অলীক বিহঙ্গ
মুরগির তরকারিটা একটু ঝালঝাল করতে হবে মনে পড়তেই টেলিফোন সেটটার দিকে হাত বাড়ায় সন্জু। বাসায় ফোন করে বুয়াকে বলতে হবে। ফোনটা ধরতে যেতেই দেখে সেখানে ধুলা জমে আছে; একে একে ঢাকা দেয়া গ্লাস, কম্পিউটার মনিটর, সিপিইউ- সবখানেই ধুলা ধুলা ভাব। এমনিতেই এ অফিসটা একটা ডাম্পিং পোস্টিং, তার উপর সবখানেই কেমন যেন একটা গরিবী ভাব। চেয়ার, টেবিল, আলমারি সব পুরানা ডিজাইন। মোটা, ফুলা বালিশওয়ালা আন অফিসিয়াল লুকের সোফা, বড় স্টিলের কেতলী, দুই হাজার পাঁচের ছোট মনিটর- মনটাকে সবসময় পিছিয়ে রাখে সময়ের চাইতে।
জোরে করে কলিংবেল বাজায়। আমিন ভিতরে ঢোকে কিন্তু ওর উস্কখুস্ক চেহারার দিকে তাকিয়ে কিছু বলা হয় না। ধমক দিয়ে সন্জু জানতে চাইলকী হয়েছে তার। মন খারাপ কেন। সে মাথা নিচু করে জানালো-
স্যার,স্ত্রীর শরীর খারাপ।
স্ত্রীর শরীর খারাপ বলে তোমার মন এতো খারাপ কেন।তোমারও কি শরীর খারাপ?
না স্যার, বউ কান্নাকাটি করতে আছে, ছেলেটারও যতœ নাই। ঘরে রান্নাবাড়ি নাই। মাথা খুব ব্যথা, কিছু খাইতে পারে না। খালি বমি করে।
তুমি না বলে রান্না ভালো পারো, গত সপ্তাহে যখন বৌ বাপের বাড়ি ছিলো তুমি নিজেই তো রান্না করে নিয়ে আসো জানালে।
সত্য স্যার। কিন্তু আমারেও তো বলে নাই তার শরীর এতো খারাপ করছে; জানলে আরো পরে আসতে বলতাম।
সমস্যা কী! ডাক্তার দেখিয়েছো? বাচ্চা কাচা হবে না তো?
সে এবার ভীত চোখে আমার দিকে তাকায়। ‘না না, হলে তো ভালো। এক কষ্টে দুই বাচ্চা মানুষ করে ফেলতে পারবা। কত মানুষ একটা বাচ্চাই পায় না।’
সে ছলছল চোখে আবার তাকায়। ছেলেটার ব্যবহার খুব বিনয়ী। আদব কায়দা, কথাবার্তায় কখনও রুক্ষতা বা কঠিন ভাব দেখা যায় না। সারাক্ষণ হাসিমুখে থাকে, সুন্দরভাবে ভদ্রোচিত পোশাক পরে। প্রথমদিন থেকেই অফিস সহায়ক হিসাবে তাকে পছন্দ হয়েছে সন্জুর।
বিশেষ করে ড্রাইভার যে কয়দিন অনুপস্থিত ছিলো, সন্জু নিজে ড্রাইভ করে এসেছে। আমিন প্রতিদিন নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে প্রায় জোড় করেই কখনও শাহবাগ, কখনও ফার্মগেট পর্যন্ত সন্জুর পাশের সিটে বসে তাকে গাইড করেছে। ঘণ্টাখানেক পরে ফোন করে খবর নিয়েছে বাসায় পৌঁছাতে পেরেছে কিনা।
এইসব বোধ মানুষের মধ্যে ইনবিল্ট। ভিতরে না থাকলে জোর করে ইনস্টল করা যায় না। যার ভালোবাসার অভাব সেই বুঝতে পারে প্রকৃত অনুভব করা কেমন, কাকে বলে। আজকাল সবাই যেমন কথায় কথায় বলে মিস ইউ, ফিল ইউ, আই ও ইউ- এসব শুনে সন্জু হাসতেই থাকে। কারণ আসল ভালোবাসা বা ফিল করাটা বলে দিতে হয় না। আচরণেই বোঝা যায়।
দুপুরে লাঞ্চ কিনে আনতে হয় প্রায়ই। লাঞ্চ এভয়েড করে ওজন কমানোর কৌশলটা ফেইল করে কারণ দুপুরে কিছু না খেলে চেহারাটাই যেন ফ্যাকাশে হয়ে যায়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। বাইরের রেঁস্তোরার খাবার আসলে হঠাৎ হঠাৎ ভালো লাগে, রেগুলার না। তাই ভাত মাখিয়ে প্রায়ই খাবার শেষ করা যায় না। এটা দেখে আমিন সেদিন খুব আন্তরিকভাবে ঘোষণা দিলো, স্যার আমি আপনার জন্য ভাত, ভর্তা নিয়ে আসবো। বৌ বাপের বাড়ি থাকলে আমি নিজেই পাক-শাক করি। আমার রান্না আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো।
সন্জু কৃত্রিম ধমক দিয়ে বলে, আরে না, কী যে বলো, তুমি কষ্ট করতে যাবে কেন?
না স্যার, সমস্যা নেই, আমার জন্য তো রান্না করতেই হয়; সাথে দু’মুঠ না হয় বেশি আনলাম।
আমি একটু ধমকের সুরে বলে উঠি, ‘আরে তুমি ভাত আনবা কেন’
‘স্যার আনতে পারিনা? আমি তো আপনার সন্তানের মতো’
বিরক্ত হয় এবার সন্জু- ‘কী সব বলো আমিন’।
তো সেই আমিন ভীষণ টেনশনে আক্রান্ত। আমি একটু রিয়ালাইজ করতে চাই এই টেনশনটা ঠিক কী কারণে। বৌ কে কাছে পাচ্ছে না বলে, নাকি বৌ কষ্ট পাচ্ছে বলে, নাকি সংসারে অতিরিক্ত আরেকজন সন্তান আসতে যাচ্ছে রীতিমতো অতিরিক্ত ইনকাম না বাড়িয়েই- সে কারণে।
কেন যেন সন্জুর মনে হলো, আমিন বৌ কে খুব ভালোবাসে বলেই তার শারীরিক কষ্টও আমিনকে বিমর্ষ করে তুলেছে। সন্জু হঠাৎ বিনা কারণেই জোরে একটা ধমক দিয়ে উঠলো,
সেটা যাই হোক, তোমার মন খারাপের কারণেতুমি অফিসের কাজে ফাঁকি দিতে পারো না। সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। আমিন রুমের বাইরে চলে যায়।সন্জু ফিরে যায় দুই হাজার সাত সালের জানুয়ারি মাসে। দুইবার পিরিয়ড ড্রপ হবার কারণে লক্ষ্মীপুরে থাকাকালে শুভমকে না জানিয়েই সকালের প্রথম প্র¯্রাবটা ধরে রেখে অফিসে যাবার সময় দিয়ে যায়।
মফস্বল এলাকা বলে সন্জুকে মোটামুটি সবাই চেনে।খুব লজ্জা লাগলেও উপায় ছিলো না।
রিপোর্ট দেবার দিন শুভমকে বললো, ‘তোমার ড্রাইভারকে দিয়ে এক ফাঁকে আনিয়ে দিবে’
‘কী বেশরমের মতো কথা বলো’
‘তাইলে তুমি যেও’
‘আমার জরুরি কাজ আছে, এসব ফালতু বিষয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমার নেই’
আস্তে করে সন্জু বললো, ‘অফিসে তো আমারও অনেক কাজ!’
সে কথা শুভম শুনলো বলে মনে হলো না। ওয়ারড্রব থেকে ইস্ত্রি করা শার্ট প্যান্ট পরে নিজেই জুতা চকচকে পালিশ করে অফিসের গাড়িতে চড়ে বসলো। ইঞ্জিনটার স্টার্ট নেবার আওয়াজ যেন সন্জুর বুকের ভিতরের উ™£ান্ত হতাশার কান্না। ও ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে চোখের পানিকে আটকে রাখলো।
মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে স্কুলের জন্য রেডি করলো। ঘুম ঘুম চোখে খেলো না, আদর করে বুঝিয়ে খাইয়ে দেবার সময় হবে না। দ্রুত টিফিন বক্সে পাউরুটি-জেলি ভরে দিলো। কাজের মেয়ে, শেফালীকে রেডি হতে বলে দ্রুত কোনমতে কাপড়টা পরে বের হয়ে এলো বাসা থেকে। শেফালী বসে থাকে যতক্ষণ মেয়ের ক্লাস চলে। নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে, একা থাকতে চায় না।
মেয়েকে পায়ের উপর নিয়ে দুজন সিটে চেপে বসলো।
হোসনে আরা মহল নামক বাড়িটা থেকে মাত্র পাঁচমিনিটের পথ। সন্জু এই সময়টুকুও মেয়েকে সংগে রাখতে চায়। ওর স্মৃতির কৌটায় মা’র সাথে স্কুলে যাবার কথাগুলো যেন ভরা থাকে আর নিরাপদ বোধ করে।
মেয়েকে যখন স্কুল ড্রেস পরিয়ে পরিপাটি করে দেয় ঐ সময়টা সন্জুর খুব ভালোলাগার। বিস্কিট কালার শার্ট, কালো স্কার্ট, স্কুলের নাম লেখা মেরুন ছোট টাই, কালো জুতা আর সাদা মোজা।
রিকশা টুংটাং ঘণ্টি বাজিয়ে ছুটে চলে স্কুলের দিকে। শেফালী নিচে নেমে যখন মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে নিচে নামায় তখন যে দৃষ্টিতে মায়ের দিকে সে তাকিয়ে থাকেতা যেন বুকের মধ্যে ছুরি বসিয়ে দেয়। কাঁদতে কাঁদতে সে বাসায় এসে রেডি হয় অফিসে যাবার জন্য। কিন্তু ইউরিনের রিপোর্ট নেয়ার চিন্তাটা আবার অস্বস্তিতে ফেলে।
সন্জু আমিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোন হাজব্যান্ড তার বৌকে এতো ভালোবাসে সে ভাবতেই পারে না।
স্যার, ওয়াইফের খুব কষ্ট হচ্ছে, মাথা ব্যথায় সকালে কান্না করছিলো।
সন্জু একটু বাজিয়ে দেখার মজা নেয়। মানুষকে ভালোবেসে চমকে দেয়ার মতো তৃপ্তি আর কিছুতে নাই।
ও খুব সিরিয়াসভংগীতে বলে ওঠে- বেশ জোরে বলে ওঠে-
এটা এমন কোন বিষয় না। বিকালে বাসায় ফিরে টেস্ট করো। এখন যাও পিএ সাহেবকে ডেকে আনো।
সন্জু চেয়ারের মাথাটা এলিয়ে দেয়। ফিরে যায় আবার সতের বছর আগে ফেনীর ট্রাংক রোডের ডা: মালতীর প্যাথলজিতে। অফিসার্স মেসের একটা পিয়ন ছিলো। তার মেয়ে শিল্পীকে দিয়েছিলো নুরকে দেখাশোনা করার জন্য। মাঝে মাঝে বাসায় আসতো। নামটা মনে পড়ছে না কেন! মানুষের ব্রেন বড় অদ্ভুত। জীবনের এমন একটা মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা যে করে দিলো তারই নাম মনে নেই।
মালতীর টেস্ট ল্যাবে শেষ পর্যন্ত শিল্পীর বাবাকেই পাঠানো হলো। রিপোর্টে প্রেগন্যান্সি পজিটিভ আসলো জেনেও সন্জু বিন্দুমাত্র উত্তেজিত হলোনা। রাতে শুভম ফিরলে তার মধ্যেও কোনো আগ্রহ দেখা গেলো না। গুনে গুনে সাতদিন পরে মেয়েকে আর না বলে থাকতে পারলো না।
জান মা, তোমার একটা আপু হবে।
কে বলল?
আল্লাহ বলেছে।
কী মজা! কবে আসবে?
এই তো আর আট ন’ মাস পরে।
এরপর কন্যা জয়ীই বলে দিলো বাবাকে। তখন অবশ্য বাবার মুখটাতে একটু খুশির ঝলক দেখা গেলো। তারপর আবার পায়রা, মাছ ধরা, টেনিস খেলা নিয়ে মেতে থাকা। আমিনের চিন্তাক্লিষ্ট মুখটা দেখে সন্জু নিজেকে প্রশ্ন করে, স্বামীর ভালোবাসা পেতে বৌদের কেমন হতে হয়। সেই সাথে ওকে চমকে দেবার জন্য একটার পর একটা কাজে পাঠাচ্ছে যাতে সে ভাবে আজ কোনোভাবেই ছুটি নেয়া যাবে না বা বাসায় যাওয়া যাবে না।
সময় যতো গড়াচ্ছে আমিনের মুখটায় ততো বেশি চিন্তার রেখা বসে যাচ্ছে। সন্জু খুব মজা পাচ্ছে। এরই ফাঁকে সে তার ডাক্তার বান্ধবীকে ফোন করে আমিনের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় কনসালটেন্সি দিয়ে দিল।
এক ঘণ্টা পরে আমিনকে ডেকে হাজার টাকার নোটটা যখন ওর হাতে দিলো, প্রতিদিনের মতো জিজ্ঞেস করলো, মাছ না মাংস আনবো স্যার? সন্জু জোরে ধমক দিয়ে বলল, বাসায় গিয়ে বৌকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবে। তারও আগে পরিচিত কোনো প্যাথলজিক্যাল থেকে টেস্ট করাবে।
আমিনের মন খারাপ থাকলে ঠোঁট দুটো সবসময় চেপে রাখে। আর মন ভালো থাকলে দাঁতগুলো ভিতরে থাকতেই চায় না। মোবাইলের রিংয়ের শব্দে চমকে ওঠে সন্জু।
হ্যালো, তুমি কি বাসায় নাকি অফিসে?
অফিসে। কেন?
না, দুষ্টু দুইটা ফোন ধরছে না। ওদের কী অবস্থা।
এই তো ভালো। তোমাদের কোর্স কেমন চলছে?
এই আর কী! ভালো লাগে না। পোলাপানদের ছাড়া এখানে ভালো লাগে না। বার্গার টার্গার খেতে গেলে বাচ্চাদের কথা মনে হয়। বাবু বলে দিয়েছে- ডোনাট নিতে। কীভাবে নিব সেটাই ভাবছি।
‘ডিউটি ফ্রী থেকে নিতে পারো তাইলে আর ঝামেলা হবে না’
এরপর তিনদিন চলে গেলো; সে কেএল থেকে ফিরেছে কিনা জানার আগ্রহ দেখাইনি। এক বিকালে বাবুদের রুমে দেখি একটি প্যাকেট। বুঝে নিলাম তাদের বাবা বিদেশ থেকে এসেছে। ড্রাইভারকে দিয়ে প্যাকেটটা পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রায় একমাস পরে ফিরেও ওদের মুখটা দেখার ইচ্ছে হয় না- এমনই ফিল করে বাচ্চাদের। গত মাসে খুব ভালো রেজাল্ট নিয়ে এসএসসি পাস করলো।
তখনও মন চায়নি ছেলেটার খুশি মুখটা একবার দেখতে। যে বাবা দেড় কি মি এর মধ্যে থেকেও নবজাত সন্তানের মুখ দেখার কোনো আবেগেতাড়িত হয় না তার কাছে এমন চাওয়াটা বাতুলতা মাত্র।
সন্জু যখন পেটে বাচ্চা নিয়ে শারীরিক মানসিক উদ্ভূত সমস্যাগুলোর সাথে একা একাই লড়াই করছে শুভম তখন রেখা নামে খুলনার একজন মেয়ের সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে এবং বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একমাত্র মেয়ের মা শর্ত দিলো এক বউ থাকতে সে ছেলের সাথে তার একমাত্র কন্যার বিয়ে দিবে না।আড়াইমাসের মাথায় সন্জু ডিভোর্স লেটার পেয়ে ঠিক থাকতে পারলো না।
একবার মেয়ের দিকে আরেকবার নবজাতকের দিকে তাকায়। বোনের বাসায় থেকেছে প্রসবকালীন। ভাগ্নেগুলো যখন দুলাভাইকে বাবা বলে ডাকে, দুলাভাই অফিস থেকে ফিরলে দুজন বাঘের বাচ্চার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বাবার উপর, মা বকা দিলে দৌড়ে উঠে যায় বাবার কোলে- এসব দেখে সন্জুর বুকের ভেতর হুহু করে ওঠে। সারাদিন দুষ্টুমি, আপু মানে ওদের মাকে দেখে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে। বাসায় ফিরলে অগণিত কথার ফুলঝুরি ফোটায় বাবার কাছে।
সন্জু উদাস হয়ে দৃশ্যগুলো দেখে; খুব সাবধানে। যেন মনের ছবিটা আবার আপু না বুঝে ফেলে। কেবল টপটপ করে চোখের পানি তখনই গড়িয়ে পড়ে যখন দেখে অফিস থেকে দুলাভাই ফেরার পর জয়ীর সমান ওর কাজিন দুজন যখন বাবাকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যটা জয়ী বুভুক্ষের মতো দেখছে। ওর সাড়ে চার বছরের জীবনে এমন দুঃখী চেহারা সন্জু কোনোদিন দেখেনি।
বেবি হবার রাতে যখন সন্জু জয়ীকে রেখে হসপিটালে গেলো সেদিনও ওর কান্নাটা মনে অতটা ধাক্কা দেয়নি। জয়ী একটানা চিৎকার করছিলো, ‘মা তুমি যেও না, আমাকে নিয়ে যাও মান্নী’ কথাগুলো এখনও কানে বাজে।
ফোনের শব্দে কেঁপে ওঠে। শুভমের ফোন; সগর্বে ঘোষণা দেয়, আগামীকাল শুক্রবার সে তার ছেলেমেয়ে কে নিয়ে শরীয়তপুর যাবে ওদের দাদাবাড়িতে। ওদের যেন সকালে রেডি করে রাখা হয়। বাচ্চা দুইটাকে আম্মি দেখতে চায়- ঈদের পরে তো যাওয়াই হয়নি।
কাল বিকালে জয়ীর কোচিং আছে
একনায়ক শাসকের মতো জ্বলে ওঠে শুভম।
আমার ছেলেমেয়েকে নিয়ে আমি কাল বাড়িতে যাবো। একদিন কোচিং মিস করলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। টাকা চাওয়ার সময় তো ঠিকই নেন, আর আমি কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে কোচিং, ফোচিং কত্ত কী। কাল যদি না যায় আমি ¯্রফে জয়ীর স্কুলের বেতন বন্ধ করে দিবো; আপনিই দিয়েন।
সন্জুর কান জ্বলতে থাকে।প্রচ- ক্ষেপে গেলে শুভম ‘আপনি’ করে বিশ্রি উচ্চারণে কথা বলে আঞ্চলিক টোনে। আস্তে আস্তে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। আমিনকে পাঁচ শ’ টাকা দেবার জন্য পার্সটা খুলতেই হাত কেঁপে ওঠে। নিচে পড়ে যায় পার্সটা। ফ্লোরে খুচরা টাকা, বাচ্চাদের পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভিজিটিং কার্ড সব ছড়িয়ে পড়ে। জয়ীর স্কুলে জমা দেবার জন্য বার্থসার্টিফিকেটের একটা কপি ছোট করে ভাঁজ করে রেখেছিলো। সেটা হাতে তুলে নেয়। আলগোছে ভাঁজ খোলে। সেখানে স্পষ্ট করে, চকচকে কালিতে লেখা জয়ীতা জয়ী, পিতা-আহমেদ রাসেল। শুভমের সাধু নাম।