image

রোজার শুরুতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে বিশেষ প্রস্তুতি থাকে বিশ্বের সকল মুসলমানের। রমজান আসার পূর্বে অনেকেই মাসের প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনেন। উচ্চবিত্তরা তো বটেই, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরা সাধ্য অনুযায়ী করেন রোজার বাজার। কিন্তু রোজা শুরু হতে না হতেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্তের প্রায় নাভিশ্বাস অবস্থা।

সরেজমিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বাজারে ভালো মানের এক হালি লেবুর দাম এখন ১০০-১২০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন (১২টি) ডিমের দাম ১১০ টাকা। অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে এখন এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে সপ্তাহখানেক পর অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে আসতে পারে বলে জানান তারা।

এদিকে, ইফতারির বিভিন্ন উপকরণ তৈরির জন্য ভোক্তারা শসা, টমেটো, গাজর, বেগুন কেনেন। বাজারে বেগুন ও শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে।

ধরনভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের বেগুনের দাম আরও বেশি। আর প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেগুন, শসা, টমেটোর দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি রয়েছে।

বাজারে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মধ্যবিত্তের ব্রয়লারে নেই স্বস্তি

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা আমিষের উৎস হিসেবে গরু, খাসি বা দামি মাছ তুলনামূলক কম খান। এর পরিবর্তে তাদের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু রোজা শুরুর আগেই বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।

এদিকে, সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এক ডজন ডিমের দাম এখন ১০৫-১১০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বেড়েছে। আর শীতে খামারে মুরগির মৃত্যুর কারণেও দামে প্রভাব পড়েছে। আর প্রতিবছর রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়ে। এটিও মূল্যবৃদ্ধির আর আরেকটি কারণ।

মাছও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে

মাছবাজারেও নেই স্বস্তি। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই, কাতলের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। যেমন প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ২২০-২৫০ টাকায়। কয়েক দিন আগে ছিল ২০০-২২০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা মাছ ৪০০ টাকার কমে কেনা যায় না। রোজা শুরুর আগে এভাবে মাছ-মুরগির দাম বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের।

ফলের দামও চড়া

রোজা শুরুর আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। বিদেশি ফলের মধ্যে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাল্টা ও আপেলের। গতকাল এক কেজি মাল্টা ৩১০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর আপেল বিক্রি হয়েছে ৩৩০-৪০০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে ৫০-৮০ টাকা কম ছিল। দেশীয় ফলের মধ্যে ধরনভেদে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁপে, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফল আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

রোজায় প্রয়োজনীয় ছোলা, অ্যাংকর ডাল, চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। আর কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়ে না যেসব দেশে

রমজানে জিনিস পত্রের দাম বাড়ে না, আমাদের কাছে এটি অনেকটা আকাশকুসুম কল্পনা। তবে, বিশ্বে এমন অনেক দেশে এ চিত্র দেখা যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান মাস শুরু হওয়ার এক মাস আগে থেকেই মূল্যছাড় দেয়া হয়। মরুর দেশ কাতারেও চলছে রমজান উপলক্ষে বিশেষ মূল্যছাড়।

এদিকে, অনলাইন থেকে জানা যায়, কাতারে রোজার অন্যতম অনুষঙ্গ প্রায় ২৫ ধরনের খেজুরের ওপর চলছে বিশেষ মূল্যছাড়। এর সঙ্গে প্রায় ৮০০ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমিয়েছে কাতার সরকার। রমজান মাসজুড়ে এ সুবিধা পাবেন ক্রেতারা। এ ছাড়াও সরকার নির্দেশিত মূল্যে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির নির্দেশ রয়েছে কাতার সরকারের।

একইভাবে মালয়েশিরার সব ছোট বড় দোকানে এই মাসে চলে বিশেষ মূল্যছাড়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসহ সকল পণ্যের দাম কমানো হয় অন্যান্য সময়ের চেয়ে। আগের চেয়ে কত টাকা কমানো হয়েছে ক্রেতাদের দেখানো হয় সেই মূল্যতালিকা।

ত্যাগের এই মাসে মানুষের কষ্ট কমাতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর মূল্য ছাড় দেন সৌদি আরবের বিক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ৩০-৭০ শতাংশ দাম কমান সে দেশের ব্যবসায়ীরা।

বাহরাইনেও রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ২০-৬০ শতাংশ মূল্য ছাড় দেন ক্রেতারা। শুধু মুসলিম দেশগুলোই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডায় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিশেষ মূল্যছাড় দেয়া হয়।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি