image

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি আজ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক তিনটি আপিল আবেদনের ওপর রোববার (০৮ মার্চ) শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর এবং পরবর্তীতে ৫ মার্চ শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আজ এই চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।

​দীর্ঘ ১৪ বছর আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে যে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিলো, গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নওগাঁর এক বাসিন্দার পৃথক আবেদনের প‌রিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক রায় প্রদান করেন। সেই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ নম্বর ধারাসহ আরও বেশ কিছু অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সাথে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা গণভোটের বিধান সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদকে পুনর্বহাল করা হয়েছিলো।

তবে পূর্ণাঙ্গ আইনটি বাতিল না করে কিছু অংশ বহাল রাখায় আইনি জটিলতা নিরসনের লক্ষে সংক্ষুব্ধ পক্ষগুলো আপিল বিভাগে দ্বারস্থ হয়।

​আজকের এই শুনানিতে সুজন সম্পাদকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈপরীত্যগুলো তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপিলকারীদের যুক্তি হলো, হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ প্রশস্ত হলেও কিছু আইনি অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা নিরসন করা জরুরি।

অন্যদিকে, গত বছরের রায়ে আদালত উল্লেখ করেছিলো, পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সংসদ আইনানুসারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নতুন সংসদের উপস্থিতিতে এই আপিল শুনানিটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি