alt

উপ-সম্পাদকীয়

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স

এম আর খায়রুল উমাম

: সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে। দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার জোর কার্যক্রম চলছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের জন্য শুদ্ধাচার অনুসরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যক্তি বিশেষকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এত কিছু করার পরও দেশ ও জাতি দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারছে না। দিনে দিনে দুর্নীতির করাল গ্রাসে ডুবে যাচ্ছে। এখানে সাধারণ জনগণের বিবেচনার সঙ্গে সরকারের বিবেচনা একই অবস্থানে আছে বলে মনে হয় না। সাধারণ জনগণের বিবেচনায় যা দুর্নীতি তা সরকারি বিবেচনায় দুর্নীতি কিনা সে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি ভাষ্যে দুর্নীতির সংজ্ঞা প্রকাশ্যে এলে সাধারণ জনগণের বুঝতে সহজ হয়ে যেত। সারাদেশে দুর্নীতি দুর্নীতি করে আজ যে চিৎকার চলছে তা থেমে যেতে পারত। মানুষ নতুন ভাবনার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়ায় উদ্যোগী হতো।

দেশের সাধারণ জনগণ খুব ভালো করেই জানে সর্বত্র জনবল সংকটে ধুঁকে ধুঁকে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী নেই। এক একজন দুটা-পাঁচটা করে মন্ত্রণালয় সামাল দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়গুলো কর্মচারী সংকটে আছে বলে সাধারণ মানুষের প্রেরিত কোন চিঠি জবাব পায় না। সব সময় রেডি রেফারেন্স নিয়ে চিঠির খোঁজ করতে হয়। অধিদপ্তর-পরিদপ্তরগুলোরও একই অবস্থা। কোথায় কি হচ্ছে তার সঠিক খোঁজ তারা রাখতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনরাত পরিশ্রম করেও জনবল সংকটে জনসেবা করতে পারছে না। একদিকের নালা বন্ধ করতে গেলে অন্যদিকে সমুদ্র হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন-পৌরসভাগুলো অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকে জনবল কম থাকায় লুটপাট, জালিয়াতি দিনে দিনে বাড়ছে। হাসপাতালের জনবল সংকটে সেবা সোনার হরিণ। কারিগরি কর্মক্ষেত্রে জনবল সংকটে নির্মাণের জীবনকাল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস-টেলিফোন ইত্যাদির সেবা ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল অবস্থা’। কৃষি-শিল্প জনবল সংকটে বেহাল। শিক্ষায় জনবল সংকটে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। রাজস্ব বোর্ড জনবল সংকটে, জেলা প্রশাসন জনবল সংকটে, ভূমি প্রশাসন জনবল সংকটে। এভাবে যদি জনবল সংকটের খোঁজ করা যায় তবে দেশের একটা জায়গাও পাওয়া যাবে না যেখানে সংকট নেই। এই সংকটের ফলে দেশের সর্বত্র সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সরকারকেই অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে কোনটা অরাজকতা আর কোনটা নয়। তাহলেই সাধারণ জনগণের মনের কষ্ট দূর হবে।

জনবল সংকটের ফলে দেশ ও জাতি বিশাল ক্ষতির মুখে। সর্বক্ষণ এবং সর্বত্র ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সাধারণ জনগণের সামনে আসছে। জনগণ শুনছে বর্তমান সরকার ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও চলছে পুরাতনী গান,-“বিএনপি সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ করে গেছে এবং বাংলাদেশ এখন তার ফল ভোগ করছে।’ ‘বিএনপি রোপিত বিষবৃক্ষ আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে’-যদি ধরেও নেই কথাটি সবৌব্ব সত্য তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায় এই ১০ বছর তার পরিচর্যা করল কে? ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি, না বর্তমান সরকার? বর্তমান সরকারের নিশ্চয়ই একটা দায়িত্ব আছে পূর্বের সরকারের রোপিত বৃক্ষের পরিচর্যা করার। যেমন যে কোন সরকারের দায়িত্ব জাতির জনকের চোরের খনি আর চাটার দলের পরিচর্চা করে তাদের উত্তরোত্তর উন্নতির পথ পরিষ্কার রাখা। আমাদের বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতিক সংস্কৃতির ধারায় বিএনপির বিষবৃক্ষ বর্তমান সরকারের আমলে লালনপালন করা হবে তা আশা করা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যক্তির আদর্শ পরিবর্তনের জন্য এক গুচ্ছ ফুলই যথেষ্ট। ফুলের সৌরভে পরিবর্তন হওয়া আদর্শ অন্তরের আদর্শকে চাপা দিয়ে রাখে মাত্র। সুযোগ পেলেই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সে কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বহিরাগত হিসেবে পৃথকীকরণ, দল থেকে বহিষ্কার, শাস্তির হুমকি চলমান। এসবের ফলে সংকট যে বিন্দুমাত্র কমেছে তা সাধারণ জনগণ দেখতে পায় না। বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যক্তি, নতুন নতুন কৌশল দেখা যাচ্ছে।

জনবল সংকটের কারণ নতুন নতুন ব্যক্তির নতুন নতুন কৌশলের প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে নজর দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সির নাকের ডগার ঘটনাও নজরে পড়ছে না। সবক্ষেত্রেই একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে মতাদর্শগত মিল। এই দুয়ের মিলনে সবকিছু এককার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক কুমিরের বাচ্চা দেখছে আর বিশাল বিশাল ঋণ দিয়ে যাচ্ছে যা সময়ের ব্যবধানে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। জালিয়াতি হয়েছে বলে ধরা পড়ছে। আমদানি-রপ্তানিতে কালো বিড়ালের লাফালাফি চলছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সম্রাটদের ক্যাসিনো বাণিজ্য বা পাপিয়াদের ব্যবসার কোন খোঁজ যেমন বছরের পর বছর দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানতে পারে না ঠিক তেমন বিডিআর হত্যাকা- বা হলিআর্টিজেনের কোনো খবরও অগ্রীম তারা জানতে পারে না। আসলে ১০ জনের কাজ একজন করতে গিয়ে সবদিকে নজর রাখা সম্ভব হয় না। এই সুযোগকে চরমভাবে কিছু মানুষ ব্যবহার করছে। দেশ এখন উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার দৌড়ে আছে। তাই প্রায় সর্বত্র ১ টাকার পণ্য ১০০ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব হচ্ছে। অনুমোদন হচ্ছে, ক্রয় করা হচ্ছে এবং এসব আলোচনায় আসলে তদন্ত কমিটি করে সামাল দেয়া হচ্ছে। বিচিত্র সব বিষয়ের অনুমোদন নিয়ে বিদেশ সফর চলছে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের কাতারে যেতে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য সস্তায় কোন পণ্য ক্রয় বা প্রকল্প তৈরি করলে সম্মান থাকে না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিবেদিত বহুমূল্য ক্রয় আর প্রকল্প তৈরির কাজে আর পি কে হালদার গংরা এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটে নিয়ে সপরিবারে বিমানে উঠে কানাডায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে দেয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘুম থেকে উঠে দেখে পাখি উড়ে গিয়েছে। হম্বিতম্বি শুরু করে দেয় ‘লড়কে লেঙ্গে...’

শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট নাটকে হ্যামলেট যখন তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে মাকে মারতে গিয়েছিলেন, তখন হ্যামলেটের মা বলেছিলেন, ‘Don’t be cruel my child, only to be kind’। প্রত্যুত্তরে হ্যামলেট বলেছিলেন ‘I must be cruel’ আমাদের জনকল্যাণের সরকারগুলো হ্যামলেটের প্রত্যুত্তর শোনেনি তারা মা’র কথাটাই শুনেছে। তাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি দয়া করতে গিয়ে প্যানেল কোডে করে রেখেছে ‘সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোন অপরাধ নয়।’ তবে এখানে শর্ত আছে সরল বিশ্বাসটা যেন উইথ কেয়ার অ্যান্ড কসাস হয়। সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরল বিশ্বাসের ‘উইথ কেয়ার অ্যান্ড কসাস’ শব্দটিকে মাথায় নিয়ে কার্যক্রম করে চলেছে। তার ওপর আছে ‘সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮’ এক যুগ সময় নিয়ে যা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন হয়েছে, তা সার্বিক বিচারে দায়িত্বপ্রাপ্তদের রক্ষা কবচ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। সেখানে মতাদর্শগত মিল হলেই ছুটে চলার গতি রোধ করার মতো ক্রুয়েল হওয়ার সুযোগ সীমিত। প্রজাতন্ত্রের মালিকদের যে কোন সময় যে কোন একটা কারণে গ্রেপ্তার করা গেলেও এদের তা করা যায় না। বাকি দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে পড়ে থাকে জনপ্রতিনিধিরা। এরা যতক্ষণ ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থাকে ততক্ষণ অপ্রতিরোধ্য। সর্বপ্রকার কাইন্ডের মধ্যে বসবাস করে। ক্ষমতার বাইরে এলেই ক্রুয়েলের মধ্যে পড়ে যায়।

শুদ্ধাচার চর্চা করে, পুরস্কৃত করে কোন লাভ হয়েছে এমনটা সাধারণ মানুষ খুঁজে পায় না। আজ মন্ত্রী যে প্রজেক্টের সমালোচনা করছেন, কাল সে প্রজেক্টের বিভাগীয় প্রধান শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন

দেশের জনগণ একটা বানী পেয়েছে ‘জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসেব দিতে বাঁধা নেই’। বাণীপ্রদানকারী জনগণকে নিজের হিসেবটা দিয়ে বাণী দিলে অন্যরা উৎসাহিত হতে পারত। এতে করে দেশের জনগণ জানতে পারত একজনের বার্ষিক আয় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর কীভাবে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি বা ১০ কোটি হয়ে যায়। এই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার রহস্র জানা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স দেখাতে কাইন্ড না ক্রুয়েল হতে হবে তা পরিষ্কার করার জন্য জনগণের দায়িত্ব গ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। শুধু বাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তিক্ত হয়ে উঠবে পরিবেশ। কিছুদিন আগের এক বাণীতে দেখা গিয়েছিল সেকেন্ড হোমের মালিক সরকারি কর্মচারীরাই বেশি। যদিও কাজটি বেশ কঠিন বলে দীর্ঘদিনেও এই সেকেন্ড হোমের তালিকা পূর্ণতা পায়নি। যদিও করোনাকাল এবং জনবল সংকটের কারণে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণকারী জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের খোঁজে সেকেন্ড হোমে গমন জনগণ দেখছে। সেকেন্ড হোমের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে আনা হলেই কমবেশি কারা তা জানা যেত। তাই ‘দূতাবাসেও জনবল সংকট, রুটিন কাজ করার জনবল নেই, নতুন কাজ কখন করবে?’-এই বাণীর মধ্যেই ঘোরাঘুরি করছে দুর্নীতির জিরো টলারেন্স।

সরকার মাদককে জিরো টলারেন্স হিসেবে গ্রহণ করে দেশব্যাপী ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মিডিয়া সাক্ষী প্রতিদিন অভিযান চলছে। মাদক উদ্ধার হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে, বন্দুকযুদ্ধে মারাও যাচ্ছে। তবে পথে প্রান্তরের এসব অভিযান এখনও প্রাসাদে উঠতে পারেনি। জনবল সংকট, মতাদর্শগত মিল, না কৌশলগত কারণে অভিযানগুলো প্রাসাদের দরজায় দাঁড়াচ্ছে না তা বলতে পারব না। তবে এই টলারেন্সের সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের দারুণ মিল লক্ষণীয়। এখানেও প্রাসাদের দরজায় দাঁড়ানো হচ্ছে না প্রবেশ তো অনেক পরের কথা। তবে মিলের পাশাপাশি অমিলও আছে। প্রায় প্রতিদিনই মিডিয়ায় দেখা যায় মাদক উদ্ধারের খবরের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায় কিন্তু তা ব্যবহারের সংবাদ থাকে না। উভয়পক্ষই নীরব থাকে। মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা জানে তাদের জীবন বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসবে না। নিজেদের লড়াই করে বাঁচতে হবে। কিন্তু দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের রক্ষার জন্য প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অনেককেই পাওয়া যায়। তবে মাদকের মতো জিরো টলারেন্স যদি দুর্নীতিতে ব্যবহৃত হতো তাহলে দেশ ও জাতির কল্যাণ হতো কিনা দেখার বিষয়। যদিও এখানে সবই প্রায় জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট তাই মানবাধিকারের প্রশ্নটা খুব জোরেশোরে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের জন্য ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ করেছেন। দুর্নীতির জিরো টলারেন্সের জন্য ‘সেকেন্ড হোম প্রকল্প’ করতে পারেন। শুদ্ধাচার চর্চা করে, পুরস্কৃত করে কোন লাভ হয়েছে এমনটা সাধারণ মানুষ খুঁজে পায় না। আজ মন্ত্রী যে প্রজেক্টের সমালোচনা করছেন, কাল সে প্রজেক্টের বিভাগীয় প্রধান শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন। সরকার যেখানে শুদ্ধাচার চর্চার ব্যবস্থা করেছেন সেখানে একজনকে তো পুরস্কার দিতেই হবে। তাই মতাদর্শের মিল খুঁজে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্নীতির জিরো টলারেন্স সফল করতে ‘সেকেন্ড হোম প্রকল্প’ করে পুরস্কারের উদ্যোগ নিয়ে তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। এখন ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের সেকেন্ড হোম খুব আগ্রহের জায়গা। সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করে এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক; সাবেক সভাপতি, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)]

khairulumam1950@gmail.com

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

ছবি

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

হাঁস-মুরগির রোগ ও চিকিৎসা

ছবি

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মহামারীকালে মানসিক স্বাস্থ্য

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তুতি

ছবি

টিকা বিভ্রান্তি ও রাজনীতি

আফগানিস্তানে তালেবান ও বাংলাদেশে এর প্রভাব

মহামারী, প্রতারণার ফাঁদ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যুদ্ধ

নেতিবাচক খবরের প্রাধান্য

ই কমার্স : আমাদের ভরসা যেন কাচের দেয়াল

স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীদের আচরণগত প্রতিক্রিয়া ও প্রতিকার

ভারতে পুলিশের সফট টার্গেট মুসলমান

শেয়ারবাজারে আস্থা যেন অনাস্থায় পরিণত না হয়

মেডিকেল বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, দায় কার?

ছবি

মেট্রোরেল : রূপকথা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা

ছবি

মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ার কারিগর

ছবি

কৃষি-উদ্যোক্তা হতে করণীয়

ছবি

খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে

tab

উপ-সম্পাদকীয়

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স

এম আর খায়রুল উমাম

সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে। দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার জোর কার্যক্রম চলছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের জন্য শুদ্ধাচার অনুসরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যক্তি বিশেষকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এত কিছু করার পরও দেশ ও জাতি দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারছে না। দিনে দিনে দুর্নীতির করাল গ্রাসে ডুবে যাচ্ছে। এখানে সাধারণ জনগণের বিবেচনার সঙ্গে সরকারের বিবেচনা একই অবস্থানে আছে বলে মনে হয় না। সাধারণ জনগণের বিবেচনায় যা দুর্নীতি তা সরকারি বিবেচনায় দুর্নীতি কিনা সে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি ভাষ্যে দুর্নীতির সংজ্ঞা প্রকাশ্যে এলে সাধারণ জনগণের বুঝতে সহজ হয়ে যেত। সারাদেশে দুর্নীতি দুর্নীতি করে আজ যে চিৎকার চলছে তা থেমে যেতে পারত। মানুষ নতুন ভাবনার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়ায় উদ্যোগী হতো।

দেশের সাধারণ জনগণ খুব ভালো করেই জানে সর্বত্র জনবল সংকটে ধুঁকে ধুঁকে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী নেই। এক একজন দুটা-পাঁচটা করে মন্ত্রণালয় সামাল দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়গুলো কর্মচারী সংকটে আছে বলে সাধারণ মানুষের প্রেরিত কোন চিঠি জবাব পায় না। সব সময় রেডি রেফারেন্স নিয়ে চিঠির খোঁজ করতে হয়। অধিদপ্তর-পরিদপ্তরগুলোরও একই অবস্থা। কোথায় কি হচ্ছে তার সঠিক খোঁজ তারা রাখতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনরাত পরিশ্রম করেও জনবল সংকটে জনসেবা করতে পারছে না। একদিকের নালা বন্ধ করতে গেলে অন্যদিকে সমুদ্র হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন-পৌরসভাগুলো অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকে জনবল কম থাকায় লুটপাট, জালিয়াতি দিনে দিনে বাড়ছে। হাসপাতালের জনবল সংকটে সেবা সোনার হরিণ। কারিগরি কর্মক্ষেত্রে জনবল সংকটে নির্মাণের জীবনকাল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস-টেলিফোন ইত্যাদির সেবা ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল অবস্থা’। কৃষি-শিল্প জনবল সংকটে বেহাল। শিক্ষায় জনবল সংকটে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। রাজস্ব বোর্ড জনবল সংকটে, জেলা প্রশাসন জনবল সংকটে, ভূমি প্রশাসন জনবল সংকটে। এভাবে যদি জনবল সংকটের খোঁজ করা যায় তবে দেশের একটা জায়গাও পাওয়া যাবে না যেখানে সংকট নেই। এই সংকটের ফলে দেশের সর্বত্র সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সরকারকেই অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে কোনটা অরাজকতা আর কোনটা নয়। তাহলেই সাধারণ জনগণের মনের কষ্ট দূর হবে।

জনবল সংকটের ফলে দেশ ও জাতি বিশাল ক্ষতির মুখে। সর্বক্ষণ এবং সর্বত্র ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সাধারণ জনগণের সামনে আসছে। জনগণ শুনছে বর্তমান সরকার ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও চলছে পুরাতনী গান,-“বিএনপি সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ করে গেছে এবং বাংলাদেশ এখন তার ফল ভোগ করছে।’ ‘বিএনপি রোপিত বিষবৃক্ষ আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে’-যদি ধরেও নেই কথাটি সবৌব্ব সত্য তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায় এই ১০ বছর তার পরিচর্যা করল কে? ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি, না বর্তমান সরকার? বর্তমান সরকারের নিশ্চয়ই একটা দায়িত্ব আছে পূর্বের সরকারের রোপিত বৃক্ষের পরিচর্যা করার। যেমন যে কোন সরকারের দায়িত্ব জাতির জনকের চোরের খনি আর চাটার দলের পরিচর্চা করে তাদের উত্তরোত্তর উন্নতির পথ পরিষ্কার রাখা। আমাদের বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতিক সংস্কৃতির ধারায় বিএনপির বিষবৃক্ষ বর্তমান সরকারের আমলে লালনপালন করা হবে তা আশা করা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যক্তির আদর্শ পরিবর্তনের জন্য এক গুচ্ছ ফুলই যথেষ্ট। ফুলের সৌরভে পরিবর্তন হওয়া আদর্শ অন্তরের আদর্শকে চাপা দিয়ে রাখে মাত্র। সুযোগ পেলেই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সে কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বহিরাগত হিসেবে পৃথকীকরণ, দল থেকে বহিষ্কার, শাস্তির হুমকি চলমান। এসবের ফলে সংকট যে বিন্দুমাত্র কমেছে তা সাধারণ জনগণ দেখতে পায় না। বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যক্তি, নতুন নতুন কৌশল দেখা যাচ্ছে।

জনবল সংকটের কারণ নতুন নতুন ব্যক্তির নতুন নতুন কৌশলের প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে নজর দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সির নাকের ডগার ঘটনাও নজরে পড়ছে না। সবক্ষেত্রেই একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে মতাদর্শগত মিল। এই দুয়ের মিলনে সবকিছু এককার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক কুমিরের বাচ্চা দেখছে আর বিশাল বিশাল ঋণ দিয়ে যাচ্ছে যা সময়ের ব্যবধানে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। জালিয়াতি হয়েছে বলে ধরা পড়ছে। আমদানি-রপ্তানিতে কালো বিড়ালের লাফালাফি চলছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সম্রাটদের ক্যাসিনো বাণিজ্য বা পাপিয়াদের ব্যবসার কোন খোঁজ যেমন বছরের পর বছর দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানতে পারে না ঠিক তেমন বিডিআর হত্যাকা- বা হলিআর্টিজেনের কোনো খবরও অগ্রীম তারা জানতে পারে না। আসলে ১০ জনের কাজ একজন করতে গিয়ে সবদিকে নজর রাখা সম্ভব হয় না। এই সুযোগকে চরমভাবে কিছু মানুষ ব্যবহার করছে। দেশ এখন উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার দৌড়ে আছে। তাই প্রায় সর্বত্র ১ টাকার পণ্য ১০০ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব হচ্ছে। অনুমোদন হচ্ছে, ক্রয় করা হচ্ছে এবং এসব আলোচনায় আসলে তদন্ত কমিটি করে সামাল দেয়া হচ্ছে। বিচিত্র সব বিষয়ের অনুমোদন নিয়ে বিদেশ সফর চলছে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের কাতারে যেতে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য সস্তায় কোন পণ্য ক্রয় বা প্রকল্প তৈরি করলে সম্মান থাকে না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিবেদিত বহুমূল্য ক্রয় আর প্রকল্প তৈরির কাজে আর পি কে হালদার গংরা এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটে নিয়ে সপরিবারে বিমানে উঠে কানাডায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে দেয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘুম থেকে উঠে দেখে পাখি উড়ে গিয়েছে। হম্বিতম্বি শুরু করে দেয় ‘লড়কে লেঙ্গে...’

শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট নাটকে হ্যামলেট যখন তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে মাকে মারতে গিয়েছিলেন, তখন হ্যামলেটের মা বলেছিলেন, ‘Don’t be cruel my child, only to be kind’। প্রত্যুত্তরে হ্যামলেট বলেছিলেন ‘I must be cruel’ আমাদের জনকল্যাণের সরকারগুলো হ্যামলেটের প্রত্যুত্তর শোনেনি তারা মা’র কথাটাই শুনেছে। তাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি দয়া করতে গিয়ে প্যানেল কোডে করে রেখেছে ‘সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোন অপরাধ নয়।’ তবে এখানে শর্ত আছে সরল বিশ্বাসটা যেন উইথ কেয়ার অ্যান্ড কসাস হয়। সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরল বিশ্বাসের ‘উইথ কেয়ার অ্যান্ড কসাস’ শব্দটিকে মাথায় নিয়ে কার্যক্রম করে চলেছে। তার ওপর আছে ‘সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮’ এক যুগ সময় নিয়ে যা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন হয়েছে, তা সার্বিক বিচারে দায়িত্বপ্রাপ্তদের রক্ষা কবচ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। সেখানে মতাদর্শগত মিল হলেই ছুটে চলার গতি রোধ করার মতো ক্রুয়েল হওয়ার সুযোগ সীমিত। প্রজাতন্ত্রের মালিকদের যে কোন সময় যে কোন একটা কারণে গ্রেপ্তার করা গেলেও এদের তা করা যায় না। বাকি দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে পড়ে থাকে জনপ্রতিনিধিরা। এরা যতক্ষণ ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থাকে ততক্ষণ অপ্রতিরোধ্য। সর্বপ্রকার কাইন্ডের মধ্যে বসবাস করে। ক্ষমতার বাইরে এলেই ক্রুয়েলের মধ্যে পড়ে যায়।

শুদ্ধাচার চর্চা করে, পুরস্কৃত করে কোন লাভ হয়েছে এমনটা সাধারণ মানুষ খুঁজে পায় না। আজ মন্ত্রী যে প্রজেক্টের সমালোচনা করছেন, কাল সে প্রজেক্টের বিভাগীয় প্রধান শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন

দেশের জনগণ একটা বানী পেয়েছে ‘জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসেব দিতে বাঁধা নেই’। বাণীপ্রদানকারী জনগণকে নিজের হিসেবটা দিয়ে বাণী দিলে অন্যরা উৎসাহিত হতে পারত। এতে করে দেশের জনগণ জানতে পারত একজনের বার্ষিক আয় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর কীভাবে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি বা ১০ কোটি হয়ে যায়। এই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার রহস্র জানা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স দেখাতে কাইন্ড না ক্রুয়েল হতে হবে তা পরিষ্কার করার জন্য জনগণের দায়িত্ব গ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। শুধু বাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তিক্ত হয়ে উঠবে পরিবেশ। কিছুদিন আগের এক বাণীতে দেখা গিয়েছিল সেকেন্ড হোমের মালিক সরকারি কর্মচারীরাই বেশি। যদিও কাজটি বেশ কঠিন বলে দীর্ঘদিনেও এই সেকেন্ড হোমের তালিকা পূর্ণতা পায়নি। যদিও করোনাকাল এবং জনবল সংকটের কারণে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণকারী জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের খোঁজে সেকেন্ড হোমে গমন জনগণ দেখছে। সেকেন্ড হোমের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে আনা হলেই কমবেশি কারা তা জানা যেত। তাই ‘দূতাবাসেও জনবল সংকট, রুটিন কাজ করার জনবল নেই, নতুন কাজ কখন করবে?’-এই বাণীর মধ্যেই ঘোরাঘুরি করছে দুর্নীতির জিরো টলারেন্স।

সরকার মাদককে জিরো টলারেন্স হিসেবে গ্রহণ করে দেশব্যাপী ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মিডিয়া সাক্ষী প্রতিদিন অভিযান চলছে। মাদক উদ্ধার হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে, বন্দুকযুদ্ধে মারাও যাচ্ছে। তবে পথে প্রান্তরের এসব অভিযান এখনও প্রাসাদে উঠতে পারেনি। জনবল সংকট, মতাদর্শগত মিল, না কৌশলগত কারণে অভিযানগুলো প্রাসাদের দরজায় দাঁড়াচ্ছে না তা বলতে পারব না। তবে এই টলারেন্সের সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের দারুণ মিল লক্ষণীয়। এখানেও প্রাসাদের দরজায় দাঁড়ানো হচ্ছে না প্রবেশ তো অনেক পরের কথা। তবে মিলের পাশাপাশি অমিলও আছে। প্রায় প্রতিদিনই মিডিয়ায় দেখা যায় মাদক উদ্ধারের খবরের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায় কিন্তু তা ব্যবহারের সংবাদ থাকে না। উভয়পক্ষই নীরব থাকে। মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা জানে তাদের জীবন বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসবে না। নিজেদের লড়াই করে বাঁচতে হবে। কিন্তু দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের রক্ষার জন্য প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অনেককেই পাওয়া যায়। তবে মাদকের মতো জিরো টলারেন্স যদি দুর্নীতিতে ব্যবহৃত হতো তাহলে দেশ ও জাতির কল্যাণ হতো কিনা দেখার বিষয়। যদিও এখানে সবই প্রায় জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট তাই মানবাধিকারের প্রশ্নটা খুব জোরেশোরে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের জন্য ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ করেছেন। দুর্নীতির জিরো টলারেন্সের জন্য ‘সেকেন্ড হোম প্রকল্প’ করতে পারেন। শুদ্ধাচার চর্চা করে, পুরস্কৃত করে কোন লাভ হয়েছে এমনটা সাধারণ মানুষ খুঁজে পায় না। আজ মন্ত্রী যে প্রজেক্টের সমালোচনা করছেন, কাল সে প্রজেক্টের বিভাগীয় প্রধান শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন। সরকার যেখানে শুদ্ধাচার চর্চার ব্যবস্থা করেছেন সেখানে একজনকে তো পুরস্কার দিতেই হবে। তাই মতাদর্শের মিল খুঁজে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্নীতির জিরো টলারেন্স সফল করতে ‘সেকেন্ড হোম প্রকল্প’ করে পুরস্কারের উদ্যোগ নিয়ে তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। এখন ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের সেকেন্ড হোম খুব আগ্রহের জায়গা। সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করে এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক; সাবেক সভাপতি, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)]

khairulumam1950@gmail.com

back to top