ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শেল্টার হোমে ৩ থেকে ৭ বছর আশ্রিত থাকার পরে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরলো বাংলাদেশি ২৮ শিশু। তবে এদের অধিকাংশেরই পিতা অথবা মাতা ভারতে কারাগারে সাজাভোগ করছেন। ফেরত আসাদের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।
মঙ্গলবার, (১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেল ৫ টার সময় বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকটে তাদের হস্তান্তর করেন। এসময় শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিয়াজ মাখদুম, বিজিবি, দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১২০ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে রয়েছে।
ফেরত আসা শিশুদের পরিবারিক বাড়ি কুড়িগ্রাম, রংপুর, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল, নাটোর, কুমিল্লা, খুলনা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালদের মাধ্যমে তারা তাদের পিতা মাতার সাঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ভারতে যায়। পরে তারা সবাই পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে যায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের পিতা-মাতাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলে এ সমস্ত শিশুদের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোমে আশ্রয় হয়। প্রায় তিন থেকে ৭ বছর পর তারা এসব হোমে থাকে। পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের মাধ্যমে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ তারা দেশে ফেরত আসে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানা থেকে এ সমস্ত শিশুদের রাইটস যশোর ১০ জন, মহিলা আইনজীবি সমিতি ৮ জন ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ২০ জনকে গ্রহণ করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম জানায়, ভারত থেকে ফেরত আসা ২৮ জন শিশুকে থানার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেসরকারি তিনটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাইটস যশোর এর কো-অর্ডিনেটর তৌফিকুর রহমান জানান, ভালো কাজের প্রলোভনে সীমান্তের অবৈধ পথে এ সব শিশুরা তাদের পিতা-মাতার সাঙ্গে ভারতে গিয়েছিল। এ সময় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে আটক করে জেলে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের পিতা-মাতাদের সাজা হলে ভারতীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা এ সমস্ত শিশুদের তাদের হেফাজতে নেয়। দীর্ঘ তিন থেকে ৭ বছর পর দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় ট্রাভেল পারমিটে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পায়। তিনি আরো বলেন, ফেরত আসা ২৮ শিশুকে বেনাপোল থেকে যশোরে নিজেদের সংস্থার শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরে অভিভাবকদের সাঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।