alt

সম্পাদকীয়

চাষিরা যেন আম উৎপাদনের সুফল পান

: শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১

গত বছর দেশে ১৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অর্জন। ফল পুষ্টির উৎস, নির্দিষ্ট মৌসুমে আম সেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। এটা একটা ভালো দিক যে, দেশে আম সহজলব্য। তবে আমের উৎপাদন অধিক হলে অবধারিতভাবে আমচাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয় বা লোকসানে পতিত হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে ক্রেতা কম থাকায় হাজার হাজার আমচাষি-ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনেকে পুঁজি হারাতে বসছেন বলেও জানা গেছে। বাগানে আম পেকে গেলেও নামনো যায়নি, সংরক্ষণের অভাবে বাগানেই পচে গেছে অনেক আম। আবার আড়তে পচে নষ্ট হচ্ছে।

রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিরা জানিয়েছেন, আমের ফলন খুব ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দফায় দফায় বিধিনিষেধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তারা আম পাঠাতে পারেনি। বিক্রয় ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণে লোকসান হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না।

এটি একটি অশুভ সংকেত। আমচাষিরা যদি উৎপাদন খরচ উঠাতে না পারে, তাহলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। একসময় উৎপাদন কম হবে। অধিক উৎপাদনের সুফল যেন আমচাষিরা পায় সেজন্য নীতি-নির্ধারকদের উদ্যোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে রপ্তানি একটি ভালো সমাধান হতে পারে। কিন্তু বিগত সময় আম রপ্তানির ক্ষেত্রে হতাশার চিত্রই প্রকাশ পায়। বিশ্বে আম উৎপাদনে বাংলাদেশ অষ্টম থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এলেও রপ্তানি বাজারে অবস্থান একেবারে তলানিতে। ২০২০ সালে দেশে উৎপাদিত আমের মূল্য ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সেখানে মাত্র ৪২ লাখ টাকার আম রপ্তানি করা হয়েছে।

আমের রপ্তানি বাজার বাড়াতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও রয়েছে। আমাদের দেশের আমের জাত উন্নত না হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বাগান থেকে আম সংগ্রহের পরে শনাক্তকরণ ও আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং কারার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ডিং ইমেজ তৈরি না হওয়াসহ রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, সমস্যা থাকলে সমাধানও বের করা যায়। বিশেষ করে, দেশের কৃষি বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত। ফল-ফসলের ক্ষেত্রে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনসহ কৃষি-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। আম উৎপাদনকরী, উদ্যোক্তা এবং নীতি-নির্ধারকদের সম্মিলিত চেষ্টায় সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। আম রপ্তানির বাধা দূর করা যেতে পারে।

সম্প্রতি ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের আমকে আমরা ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য রপ্তানি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ভিএইচটি) স্থাপনের কাজ চলছে।’ এমন প্লান্ট স্থাপন করা হলে আম রপ্তানিতে অনেকটা বাধা কাটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এর সঙ্গে প্যাকিং সুবিধা ও সঙ্গনিরোধ সনদের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা আশার করব, আগামী আমের মৌসুমের আগেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আম প্রক্রিয়াজাত করে জুস, আমসত্ত, আচার, চাটনি ইত্যাদি বাজারজাত করছে। রপ্তানির পাশাপাশি আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী ব্যাপকহারে উৎপাদন করার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এমন ব্যবস্থা নেবে যার সুফল আমচাষিদের কাছে পৌঁছে যাবে।

সড়ক ও সেতু দুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করুন

গণটিকা : ব্যবস্থাপনা হতে হবে সুষ্ঠু

বিইআরসি’র ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে কার স্বার্থে

শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকতে হবে

দশ টাকায় চাল বিক্রি কর্মসূচির পথে বাধা দূর করুন

কিন্ডারগার্টেনের অমানিশা

জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী পার্ক চাই

শিশুর পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে হবে

কিশোর বাউল নির্যাতনের বিচার করে দৃষ্টান্ত তৈরি করুন

করোনার টিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রসঙ্গে

মেয়াদের আগেই বিআরটিসির বাসের আয়ু ফুরায় কেন

সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত : সক্ষমতা না থাকলে সেটা বলা হোক

নকল ও ভেজাল ওষুধ : আইনের কঠোর প্রয়োগই কাম্য

ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে

কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের মৃত্যু প্রসঙ্গে

ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে উদ্যোগ নিন

বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে হবে

যানজট নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে

সব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ফেরাতে হবে

ভোলায় সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার : সতর্ক থাকতে হবে

নিউমোনিয়া থেকে শিশুদের বাঁচাতে চাই সচেতনতা

যে কোন মূল্যে বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে

মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল বন্ধ করুন

ট্যানারির বর্জ্যে বিপন্ন ধলেশ্বরী

চাঁদাবাজির দুষ্টচক্র থেকে পরিবহন খাতকে মুক্তি দিন

বিমানবন্দরে দ্রুত কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা করুন

বাক্সবন্দী রোগ নির্ণয় যন্ত্র

জাতীয় শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন

রোহিঙ্গাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট, এখনই ব্যবস্থা নিন

খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যবিধি যেন মেনে চলা হয়

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করুন

ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না কেন

বাঁশখালীর বাঁশের সেতু সংস্কার করুন

ঝুমন দাশের মুক্তি কোন পথে

দুস্থদের ভাতা আত্মসাৎ, দ্রুত ব্যবস্থা নিন

খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

tab

সম্পাদকীয়

চাষিরা যেন আম উৎপাদনের সুফল পান

শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১

গত বছর দেশে ১৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অর্জন। ফল পুষ্টির উৎস, নির্দিষ্ট মৌসুমে আম সেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। এটা একটা ভালো দিক যে, দেশে আম সহজলব্য। তবে আমের উৎপাদন অধিক হলে অবধারিতভাবে আমচাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয় বা লোকসানে পতিত হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে ক্রেতা কম থাকায় হাজার হাজার আমচাষি-ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনেকে পুঁজি হারাতে বসছেন বলেও জানা গেছে। বাগানে আম পেকে গেলেও নামনো যায়নি, সংরক্ষণের অভাবে বাগানেই পচে গেছে অনেক আম। আবার আড়তে পচে নষ্ট হচ্ছে।

রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিরা জানিয়েছেন, আমের ফলন খুব ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দফায় দফায় বিধিনিষেধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তারা আম পাঠাতে পারেনি। বিক্রয় ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণে লোকসান হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না।

এটি একটি অশুভ সংকেত। আমচাষিরা যদি উৎপাদন খরচ উঠাতে না পারে, তাহলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। একসময় উৎপাদন কম হবে। অধিক উৎপাদনের সুফল যেন আমচাষিরা পায় সেজন্য নীতি-নির্ধারকদের উদ্যোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে রপ্তানি একটি ভালো সমাধান হতে পারে। কিন্তু বিগত সময় আম রপ্তানির ক্ষেত্রে হতাশার চিত্রই প্রকাশ পায়। বিশ্বে আম উৎপাদনে বাংলাদেশ অষ্টম থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এলেও রপ্তানি বাজারে অবস্থান একেবারে তলানিতে। ২০২০ সালে দেশে উৎপাদিত আমের মূল্য ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সেখানে মাত্র ৪২ লাখ টাকার আম রপ্তানি করা হয়েছে।

আমের রপ্তানি বাজার বাড়াতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও রয়েছে। আমাদের দেশের আমের জাত উন্নত না হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বাগান থেকে আম সংগ্রহের পরে শনাক্তকরণ ও আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং কারার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ডিং ইমেজ তৈরি না হওয়াসহ রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, সমস্যা থাকলে সমাধানও বের করা যায়। বিশেষ করে, দেশের কৃষি বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত। ফল-ফসলের ক্ষেত্রে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনসহ কৃষি-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। আম উৎপাদনকরী, উদ্যোক্তা এবং নীতি-নির্ধারকদের সম্মিলিত চেষ্টায় সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। আম রপ্তানির বাধা দূর করা যেতে পারে।

সম্প্রতি ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের আমকে আমরা ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য রপ্তানি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ভিএইচটি) স্থাপনের কাজ চলছে।’ এমন প্লান্ট স্থাপন করা হলে আম রপ্তানিতে অনেকটা বাধা কাটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এর সঙ্গে প্যাকিং সুবিধা ও সঙ্গনিরোধ সনদের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা আশার করব, আগামী আমের মৌসুমের আগেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আম প্রক্রিয়াজাত করে জুস, আমসত্ত, আচার, চাটনি ইত্যাদি বাজারজাত করছে। রপ্তানির পাশাপাশি আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী ব্যাপকহারে উৎপাদন করার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এমন ব্যবস্থা নেবে যার সুফল আমচাষিদের কাছে পৌঁছে যাবে।

back to top