image

১২ কোটি ভোটারের রায়

রাত পোহালেই শঙ্কার ভোট উৎসব

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২৯৯টি আসনে। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে।

ভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে ভোটারদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশে বাড়তি শঙ্কা তৈরি করেছে।

কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ভোট: পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এর বাইরে থাকবে মোবাইল টিম এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স।

পুলিশের প্রাথমিক মূল্যায়নে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্র মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।

সহিংসতার পরিসংখ্যান ও উদ্বেগ: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৫৮টি সহিংসতায় দুইজন নিহত ও ৪৮৯ জন আহত হয়েছেন।

জানুয়ারির বিভিন্ন সময় মিলিয়ে আরও কয়েক দফায় সহিংসতার ঘটনায় প্রাণহানি ও শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা: এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র। বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন এবং এনসিপি ৩২ জন প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই নির্বাচনী জোটের মধ্যে হতে পারে। তবে বহু আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটের সমীকরণ জটিল করে তুলেছে।

পোস্টাল ব্যালট ও আন্তর্জাতিক নজর: ইতোমধ্যে ১১ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোটকর্মী ও বন্দিসহ ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। তাদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি।

সিদ্ধান্তের মুহূর্ত: পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন, সব মিলিয়ে দেশের কোটি কোটি নাগরিকের সামনে আজ সিদ্ধান্তের দিন।

উৎসবমুখর প্রস্তুতি আর শঙ্কার ছায়া, দুই বাস্তবতার মাঝেই শুরু হচ্ছে ভোট। রাত পোহালেই ব্যালটের রায়ে নির্ধারিত হবে দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রের পথচলার দিকনির্দেশ।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি