মায়া
শিহাব শাহরিয়ার
আমি?
তোমার এক ভুলে যাওয়া পাখি
তাই তো আজ- একা একা থাকি
সেই পিরিতে বেঁধেছিলাম এক প্রেমিকার কাঁধ
সেই প্রেমিকার কষ্টজলে ভেসে গেছে অভিমানী বাঁধ
তুমি ছিলে ভুলে যাওয়া দুঃখ মাঠের ছায়া
তুমি ছিলে আবেগভরা বুক পকেটের মায়া...
হারিয়ে গেছি দূর-বাফেলোর দুষ্টু রোদে
ফেলে গেছি কক্ষঘুম- যা দিয়েছো সুদে...
নতুন বছর
হাইকেল হাশমী
আমার এই পৃথিবী সারাটা বছর
সূর্যের চারদিকে ঘোরে
তারপর নতুন বছরের আগমন।
আমরা, এই পৃথিবীতে
বসবাসকারীরা,
নতুন বছর উদযাপন করি-
আনন্দে বাঁশি বাজাই,
নিত্যনতুন গান গাই।
কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি,
বেচারা পৃথিবী,
সারাটা বছর ঘুরে ঘুরেও
তার সূর্য থেকে কত দূরে রয়ে গেল,
কতটা বিচ্ছিন্ন, কতটা একলা।
ঠিক তেমনই তুমি আমার সূর্য,
আমার চিন্তার এই পৃথিবী
প্রতিদিনই প্রদক্ষিণরত তোমার
অক্ষকে কেন্দ্র করে।
আমি জানি,
তুমিও চিরকাল দূরেই থেকে যাবে
আর আমি থাকব নিজে থেকে
বিচ্ছছন্ন, নিঃসঙ্গ।
তবুও তোমাকে জানাই:
শুভ নববর্ষ!
পিতৃচ্ছবি
মুমির সরকার
ম্যানগ্রোভের ঝুরি- চাদর গায়ে
শ্বাস-মূলের লোনা ঘ্রাণ শরীরে,
অতি পরিচিত নিকানো উঠানে
তিনি যখন নেমে আসলেন,
তখন ভর সন্ধ্যার কল্যাণী লগ্ন;
ভারী কাঠের সামন্ত চেয়ারটায়
কিছুটা ঝুঁকে এসেই বসলেন।
কোমল নিষাদে বাঁধা চারপাশ
দেখে বেশ ন্যুজ হয়ে আঁকতে
শুরু করলেন, সেই সব ছবি:
ভোরের নরম আলো নতজানু
হয়ে ঝুঁকে আছে নিচে ডোবায়
কালচে জলে- কচি পাতাদের ঝিলমিল।
কবোষ্ণ ডানায় আলো মেখে
আনতমস্তক ভ্রু-কুঁচকে আর
দুই চক্ষু সরু করে দেখছে তা
দোচালা ঘর-চালের কার্নিশে
যমজ আশ্রয়ে থাকা কবুতর
দম্পত্তি-গিরিবাজ ও গোল্লা।
তিনি এঁকেই চললেন, শরবতী
লেবুর শাদা মখমল ফুলে-ফুলে
ব্যস্ত পর্যটক সব পিঁপড়েদের
সাহসী চলাচল;
ঊর্ধ্বপানে চন্দনারা উড়তেই
নিচে দেখা, মাছরাঙা-ঠোঁটে
খলবলে চাপিলা!
একদা তিনিই ছিলেন পিতা।
এখনও ছোট্ট বুকে সাহস ফুঁ
দিতেই বুঝিবা নিজ গরজেই
নেমে আসেন, দু’চোখে এঁকে
দিয়ে ঠাঁট-ইমন কল্যাণী-এর
লগ্ন পার হলেই ফিরেও চলে
যান ফের অন্ধকারে!
সে নয় ভিন্ন বরং অভিন্ন কোন
এক পিতৃচ্ছবি-একা, সকলের।
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য
অপার অনতিদূরে
বিজয় মরণ পাড়ে’
এখনও তিনিই যে সেই পিতা,
ধরাধামে মোক্ষম রক্ষাকবচ!