alt

সম্পাদকীয়

জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্য গড়ে তুলুন

: সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা টেলিগ্রাম নামক একটি মেসেজিং অ্যাপে এ সংক্রান্ত একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বোমা হামলার পর আইএসের এ ধরনের বার্তায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে গুলশান হামলার ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই অভিযোগের ভিত্তি পায়নি।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশে এখনও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত শুক্রবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ লেগেই আছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় দেশ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের শিকার হয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় সরকার সতর্ক আছে একথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা যাবে না। জঙ্গিবাদ দমনে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, জনমত সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে আইএস আছে কিনা সেটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তবে দেশে যে জঙ্গিবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর অপতৎপরতা অব্যাহত আছে সেটা নিয়ে তর্ক নেই। অব্যাহত পুলিশি অভিযানে তাদের দমিয়ে রাখা গেলেও নির্মূল করা যায়নি। জঙ্গিবাদকে পরাস্ত করতে গণঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। বিষয়টি সরকারও স্বীকার করেছে। আমরা চাই, সরকার অবিলম্বে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে। মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করে তুলতে হবে। জঙ্গিবাদী আদর্শকে পরাস্ত করা না গেলে জঙ্গিবাদ নতুন রূপে আবির্ভূত হতে পারে। জঙ্গিবাদী আদর্শকে পরাস্ত করা যায়নি বলেই বাংলা ভাইদের ফাঁসির পরও গুলশান হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কারণ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ইতোমধ্যে আঞ্চলিক জোট গড়ে তুলেছে বলে অবস্থাদৃষ্ট প্রতীয়মান হয়। কাজেই তাদের পররাস্ত করতে হলে রাষ্ট্রগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সারা বিশ্বেই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠীর দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই এমন দেশগুলো এক সময় নিরাপদ মনে করা হতো। ধারণা করা হতো, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দেশগুলোই শুধু জঙ্গি হামলার হুমকির মুখে রয়েছে। এমন একটি ধারণাও ছিল যে, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ শুধু উগ্রপন্থি ইসলামী সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ বা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ। এখন দেখা যাচ্ছে, জঙ্গিদের দৃশ্যমান সাংগঠনিক তৎপরতা নেই এমন দেশেও হামলা হচ্ছে। কিছু দিন আগে নিউজিল্যান্ডে হামলা হয়েছে। সেখানকার হামলাকারী খ্রিস্টীয় উগ্রপন্থি। শ্রীলঙ্কার মুসলিম প্রধান দেশ না হলেও সেখানে ইসলামিক উগ্রপন্থার প্রসার ঘটছে। সেখানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য উগ্র ইসলামী সংগঠনকেই দায়ী করা হচ্ছে। কাজেই জঙ্গিবাদ দমনে আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলা জরুরি।

দৈনিক সংবাদ : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

শিশুশ্রম : শ্রম আর ঘামে শৈশব যেন চুরি না হয়

মডেল মসজিদ প্রসঙ্গে

ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র

পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধে বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে

উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ

পাহাড়-বন কেটে আবার কেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে মাদক নির্মূল করা যাবে না

গ্যাং কালচার থেকে শিশু-কিশোরদের ফেরাতে হবে

নিরাপদ খাদ্য প্রসঙ্গে

বস্তিতে আগুন : পুনরাবৃত্তি রোধে চাই বিদ্যুৎ-গ্যাসের বৈধ সংযোগ

নদী দূষণ বন্ধে চাই জোরালো উদ্যোগ

উদাসীন হলে চড়া মূল্য দিতে হবে

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার বিহিত করুন

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কোন কারণে

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে নিন

টিকা দেয়ার পরিকল্পনায় গলদ থাকলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হবে না

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর মিছিলে ওয়াসা

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ : স্বাস্থ্যবিধিতে ছাড় নয়

জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীর মুক্তি মিলবে কবে

বাজেট : প্রাণ আর পেটের দায় মেটানোর অভিলাষ কি পূরণ হবে

মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি

গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

গ্যাসকূপ খননে বাপেক্স কেন নয়

বরাদ্দ ব্যয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্প : সতর্ক থাকতে হবে

অনলাইন ব্যবসায় প্রতারণা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

কার স্বার্থে বারবার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে

মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়কেই রক্ষা করতে হবে

উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক

করোনার পরীক্ষায় প্রতারণা প্রসঙ্গে

এখনও ডায়রিয়ায় ভুগছে মানুষ প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

সীমান্তে শিথিল স্বাস্থ্যবিধি কঠোর হোন

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন করুন

পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অমানবিক

tab

সম্পাদকীয়

জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্য গড়ে তুলুন

সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা টেলিগ্রাম নামক একটি মেসেজিং অ্যাপে এ সংক্রান্ত একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বোমা হামলার পর আইএসের এ ধরনের বার্তায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে গুলশান হামলার ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই অভিযোগের ভিত্তি পায়নি।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশে এখনও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত শুক্রবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ লেগেই আছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় দেশ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের শিকার হয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় সরকার সতর্ক আছে একথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা যাবে না। জঙ্গিবাদ দমনে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, জনমত সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে আইএস আছে কিনা সেটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তবে দেশে যে জঙ্গিবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর অপতৎপরতা অব্যাহত আছে সেটা নিয়ে তর্ক নেই। অব্যাহত পুলিশি অভিযানে তাদের দমিয়ে রাখা গেলেও নির্মূল করা যায়নি। জঙ্গিবাদকে পরাস্ত করতে গণঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। বিষয়টি সরকারও স্বীকার করেছে। আমরা চাই, সরকার অবিলম্বে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে। মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করে তুলতে হবে। জঙ্গিবাদী আদর্শকে পরাস্ত করা না গেলে জঙ্গিবাদ নতুন রূপে আবির্ভূত হতে পারে। জঙ্গিবাদী আদর্শকে পরাস্ত করা যায়নি বলেই বাংলা ভাইদের ফাঁসির পরও গুলশান হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কারণ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ইতোমধ্যে আঞ্চলিক জোট গড়ে তুলেছে বলে অবস্থাদৃষ্ট প্রতীয়মান হয়। কাজেই তাদের পররাস্ত করতে হলে রাষ্ট্রগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সারা বিশ্বেই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠীর দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই এমন দেশগুলো এক সময় নিরাপদ মনে করা হতো। ধারণা করা হতো, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দেশগুলোই শুধু জঙ্গি হামলার হুমকির মুখে রয়েছে। এমন একটি ধারণাও ছিল যে, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ শুধু উগ্রপন্থি ইসলামী সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ বা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ। এখন দেখা যাচ্ছে, জঙ্গিদের দৃশ্যমান সাংগঠনিক তৎপরতা নেই এমন দেশেও হামলা হচ্ছে। কিছু দিন আগে নিউজিল্যান্ডে হামলা হয়েছে। সেখানকার হামলাকারী খ্রিস্টীয় উগ্রপন্থি। শ্রীলঙ্কার মুসলিম প্রধান দেশ না হলেও সেখানে ইসলামিক উগ্রপন্থার প্রসার ঘটছে। সেখানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য উগ্র ইসলামী সংগঠনকেই দায়ী করা হচ্ছে। কাজেই জঙ্গিবাদ দমনে আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলা জরুরি।

দৈনিক সংবাদ : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

back to top