে ৫ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সিলেট বিভাগ থেকে সবচেয়ে কম ২ জন সদস্য নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি