আনোয়ার মল্লিক
বাংলা সাহিত্যে তিরিশের যে কাব্য আন্দোলন, তার নেতৃত্বে ছিলেন ইংরেজি সাহিত্য পাঠ করা একঝাঁক মেধাবী তরুণ কবি। এদের মধ্যে প্রধানতম পঞ্চপা-বের পাঁচজন: বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। এঁদের বাইরে আরও দুজন ছিলেন উল্লেখযোগ্য। যেমন, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এবং প্রেমেন্দ্র মিত্র। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েইংরেজি সাহিত্য পাঠ করেছেন। তিরিশোত্তর কবিদের মধ্যেএকমাত্র প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখাপড়া কলেজের গ-ি পার হয় নাই। তারপরও তিনি ছিলেন তিরিশি এই সাহিত্য আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। স্কুল এবং কলেজ জীবনে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ছিলো। এবং দুজনইছিলেন কল্লোল পত্রিকার পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সুতরাং কলকাতা কেন্দ্রিক নবতর এই সাহিত্য যাত্রায়শুরু থেকেইতিনিশামিল হতে পেরেছিলেন। এছাড়াসার্থক ছোটগল্পকারহিসেবে তিনি অনন্য শক্তিমত্তার স্বাক্ষররাখেন।
বাংলা কবিতায় তিরিশেরযে বাঁকবদল, তার মূল লক্ষ্য ছিলো রবীন্দ্র কাব্যের গীতিময় রোমান্টিক ভাবপ্রবণতা থেকে কবিতার বন্ধন মুক্তি; কবিতায় নতুন স্বর, নতুন আঙ্গিক, নতুন ভাব ও ভাবনার উন্মেষ ঘটানো। এবং এর পেছনে অনুপ্রেরণা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আধুনিক পাশ্চাত্যসাহিত্য এবংআরও নির্দিষ্ট করে বলা যায়ইংরেজি কবিতারনতুন চিন্তা ও প্রকরণের সঙ্গে বাংলা কবিতার একটা মেলবন্ধন সৃষ্টি করা। আধুনিক ইংরেজি কাব্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যসমূহকে আত্মস্থ করে তিরিশের কবিগণ বাংলা কবিতাকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। এবং একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, তাঁদের সেই প্রচেষ্টা অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে।
যাদের হাত ধরে ইংরেজি কবিতা আধুনিক যুগে প্রবেশ করে তাদের মধ্যে ডব্লিউবিইয়েটসগুরুত্বপূর্ণ। প্রথম জীবনে রোমান্টিক ঘরানার কবি হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে তাঁর কবিতায় আধুনিক কাব্য আন্দোলনের লক্ষণসমূহ ফুটে ওঠে। যুদ্ধোত্তর হতাশা, সমাজের ভঙ্গুরতা, নাগরিক যন্ত্রণা, বিশ্বাস ভঙ্গ তাঁর কবিতায় প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে, আধুনিক কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতীকবাদকে তিনি কবিতায় মূর্ত করেন।
টি, এস এলিয়টআধুনিকইংরেজি কবিতার অন্যতম প্রাণপুরুষ। আধুনিক কবিতার লক্ষণসমূহ যেমন শহুরে বিচ্ছিন্নতা, সাংস্কৃতিক সংকট, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার দ্বন্দ্ব তাঁর কবিতায় চিত্রিত হয়। এজরা পাউন্ড ছিলেন আধুনিক ইংরেজি কাব্য আন্দোলনের এক মহীরুহ। তিনি কবিতায় নতুন রীতি ও ধারণার জন্ম দেন এবং কবিতায় ইমেজিজম বা চিত্রকল্প বাদ রীতির অবতারণা করেন। বলা যায়, তিনিই চিত্রকল্পবাদ আন্দোলনের মূল প্রবক্তা যা পরবর্তীকালে অন্য কবিগণও অনুসরণ করেন। এছাড়া ডি, এইচ লরেন্স, ডব্লিউ এইচ অডেন প্রমুখ কবি আধুনিক ইংরেজি কবিতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তিরিশের একদল তরুণ কবি যখন কলকাতার কল্লোল পত্রিকাকে ঘিরে বাংলা কবিতায় বিচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আত্মনিবেদন করছেন, তখন জসীম উদ্দীন, যিনি পরবর্তীকালে আমাদের একজন প্রধান কবির মর্যাদায় অভি?িক্ত হন, পাশ্চাত্য আহৃত তিরিশি ফর্মের দিকে কর্ণপাত না করে নিজস্ব কাব্য ভাবনায় পল্লী মানুষের জীবন-আখ্যান রচনা করে চলেছেন। অবশ্য শুধু তিনিই নন, প্রবল প্রতাপশালী কাজী নজরুল ইসলামও নিজস্ব ধারায় কাব্য সাধনা করে গেছেন। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, তিরিশ দশকের বাংলা কাব্য আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিলো ইংরেজি সাহিত্য রুচিতে গড়ে ওঠা একদল তরুণ কবির হাত ধরে। কলকাতার কল্লোল সাহিত্য পত্রিকা (১৯২৩ খ্রি-১৯২৯ খ্রি)-এর পেছনে অন্যতম অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিলো। এছাড়া বুদ্ধদেব বসু এবং অজিত কুমার দত্তের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রগতি নামের সাহিত্য পত্রিকাও (১৯২৭ খ্রি.-১৯৩১ খ্রি.) হয়ে উঠেছিলো তিরিশের তরুণ কবিদের অন্যতম কণ্ঠস্বর। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, ১৯২৪ সালে কল্লোলের পেছনের পাতায় জসীম উদ্দীনের একমাত্র কবর কবিতাটি ছাপা হওয়া ছাড়া তাঁর কাব্যযাত্রায় এই দুটি সাহিত্য পত্রিকা অন্য কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনাই।জসীম উদ্দীন ১৯২৪ সালে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই এ এবং ১৯২৯ সালে একই কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে বিএ পাস করেন। ধারণা করা যায়, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কহীনতা এবং কল্লোল ও প্রগতি পত্রিকা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে তিরিশোত্তর আধুনিক কাব্য আন্দোলনের অভিঘাত তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নাই। যে বছর জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হয় (১৯২৭),ঐ একই বছর প্রকাশিত হয় জসীম উদ্দীনের ‘রাখালি’। ১৯৩০ সালে বুদ্ধদেব বসুর ‘বন্দীর বন্দনা’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে জসীম উদ্দীনের সাড়া জাগানো কাহিনীকাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে,বিদ্যমান দেশীয় ফর্মেই জসীম উদ্দীনের কাব্য ভাবনা বিকশিত হয়েছে।
তবে কবি হিসেবে জসীম উদ্দীনের আত্মপ্রকাশ কুসুমাস্তীর্ণ ছিলোনা। তিনি যখন বাংলা কবিতায় প্রবেশ করেন,তখন একদিকে রবীন্দ্র আলোয় বিমোহিত চারদিক, অন্যদিকে তাঁর প্রভাবকে অস্বীকার করে কবিতার নতুন বাঁকের সন্ধানে নিবেদিত একঝাঁক তরুণ কবির উদ্দীপ্ত কাব্য প্রয়াস।আর মাঝখানে কাজী নজরুলের অবিনাশী বীণার ঝংকারে প্রকম্পিত আকাশ বাতাস।এর মধ্যে কবিতায় আবহমান গ্রামীণ জীবনের সুখ, দুঃখ,হাসি-কান্নার অকৃত্রিম আখ্যান নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই আবির্ভাবের জন্য তাকে যে সংগ্রাম করতে হয়েছে, তার সাক্ষ্য তিনি নিজেই দিয়েছেন : “আমি তখন সবে আই.এ. ক্লাসে উঠিয়াছি। আমার কবিতার রচনারীতি পরিবর্তিত হইয়া গিয়াছে। পূর্বে রবীন্দ্র রচনার পদ্ধতি অবলম্বন করিয়া যাহা লিখিতাম বহু কাগজে তাহা ছাপা হইয়াছে। এমনকি প্রবাসী কাগজে পর্যন্ত আমার লেখা প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু গ্রাম্য জীবন লইয়া গ্রাম্য ভাষায় যখন কবিতা রচনা করিতে আরম্ভ করিলাম, কেহই তাহা পছন্দ করিল না। কাগজের সম্পাদকরা আমার লেখা পাওয়া মাত্র ফেরত পাঠাইয়া দিতেন। সবটুকু হয়তো পড়িয়াও দেখিতেন না। সেইসময় আমার মনে যে দুঃখ হইত,তাহা বর্ণনার অতীত। (নজরুল, ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়)।”
এমনকি দীনেশচন্দ্র সেনকে তাঁর কবিতার খাতা দেখতে দিলে তিনি তা না পড়েইফেরত দিয়েছিলেন। পাঠানোর ছয় মাস পরে ১৯২৫ সালে কল্লোলের পেছনের পাতায় ছাপা হয় তার বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতা। পত্রিকাটির একটি কপি তিনিঅনেকটা ভয়ে ভয়েইদীনেশচন্দ্রের কাছে পাঠান।এরচার পাঁচ দিন পর দীনেশচন্দ্র সেন জসীম উদ্দীনকে এক চিঠিতে লেখেন, “দূরাগত রাখালের বংশীধ্বনির মতো তোমার কবিতা আমার অন্তরকে স্পর্শ করেছে। তোমার কবিতা পড়ে আমি অনেক চোখের জল ফেলেছি।” জসীম উদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ পাঠক প্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। অথচ এই কাব্যগ্রন্থে কবর,রাখাল ছেলে, রাখালী, পল্লী জননী প্রভৃতির মতো কালজয়ী কিছু কবিতা অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এই কাব্যগ্রন্থ গ্রাম বাংলার মানুষের সহজ, সরল জীবন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর বর্ণনায় সমৃদ্ধ। এবং এসব কবিতার ভাষা কোমল, আলংকারিক ও মাধুর্যময়। দীনেশচন্দ্র সেন জসীম উদ্দীনের কবিতা নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন। তাঁর এই প্রবন্ধ পত্রিকায় ছাপা হলে বিভিন্ন পত্রিকা থেকে তাঁর কাছে লেখা চেয়ে অনুরোধ আসতে থাকে। এবং এর মধ্যে একটা বিরল ঘটনা ঘটে যায়।
জসীম উদ্দীনের ছাত্রাবস্থায় তাঁর কবর কবিতা প্রবেশিকা (এসএসসি) ক্লাসের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। ১৯২৯ সালে জসীম উদ্দীনের কালজয়ী কাহিনী কাব্য “নকশী কাঁথার মাঠ” প্রকাশিত হলে প্রথম দিকে পাঠক সমাজে তেমন গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু তৎকালীন বিচিত্রা পত্রিকায় দীনেশচন্দ্র সেন নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে একটি আলোচনা লিখলে চারদিকে প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
নকশী কাঁথার মাঠ পাঠ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বন্ধু মোহনলালকে এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, জসীমউদ্দীনের কবিতার ভাব, ভাষা ও রস সম্পূর্ণ নতুন ধরনের। প্রকৃত কবি হৃদয় এই লেখকের আছে। অতি সহজে যাদের লেখবার শক্তি নাই,এমনতর খাঁটি জিনিস তারা লিখতে পারে না।” অন্যদিকে জসীম উদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ (১৯৩৩) কাব্যগ্রন্থ পাঠ করে কবিগুরু তাকে বলেন, “‘তোমার সোজন বাদিয়ার ঘাট’ অতীব প্রশংসার যোগ্য। এই বই পাঠক সমাজে আদৃত হবে সে বিষয়ে আমার লেশমাত্র সন্দেহ নাই।”
১৯৩০ সালে জসীমউদ্দীনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘বালুচর’ প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রেমের শিহরন এবং বিরহ-বেদনার অনুপম আর্তির হৃদয়গ্রাহী উন্মোচন লক্ষ্য করা যায় এই গ্রন্থের বেশ কিছু কবিতায়। আর একদিন আসিও বন্ধু,কাল সে আসিবে,কাল সে আসিয়াছিল,মুসাফির, প্রতিদান এরকম শৈল্পিক ঐশ্বর্যম-িত কিছু কবিতা রয়েছে এই গ্রন্থে। উপমা,চিত্রকল্প আর কল্পনার অসাধারণ বুননে জসীম উদ্দীনের কাব্যশক্তির সন্ধান মেলে এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায়।
জসীম উদ্দীন তাঁর কালের আধুনিক কাব্য নীরিক্ষায় শামিল না হয়ে নিজস্ব ধারায় কাব্য সাধানা করে গেছেন। সুতারাং তাঁকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করবো? তিনি কি আধুনিক? এ সম্পর্কে দুইজন প্রখ্যাত মনীষীর মূল্যায়ন আমরা দেখতে পারি:
এক. জসীম উদ্দীনের শব্দ ও ছন্দ ব্যবহার সুচিন্তিত। শব্দ ব্যবহারে দেখা যায়, জসীম উদ্দীন কিছু গ্রামীণ ও আঞ্চলিক শব্দ প্রয়োগ করেছেন; কিন্তু ক্রিয়াপদ তাঁর সব সময়ই শালীন, সাধুরীতির।অজস্র দেশজ শব্দ ব্যবহার করে জসীম উদ্দীন আসলে শিক্ষিত বাঙালির- যার নিজের সঙ্গেও গ্রামের যোগ অনবচ্ছিন্ন- তাদের মন পেয়েছেন (আব্দুল মান্নান সৈয়দ)।
দুই. কৌতূহলের বিষয় যে, কবিতার উপকরণ পল্লী জীবন সম্পর্কিত হলেও, জসীম উদ্দীনের ভাষা আদৌ পল্লীমুখী নয়। স্বরবৃত্ত ছন্দনির্ভর কবিতায় যে কথ্য ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত,তাও নাগরিক(আবু হেনা মোস্তফা কামাল)।
জসীম উদ্দীনের কবিতা মূলত আখ্যান ও বর্ণনাধর্মী।পল্লীর মানুষের অকৃত্রিম জীবনভাষ্য তাঁর কবিতায় অত্যন্ত দরদ দিয়ে তিনি তুলে এনেছেন। হয়তো এ-কারণেই তাঁকে পল্লী কবি বলা হয়েছে। কিন্তু এই তকমা তাঁর কবিত্বের সঠিক মূল্যায়ন নয়। তাঁর কবিতার শব্দ চয়ন,উপমা,চিত্রকল্প, প্রতীক ও রূপকের ব্যবহার অত্যন্ত আধুনিক। এছাড়া তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত অলংকার গ্রাম থেকে সংগৃহীত হলেও তার ব্যাখ্যাসূত্র আধুনিক। বলা হয়ে থাকে কালের দিক থেকে মহাযুদ্ধ পরবর্তী এবং ভাবের দিক থেকে রবীন্দ্র প্রভাব মুক্ত, অন্তত মুক্তি পিয়াসী কাব্যই আধুনিক বলে গণ্য। অন্যদিকে আধুনিকতা সম্পর্কে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের উক্তি, আধুনিকতা সময় নিয়ে নয়, মর্জি নিয়ে। এসব বিচারেও জসীম উদ্দীনকে আমরা আধুনিকতার বাইরে রাখতে পারিনা। এই লেখা শেষ করবো কবি আল মাহমুদের একটি উক্তি দিয়ে: “আমাদের কাছে অবাক লাগলেও এবং তাঁকে যেখানে সেখানে “পল্লীকবি” বলে গাল পাড়লেও নাগরিক নৈঃসঙ্গ্য সহ্য করার মতো খাঁটি আরবান মানসিকতা তার মধ্যে ছিল বলেই পরবর্তী ত্রিশ, চল্লিশ এবং পঞ্চাশ দশকের ‘আরবান কবিকুলের’ যূথবদ্ধ গ্রাম্য অবজ্ঞাকে তিনি পাত্তা দেন নি।”