alt

সম্পাদকীয়

দুর্গম চরে গুচ্ছগ্রাম

: বুধবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘গুচ্ছগ্রাম-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের অধীনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চরচান্দ্রা মৌজায় পদ্মার চরে হতদরিদ্রদের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি গুচ্ছগ্রাম। এক কোটি পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু দুর্গত ভূমিহীন, গৃহহীন, ঠিকানাবিহীন, নদী ভাঙনের শিকার দরিদ্র পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসনসহ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে বা বিধবার নামে জমির মালিকানা স্বত্ব প্রদান করা।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ৯০টি পরিবারের কাছে ঘরগুলোর চাবি হস্তান্তর করেন। তবে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় গুচ্ছগ্রামটি ছেড়ে চলে গেছে প্রায় সব পরিবার। এক বছর ধরে পদ্মার ওই বিশাল চরে বরাদ্দ পাওয়া শুধু একটি পরিবার বসবাস করছে। আর মাস চারেক হলো পাশের একটি চরের ভাঙন কবলিত তিনটি পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে এ বিরাণ চরের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা এখন চারটি পরিবারের ১৪ জন! এ নিয়ে সংবাদ-এ গতকাল মঙ্গলবার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য মহৎ, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সরকার চাচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুর্নবাসন করতে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয়া চরচান্দ্রা মৌজার দুর্গম চরটি জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। সেখানে যাতায়াত-যোগাযোগের ব্যবস্থা অপ্রতুল। বিদ্যুতের খুঁটি আছে কিন্তু যেটা থাকা জরুরি সেই বিদ্যুৎ নেই। চরে নেই হাট-বাজার। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বিদ্যালয় থাকার প্রশ্নই আসে না। সেখানকার অনেক ঘর ভেঙে গেছে। অন্তত ২০টি ঘর হারিয়ে গেছে পদ্মার ভাঙনে।

প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দুর্গম একটি জায়গায় মানুষ থাকবে কেন? প্রকল্পটি এমন জায়গায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নেই বলে কেউ বসবাস করতে চায় না। শুধু কাঠ-টিন দিয়ে ঘর দাঁড় করালেই কোন স্থান বসবাসের যোগ্য হয়ে ওঠে না। শুধু ঘর থাকলে কী চলবে, যদি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা না থাকে।

উপকারভোগীদের যথাযথভাবে নির্বাচন করা হয়েছে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন। অভিযোগ আছে, যাদের সহায়-সম্বল আছে তারাও ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানেই প্রকল্পটি মাঠে মারা যাওয়ার কথা। এভাবে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে। চলমান আশ্রয়ণ প্রকল্পেও দেখা গেছে অবস্থাসম্পন্ন সচ্ছল ব্যক্তিরাও টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে।

আমরা চাই, গুচ্ছগ্রামের প্রকল্পটি সফল হোক। গুচ্ছগ্রামটিকে কীভাবে বসবাসযোগ্য করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যারা বসবাস করবেন তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

সহায়-সম্বল থাকা সত্ত্বে যারা গুচ্ছগ্রামে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের বরাদ্দ বাতিল করতে হবে। প্রকৃত অসহায় গৃহহীনদের মাঝে ঘর পুনর্বরাদ্দ দিতে হবে। যাদের ঘর-বাড়ি আছে তারা কীভাবে বরাদ্দ পেল সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার।

মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল বন্ধ করুন

ট্যানারির বর্জ্যে বিপন্ন ধলেশ্বরী

চাঁদাবাজির দুষ্টচক্র থেকে পরিবহন খাতকে মুক্তি দিন

বিমানবন্দরে দ্রুত কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা করুন

বাক্সবন্দী রোগ নির্ণয় যন্ত্র

জাতীয় শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন

রোহিঙ্গাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট, এখনই ব্যবস্থা নিন

খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যবিধি যেন মেনে চলা হয়

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করুন

ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না কেন

বাঁশখালীর বাঁশের সেতু সংস্কার করুন

ঝুমন দাশের মুক্তি কোন পথে

দুস্থদের ভাতা আত্মসাৎ, দ্রুত ব্যবস্থা নিন

খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

আত্মহত্যা কোন সমাধান হতে পারে না

বৃত্তাকার নৌপথের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে

অস্ত্র চোরাচালানের মূল হোতাদের ধরুন

আয়হীন প্রান্তিক নারীদের আয়কর পরিশোধের নোটিশ

এইচএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে কেন

সীমান্তহত্যা বন্ধে ভারতকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে

‘প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে’ বাঁচাতে হবে

সিডও সনদের ধারা দুটির ওপর থেকে সংরক্ষণ তুলে নিন

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটিতে লোকবল নিয়োগ দিন

কিশোর অপরাধ রুখতে চাই সম্মিলিত চেষ্টা

পানি শোধনাগারের সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করুন

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

দূষণের ক্রনিক রোগে ধুঁকছে রাজধানী, ভুগছে মানুষ

সর্বগ্রাসী দুর্নীতির আরেক নমুনা

বন্যপ্রাণী ও ফসল দুটোই রক্ষা পাক

সাম্প্রদায়িক হামলা : এখন আর রাতের আঁধারের অপেক্ষায় থাকতে হয় না

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ঝুঁকি আছে

প্রণোদনার অর্থ বিতরণে নয়ছয় কাম্য নয়

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে

গুমের কারণ খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিন

ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোকে দ্রুত প্রস্তুত করুন

ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ ভবন এবার কি ভাঙা হবে

tab

সম্পাদকীয়

দুর্গম চরে গুচ্ছগ্রাম

বুধবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘গুচ্ছগ্রাম-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের অধীনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চরচান্দ্রা মৌজায় পদ্মার চরে হতদরিদ্রদের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি গুচ্ছগ্রাম। এক কোটি পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু দুর্গত ভূমিহীন, গৃহহীন, ঠিকানাবিহীন, নদী ভাঙনের শিকার দরিদ্র পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসনসহ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে বা বিধবার নামে জমির মালিকানা স্বত্ব প্রদান করা।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ৯০টি পরিবারের কাছে ঘরগুলোর চাবি হস্তান্তর করেন। তবে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় গুচ্ছগ্রামটি ছেড়ে চলে গেছে প্রায় সব পরিবার। এক বছর ধরে পদ্মার ওই বিশাল চরে বরাদ্দ পাওয়া শুধু একটি পরিবার বসবাস করছে। আর মাস চারেক হলো পাশের একটি চরের ভাঙন কবলিত তিনটি পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে এ বিরাণ চরের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা এখন চারটি পরিবারের ১৪ জন! এ নিয়ে সংবাদ-এ গতকাল মঙ্গলবার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য মহৎ, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সরকার চাচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুর্নবাসন করতে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয়া চরচান্দ্রা মৌজার দুর্গম চরটি জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। সেখানে যাতায়াত-যোগাযোগের ব্যবস্থা অপ্রতুল। বিদ্যুতের খুঁটি আছে কিন্তু যেটা থাকা জরুরি সেই বিদ্যুৎ নেই। চরে নেই হাট-বাজার। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বিদ্যালয় থাকার প্রশ্নই আসে না। সেখানকার অনেক ঘর ভেঙে গেছে। অন্তত ২০টি ঘর হারিয়ে গেছে পদ্মার ভাঙনে।

প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দুর্গম একটি জায়গায় মানুষ থাকবে কেন? প্রকল্পটি এমন জায়গায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নেই বলে কেউ বসবাস করতে চায় না। শুধু কাঠ-টিন দিয়ে ঘর দাঁড় করালেই কোন স্থান বসবাসের যোগ্য হয়ে ওঠে না। শুধু ঘর থাকলে কী চলবে, যদি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা না থাকে।

উপকারভোগীদের যথাযথভাবে নির্বাচন করা হয়েছে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন। অভিযোগ আছে, যাদের সহায়-সম্বল আছে তারাও ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানেই প্রকল্পটি মাঠে মারা যাওয়ার কথা। এভাবে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে। চলমান আশ্রয়ণ প্রকল্পেও দেখা গেছে অবস্থাসম্পন্ন সচ্ছল ব্যক্তিরাও টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে।

আমরা চাই, গুচ্ছগ্রামের প্রকল্পটি সফল হোক। গুচ্ছগ্রামটিকে কীভাবে বসবাসযোগ্য করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যারা বসবাস করবেন তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

সহায়-সম্বল থাকা সত্ত্বে যারা গুচ্ছগ্রামে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের বরাদ্দ বাতিল করতে হবে। প্রকৃত অসহায় গৃহহীনদের মাঝে ঘর পুনর্বরাদ্দ দিতে হবে। যাদের ঘর-বাড়ি আছে তারা কীভাবে বরাদ্দ পেল সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার।

back to top