image

নারীদের ভয়েস বাড়াতে হবে এমন করে যেন কেউ এড়িয়ে যেতে না পারে¬-এফএলসি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একট উদযাপনরে দিন নয়,এটি একট প্রতিশ্রুতির দিন। একট প্রতিজ্ঞার মুহূর্ত। যেখানে আমরা অতীতের সঙগ্রামকে স্মরন করি এবং ভবিষ্যতের পথ চলার দিক নির্দেশনা নির্ধারণ করি। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের রাজপথে যে নারীরা তাদের অধকিারের দাবিতে পা রেখেছিলেন সেই সাহসী উত্তরাধীকার বহন করছি।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার এবং মূলধারার নারী আন্দোলনে পূর্ণ অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন উন্নয়নকর্মীরা বলেন, প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার একদিকে নারী হিসেবে, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবন মিলনায়তনে ফেমিনিস্ট লিডারশিপ কমিটির (এফএলসি) আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার/ সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম স্বাগত বক্তব্যে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে প্রান্তিক নারীদের নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বলেন,নারীরা বুঝে গেছেন নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। নারীরা ভোট না দিলে ভোটের ফলাফলের চিত্র পাল্টে যেতো।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিল্পী আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাগসরের নির্বাহী পরিচালক ফওজিয়া খোন্দকার ইভা।

মাহমুদা বেগম এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নারীপক্ষের পরিচালক কামরুন নাহার, পুন্ড্রা এন্টারপ্রাইজের জিইডিএসআই সমন্বয়কারী (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য) মোছা. ফজিলা খানম, অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ. ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক, রোকসানা সুলতানা, ডিজ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছরিন জাহান, সেভ দ্য চিলড্রেনের ওমর ফারুক।

শিল্পী আক্তার তার প্রবন্ধে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো একজন নারী পিছিয়ে থাকবেন, ততক্ষণ আমাদের মুক্তি সম্পূর্ণ নয়। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী। তাদের অধিকাংশই এখনও মূলধারার উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ সরকারি- বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব নয়। এই পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

নারী পক্ষের পরিচালক কামরুন নাহার বলেন, বর্তমান সরকার নারীবান্ধব নয়, এর প্রমাণ মিলেছে ত্রয়োদশ নির্বাচনে। নারীর চ্যালেঞ্জ অনেক। এজন্য নারীকে একতাবদ্ধ, জোটবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলতে হবে। নারী আন্দোলনকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার যেন সরকার করে।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন একমাত্র উপায় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধতা, একজন মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান প্রদান করা, একজন মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক তৈরি করা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তা আইন দিয়ে মানা সম্ভব নয়। তাই আইন হতে হবে নারীবান্ধব।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, আইন থাকলেই বাস্তবায়ন হবে না, যদি মেয়েটির পাশে পরিবার না থাকে। পরিবারের দায়িত্ব অনেক।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেন, নারীদের ভয়েস বাড়াতে হবে এমন করে যেন কেউ এড়িয়ে যেতে না পারে।৫১ শতাংশ নারীর জন্য মন্ত্রিপরিষদে মাত্র ৭জন সংসদ সদস্য। বিজ্ঞান, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এই জায়গাগুলোতে নারীর অবস্থান কোথায়! এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা নেই। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এই পর্যায়ে যেতে বাল্যবিয়ের কারণে মেয়েরা ঝরে পড়ে। এর পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। মন্ত্রণালয়ে নারী সচিবের সংখ্যাও কম। কিন্তু এ নিয়েও কোনো আলোচনা নেই।

অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ বলেন, এসিড সন্ত্রাস কমে গছে কিন্তু শেশ হয় নাই। এসিড সন্ত্রাসের শিকার নারীরা প্রতিবন্ধী হতে ইচ্ছুক না। তারা প্রতিবন্ধী ভাতাো নিতে চান না। কারণ তারা তো প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে নাই। তারা অবস্থার শিকার। এখন তো ডোনারও আসে না। ডোনার সংখ্যা খোজে। কিন্তু একজন এসিড দগ্ধ মানুষের পিছিনে প্রচুর খরচ। এইসব মানুষ মানে নারীদের জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা সকলের দায়িত্ব।

আলোচনার ফাকে ফাকে নাচ,গান,আবৃত্তি ও সুবিধা বঞ্চিত কিশোরীরা কারাতের বিভিন্ন কসরত প্রদর্শন করে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি