alt

সম্পাদকীয়

আবারও সাম্প্রদায়িক হামলা

: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১

আবারও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তৈরি করা হলো। আর তাকে কেন্দ্র করে উস্কানি দিয়ে কয়েকটি জায়গায় মন্দিরে হামলা হলো। এই ঘটনা ঘটলো বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সময়। এতে এই উৎসবের সময় ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর এই সাম্প্রদায়িক হামলায় কয়েকটি প্রাণও ঝরলো।

ঘটনার সূত্রপাত কুমিল্লার নানুয়ারদীঘির একটি পূজামন্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন পাওয়া গেছে এমন খবরে। ভোরবেলা এই দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। এবং তারা এসে ব্যবস্থাও নিয়েছেন। কিন্তু তারপরেই সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়া হলো। আর এরপরই চাঁদপুর, কক্সবাজার, গাজীপুর, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিওর আখড়া মন্দিরে হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। সেই ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় একটি মিছিল থেকে মন্দিরে হামলার চেষ্টা চালানো হলে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময় হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের ২২ জেলায় বিজিবি নামানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য- স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যমূলক কাজ এটি।

তবে এই ব্যাপারটা তো এমন নয় যে, এরকম উস্কানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটলো। রামু, ভোলা, সুনামগঞ্জ- এসব তো খুব দূর অতীতের ঘটনা নয়। কিন্তু ওই সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোর পরে কী হয়েছে? অপরাধীদের চিহ্নিত করে কি বিচার করা হয়েছে? নাকি ভুক্তভোগীরাই বরং ভুগেছেন।

অতীতের মতো এবারও ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু আগের ঘটনাগুলোর তদন্তে গঠিত কমিটিগুলোর ভূমিকা কী ছিল সেই প্রশ্ন উঠেছে। গত ডিসেম্বরে কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনায় কারা জড়িত ছিল সেটা কি জানা গেছে? সেই হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অনেককেই আসামি করা হয় না। মামলার তদন্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কোন কোন ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও তারা কিছুদিনের মধ্যেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। বরং নিরপরাধ অনেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। আর গ্রেপ্তার করা হয় সুনামগঞ্জের ঝুমন দাশের মতো মানুষদের। আর রামুর উত্তম বড়ুয়াদের খোঁজ মেলে না। ঘটনার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যায় না।

সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। কিন্তু করবেটা কে? এ দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের। তারা কি সেই দায়িত্ব পালন করছে?

প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হয় না। বছরের পর বছর এসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় করা মামলা যদি ঝুলিয়ে রাখা হয়, তাহলে এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে, আর ঝুমন দাশরা বলির পাঁঠা হবেন এবং উত্তম বড়ুয়ারা হারিয়ে যাবেন।

এই বিচারহীনতাই সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করা ও টেকসই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এখন তাদের আতঙ্ক দূর করা ও নির্বিঘ্নে ধর্ম পালনের অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা সরকারের।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ শিকার নেপথ্যের চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

নদ-নদী দখলের অবসান চাই

করোনাকালে শিখন ঘাটতির ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রক্ষায় সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার জরুরি

নিত্যপণ্যের দাম ও অসাধু সিন্ডিকেট

সড়ক দুর্ঘটনা কি থামবে না

সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধে প্রশাসন কি যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে

স্পিডবোট চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করুন

করোনাকাল ও দারিদ্র্য বিমোচন দিবস

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

স্বাধীন দেশে কেন সাম্প্রদায়িকতাকে পরাস্ত করা যাচ্ছে না

‘মা ইলিশ’ নিধন বন্ধে ব্যবস্থা নিন

মাথাপিছু আয়

আবারও সাম্প্রদায়িক হামলা

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসন করুন

বজ্রপাতের বিপদ মোকাবিলা করতে হবে

প্রকল্পগুলোর এমন পরিণতির দায় কার

নিত্যপণ্যের দাম কি নিয়ন্ত্রণহীনই থাকবে

হত্যাকান্ডগুলো ‘আত্মহত্যা’য় পরিণত হলো কীভাবে

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গৌরবময় অধ্যায়

ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস চালু করুন

তৈরি পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে

আফগানিস্তানে শান্তির দেখা মিলবে কবে

নিত্যপণ্যের বাজারে মানুষের পকেট কাটা বন্ধ করুন

গাঙ্গেয় ডলফিন রক্ষা করুন

দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে হবে

করোনার টিকা পেতে প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তি দূর করুন

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিন

তাপমাত্রা ও রাজধানীবাসীর কর্মক্ষমতা

ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চালুর উদ্যোগ সফল হোক

ইলিশের অভয়াশ্রমে অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যবসা করতে চাওয়া গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করুন

বাল্যবিয়ে বন্ধে এনআইডি ব্যবহারের প্রস্তাব

শিক্ষার্থী উপস্থিতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর সমস্যা দূর করুন

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রসঙ্গে

tab

সম্পাদকীয়

আবারও সাম্প্রদায়িক হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১

আবারও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তৈরি করা হলো। আর তাকে কেন্দ্র করে উস্কানি দিয়ে কয়েকটি জায়গায় মন্দিরে হামলা হলো। এই ঘটনা ঘটলো বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সময়। এতে এই উৎসবের সময় ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর এই সাম্প্রদায়িক হামলায় কয়েকটি প্রাণও ঝরলো।

ঘটনার সূত্রপাত কুমিল্লার নানুয়ারদীঘির একটি পূজামন্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন পাওয়া গেছে এমন খবরে। ভোরবেলা এই দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। এবং তারা এসে ব্যবস্থাও নিয়েছেন। কিন্তু তারপরেই সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়া হলো। আর এরপরই চাঁদপুর, কক্সবাজার, গাজীপুর, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিওর আখড়া মন্দিরে হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। সেই ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় একটি মিছিল থেকে মন্দিরে হামলার চেষ্টা চালানো হলে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময় হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের ২২ জেলায় বিজিবি নামানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য- স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যমূলক কাজ এটি।

তবে এই ব্যাপারটা তো এমন নয় যে, এরকম উস্কানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটলো। রামু, ভোলা, সুনামগঞ্জ- এসব তো খুব দূর অতীতের ঘটনা নয়। কিন্তু ওই সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোর পরে কী হয়েছে? অপরাধীদের চিহ্নিত করে কি বিচার করা হয়েছে? নাকি ভুক্তভোগীরাই বরং ভুগেছেন।

অতীতের মতো এবারও ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু আগের ঘটনাগুলোর তদন্তে গঠিত কমিটিগুলোর ভূমিকা কী ছিল সেই প্রশ্ন উঠেছে। গত ডিসেম্বরে কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনায় কারা জড়িত ছিল সেটা কি জানা গেছে? সেই হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অনেককেই আসামি করা হয় না। মামলার তদন্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কোন কোন ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও তারা কিছুদিনের মধ্যেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। বরং নিরপরাধ অনেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। আর গ্রেপ্তার করা হয় সুনামগঞ্জের ঝুমন দাশের মতো মানুষদের। আর রামুর উত্তম বড়ুয়াদের খোঁজ মেলে না। ঘটনার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যায় না।

সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। কিন্তু করবেটা কে? এ দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের। তারা কি সেই দায়িত্ব পালন করছে?

প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হয় না। বছরের পর বছর এসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় করা মামলা যদি ঝুলিয়ে রাখা হয়, তাহলে এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে, আর ঝুমন দাশরা বলির পাঁঠা হবেন এবং উত্তম বড়ুয়ারা হারিয়ে যাবেন।

এই বিচারহীনতাই সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করা ও টেকসই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এখন তাদের আতঙ্ক দূর করা ও নির্বিঘ্নে ধর্ম পালনের অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা সরকারের।

back to top