image
রফিক আজাদ (জন্ম : ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১; মৃত্যু : ১২ মার্চ ২০১৬) ও তাঁর সহধর্মিনী দিলারা হাফিজ (এই নিবন্ধের লেখক)

তুমি তো যেতে চাওনি, জীবন

দিলারা হাফিজ

প্রিয় জীবন,

আমি যখন থাকবো না, তোমার মতোই লুকিয়ে যাব গভীর ঘুমের অতল সমুদ্রপাতে।তখন কি তোমার সঙ্গে দেখা হবে আমার? সকল বিরহ-বিষাদের সরোবর পেরিয়ে,শিশিরে ভেজা অনবদ্য কোনো এক সোনারঙ ভোর-সকালে আবারো দেখা হবে আমাদের? যখন শিল্পীর রঙতুলিতে আঁকা অসাধারণ এক সোনালি সূর্য-ওঠা আনন্দময় ভোর রাঙিয়ে দেয় মানুষের মন; সে রকম এক নিসর্গ-প্রাণ সময়ে?তখন তোমার আমার মন চিরন্তনী সঙ্গীতে পাবে কি ছাড়া?

“আমার রাত পোহালো শারদও প্রাতে,

আমার রাত পোহালো,

বাঁশি, বাঁশি, তোমায় দিয়ে যাবো কাহার হাতে?

আমার রাত পোহালো শারদও প্রাতে।”

তখন কি তোমার বুকেও বাজবে সেই সুরধ্বনি। নাকি আগেই বেজেছিলো, আমিই কেবল বুঝতে পারিনি। তোমার কি মনে আছে, ভাঙা ডিম থেকে কীভাবে পিছলে বেরিয়ে আসে অপূর্ব রঙিন কমলার মতো ডিমের কুসুমটি? সেই ভাঙা ডিমের দিকে তাকিয়ে এখনো কি মনে পড়ে তোমার সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে। যার কবিতা একসময় তোমার প্রেরণার উৎস ছিলো। জানোই তো, কাব্য সমালোচকেরা এখনো তোমাকে সুধীন্দ্রীয় ঘরানার কবি বলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ঐ যে, ক্রন্দসী কাব্যের সেই “উটপাখী”কবিতাটির কথাই তো বলছি, “আমার কথা কি শুনতে পাও না তুমি” এই প্রথম পংক্তি থেকে পাঠ শুরু করে বারোটি পংক্তি তুমি চমৎকার আবৃত্তি করে শেষ দুই পংক্তিতে এসে হঠাৎ থেমে যেতে- ধীরে ধীরে ছয় মাত্রার মাত্রাবৃত্তকে টেনে প্রায় অক্ষরবৃত্তের মতো অতি ধীর লয়ে পাঠ করতে। স্বগোক্তির মতো-

“ফাটা ডিমে আর/তা দিয়ে কী ফল / পাবে?

মনস্তাপেও /লাগবে না ওতে / জোড়া।”

আমি পরের আটটি চরণ খুব উৎসাহের সঙ্গে পাঠ করতাম-

“তার চেয়ে আজ আমার যুক্তি মানো,

সিকতাসাগরে সাধের তরণী হও;

মরুদ্বীপের খবর তুমিই জানো,

তুমি তো কখনও বিপদপ্রাজ্ঞ নও।

নব সংসার পাতি গে আবার চলো

যে-কোনও নিভৃত কণ্টকাবৃত বনে।

মিলবে সেখানে অন্তত নোনা জলও,

খসবে খেজুর মাটির আকর্ষণে॥”

তুমি তখন আমার মুখের দিকে এমনভাবে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকতে যে, মনে হতো তুমি বোধ হয় অনিন্দ্য সুন্দর এক ভোরবেলাকার সূর্য দেখছো সবিস্ময়ে। আজ মনে হয়, এই কবিতা তো শুধু অলৌকিক রসাত্মক বাক্য ছিলো না সেদিন, তা ছিলো আমাদের ব্যঞ্জনাময় জীবনকে ঘিরে দুর্দান্ত এক প্রণয়-লাবণ্যের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যের চাষাবাদ। আমরা দু’জনেই ছিলাম আমরণ সেই অমরাবতীর যুযুধান।

আজ এতোকাল বাদে সেই অনিন্দ্য এক ‘সুন্দর’কে আমি দেখে ফেললাম কী করে? একা, একাকী? কেন দু’জনে মিলে দেখা হলো না সেই অপূর্ব সুন্দর এক সকাল?

অমলিন নিসর্গের অসীম উদারতা, যেখানে জড়িয়ে ছিলো হিরন্ময় এক অলৌকিক জ্যোতিধারা, ছিলো মর্ত্যরে মাটিতে ঝরা শেফালির অফুরন্ত বিশুদ্ধতা।

অকস্মাৎ আজ আকাশের জরায়ু ফেটে নানা বর্ণিল ছটায় গোলাকার সূর্য যেন বেরিয়ে পড়েছিলো ডিমের কুসুমের মতো এক। তুমি কি দেখেছিলে এমন দৃশ্য কখনো। দিনাজপুরের জ্যোৎস্না দেখেছো জানি।বিরাট গোলাকার চাঁদ ও মস্ত খোলা আকাশ দেখেছো মানি, পলা ও আধিয়ারদের জীবন-বিন্যাসসহ আরো কত কী দেখেছো তুমিও একা ও একাকী।

মানি, সে প্রতীক্ষা ছিলো আমারই জন্যে। কবিতার শেষে কি চমৎকার করেই না বলেছো। আর আমি বোকার মতো তোমার কবিতার সেই অঙ্গীকারকে বিশ্বাসও করেছিলাম।

“আমাকে তুমি প্রতীক্ষা করতে বোলো

আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকবো অমল বিশ্বাসে,

দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে আমার পায়ে

শিকড় গজাবে-

আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরাবে না”...

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার কথা রাখলে না। আমাকে ফেলেই অনন্ত ঘুমের শিশিরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লে। আমি তো জেগে আছি আজো। আমাকে সঙ্গে নিয়ে আর একটিবারও কি দেখবে না, অমন সোনা ঝরা আকাশ- যা পৃথিবীতে স্বর্গ এনে দিতে পারে আচম্বিতে! আর একটি বারও কি পৃথিবী ফিরে তাকাবে আমার পানে?

না- জানি, তার হাতের সময় ফুরিয়ে এসেছে, কৃষ্ণ পক্ষের সময় এলে জ্যোৎস্না যেমন হারিয়ে যায় অসময়ে।

বলো তো কেন, এভাবে চলে যেতে হলো তোমাকে?

জলে-স্থলের কোথাও হারিয়ে যাবার ঠিকানা পাইনে বলে কি আমরা চলে যাই গভীর ঘুমের অতল সমুদ্রপাতে? জগত সংসারের টানাপোড়নে আমরা কি খুব বেশি ক্লান্ত, ক্লিষ্ট হয়ে পড়ি? সে জন্যে কি অন্য এক “তাঁহার”কাছে ফিরে যেতে এতো তাড়না বোধ করি।নাকি শেষের দিকে জীবন অতিশয় অর্থহীন মনে হয় বলে মহাভারতের ভীষ্মের মতো ‘ইচ্ছে মৃত্যু’কে আমরা ডেকে নিই কাছে?

আমাদের মায়াডোর কেন ছিন্নপত্রের মতো ভেসে যায় এতো অনায়াসে। কে বলবে আমায়, বলো তো!!

কিন্তু তুমি তো যেতে চাওনি।

তখনো ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছিলে আয়েস করে। আমি বাথরুমে। শুতে যাবার আগে মুখে পানির ছিঁটা দিচ্ছিলাম, আর আয়নায় তাকিয়ে মুখের দাগগুলোর হাল দেখছিলাম। প্রতিদিন একটু একটু লক্ষ্য করছিলাম বয়স বেড়ে যাচ্ছে, বয়স বেড়ে যাচ্ছে। অজান্তেই একটি দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস ছুটে এসে দুষ্টু কিশোরীর মতো আয়নায় কুয়াশা ছড়িয়ে দিলো। আমার মুখটা তখন ততোধিক ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে গেলো যেন সময়ের হাতে হাত রেখে।

কী মনে করে যেন সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে বুঝতে পেরেছিলে তোমার বাঁ দিকের পা-টা নড়ছে না, টেনেও যখন তুলতে পারছিলে না, তখনই আর্ত চিৎকারে ‘মুমু’ ‘মুমু’ বলে আমাকে তিনবার ডেকে উঠেছিলে।

এই ডাকটি ছিলো সকল অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে বাঘের সামনে পড়ে যাওয়া মানুষের শেষ আর্তনাদের মতো।আমি দৌঁড়ে এসে ধরতে না ধরতে তোমার পাশে দাঁড়ানো আমাদের গৃহকর্মী মারমা মেয়ে পেঁইছানো তোমাকে ধরে তুলতে চেষ্টা করছিলো। আমাকে কাছে পেয়ে আমার কাঁধে হাত রেখে বেডরুমের দিকে আসতে চাইলে, পাশাপাশি কথা বলার জন্যে অনর্গল চেষ্টা করছো যতো, ততো জড়িয়ে যাচ্ছিলো তোমার কথারা। সেই অসহায় মুহূর্তটিকে আমি ভাষায় আঁকতে পারলাম না, অন্য কেউ পারবে কিনা আমি জানি না।

শব্দের শিল্পী তুমি

একটি শব্দের জন্যে ক্রমাগত তিরিশ বছর একটানা দীর্ঘ কালো রাত পার করেছো নিদ্রাহীন লাল চোখে। ৩০ বছর ব্যয় করে তবু তোমার জানা হয়নি “ভালোবাসা” এর মতো একটি মৌল শব্দে কী হয় তার প্রকৃত অর্থ- সেই কবির মুখ ফুটে বেরুচ্ছে না একটিও কাক্সিক্ষত শব্দ, এ যে কী ভয়ানক মর্মান্তিক অসহায়ত্ব, চোখে না দেখলে ধারণা করা যায় না।

একটা প্রচ- ধাক্কায় মানুষ পড়ে গিয়েও যেমন তার আঘাতের ভয়াবহতাকে অস্বীকার করে উঠে দাঁড়াতে চায়, আমাদের দু’জনেরই তখন সেই অবস্থা। অথচ, দেখো আমাদের দু’জনেরই ঐদিনে ডিনারসহ নিমন্ত্রণ ছিলো বাংলাদেশ ও নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির একটা প্রোগ্রামে। শিল্পকলায়। তুমি যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে। তবু আমি অনুরোধ করে বললাম,

: আমি গাড়ি পাঠিয়ে তোমাকে ডিনারের সময় বাসা থেকে তুলে নেবোক্ষণ, নেপালের বিদায়ী এ্যান্বাসেডর কিন্তু খুব আশা করেছিলেন তুমি যাবে এবং কবিতাও পড়বে।

: না, না আমি আজ বাসায় থাকি। তুমি শাহবাগ থেকে নীরুকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করে এসো।আমার একদম যেতে ইচ্ছে করছে না।

২০১২ সালে নেপালের সাহিত্য-সংস্কৃতি সোসাইটির আমন্ত্রণে যখন কাঠমন্ডু গিয়েছিলাম তাদের রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে, তখনই সেখানকার কবি-সাহিত্যিক এবং বিশেষভাবে এ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে একটা চমৎকার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। যার প্রেক্ষিতে তিনি যাবার আগে ফরমাল অনুষ্ঠান করে “বাংলাদেশ নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি”কে কাগজপত্রে বৈধতা দিয়ে যেতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। অনুষ্ঠানটি ছিলো ২০১৬-এর ১৪ জানুয়ারি। আমরা এই ঘটনার মাস খানেক আগে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছি সন্তানদের প্রবাস শহর টরন্টো থেকে। বিদায়ের দিন পিয়ার্সন এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে অভিন্ন বললো,

: বাবা, আগামী সামারে কিন্তু চলে আসবে। শীত সহ্য করতে পারো না বলে কিন্তু যেতে দিলাম, মনে রেখো বাবা।

: না, না আমি আর আসবো না, বাংলাদেশের গাছ-পালা পথ-ঘাটের ধুলোবালি আমার জন্যে অপেক্ষা করে আছে না? তারা আমাকে হাত নেড়ে ডাকছে। আপাতত, ওদের কাছে কিছুদিন থাকি, পরে দেখা যাবে বাবা।

দেশে ফেরার দু’দিন আগে এইটিন ইয়াঙের বাসায় বসে আড্ডার মুডেই অভিন্নকে ডেকে বললে তুমি,

: বাবা আমার জন্যে যে ব্লু-লেভেল কিনে রেখেছো, যাবার আগে সেটা খেয়ে যাবো না?

: না, বাবা। দু’দিন পরেই তুমি ফ্লাই করবে। এখন সামান্য খেলেই তুমি অসুস্থ হয়ে পড়ো, এতো বড় জার্নি, ধকল নিতে পারবে না তোমার শরীর। বাবা বাদ দাও না এ যাত্রায়।

অভিন্ন পুনরায় বললো,জানোই তো তুমি, আমি তো নিজে কিছু পান করি না বাবা।

তোমার জন্যে তোমার প্রিয় পছন্দের ড্রিঙ্কসগুলো কিনে কিনে জমা করে রাখি। তোমার শরীরটা আর একটু ঠিক হয়ে এলেই খেতে পারবে তুমি।

অভিন্নের মুখে এমন অনিচ্ছুক কথাবার্তা শুনে তোমার মুখটা সেদিন মলিন এক পর্দায় কে যেন ঢেকে দিয়ে গেলো।

তোমার সেই অসহায়, কাতর, করুণ মুখ দেখে আমি নিজেই বাধার লাগাম ছেড়ে দিয়ে অভিন্নকে বললাম,

: বাবা, দাও একটু খেতে, এতোদিন ধরে আশা করে বসে আছে আনন্দ করে খাবে বলে। নিরাশ করো না। তোমার বন্ধু শায়ের, নাভিন এবং শায়েরের শ্বশুরকে ডাকো, ছোটো খাটো একটা আড্ডা হয়ে যাক, আমাদের চলে যাবার আগে।

ব্লু-লেভেলের সোনালি শিশিরে এই শেষবার তুমি ঠোঁট ছোঁয়ালে। এরপর বাংলাদেশে ফিরেও আর পান করোনি। অভ্যেসবশত আড্ডার জন্যে “সাকুরা”য় দু’দিন গিয়েছিলে বটে, তবে হাতে ছিলো ফ্রেশ ওয়াটারের বোতল। তোমার ভক্তরাও খুব অবাক হয়েছিলো, চাইলে তুমি এতোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারো নিজেকে। ভাবাই যায় না।

বলা বাহুল্য যে, তখন তোমার “সাকুরা” যেতেও তেমন মন নেই আর।

সামার এলে আবার সন্তানদের কাছে যাবে বলে জানালে আমাকে। কেননা, সন্তানদের যতœ-আত্তি, ভালোবাসার কলরব ছেড়ে এসে খুব নিঃসঙ্গবোধ করছিলাম দু’জনেই। তোমার সোনালি শিশির পানে ডাক্তারেরও নিষেধ ছিলো। লিভারে তোমার ৬৭% ভাগ চর্বি জমে গেছে। কাজেই একটু খেলেই শরীর খারাপ হয়ে যেতো বলে তুমি নিজেও আগ্রহ কিছুটা হারাচ্ছিলে দিনে দিনে। হয়তো জীবনের প্রতিও নিজের অজান্তেই মায়া কাটাতে শুরু করে দিয়েছিলে কি?

বছর দেড়েক থেকে দিনের বেশিরভাগ সময় শুয়ে কাটাতে। কিছুক্ষণ পর পর উচ্চকণ্ঠে মা-আ-আ-আ... বলে ডেকে উঠতে। অনেক সময়ই রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সেই পাগলা মেহের আলীর কথা মনে পড়তো আমার। বেশ কিছু দিন এই সশব্দ মা ডাক শোনার পরে একদিন খুব আলতো ভঙ্গিতে তোমায় জিজ্ঞেস করেছিলাম।

: মনে পড়ে?

: জীবন,তুমি যখন এভাবে ডেকে ওঠো, তখন তোমার ভেতর অন্তরে কেমন অনুভূত হয়? বলবে তুমি আমায়?

তুমি বলেছিলে,

: তখন ভেতরটা খুব হালকা লাগে, মা ডাকের সঙ্গে সঙ্গে বড় করে শ্বাস নিতে পারি।

ভাবলাম, মায়ে অনুরক্ত সন্তান বুঝি এভাবেই ‘মা’ বলে ডেকে ডেকে হৃদয়ে শান্তি পায়।

বললাম, যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই ডাকো তুমি। তোমার ঈশ্বর, আল্লাহ, খোদা অথবা প্রকৃতি যাই বলি না কেন, সবই তো খুঁজে পেয়েছিলে তুমি, তোমার মা নামক ঈশ্বরে। নিরাকার ঈশ্বরকে তো দেখতে পাইনে আমরা, কল্পনায় তাকে বানাই নিজের মতো করে। কিন্তু জন্মদায়িনী মাকে দেখতে পাই ঈশ্বরের ছায়ারূপে, আকারে-সাকারে।

চূড়ান্ত ঘটনা ঘটবার ঠিক দু’দিন আগে এক স্বপ্ন দেখার কথা বললে তুমি। তোমাদের এক চাচা ছিলেন। তোমরা সকলে তাকে ডাকতে টুপা কাক্কু বলে। ছোটবেলায় সে খুব দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ ছিলো বলে তাকে ভয় পেতে, এমনকি এড়িয়েও চলতে খুব।বহুকাল আগেই গত হয়েছেন তিনি। সেই টুপা কাক্কু কিনা তোমার শয্যা পাশে পায়চারী করছিলেন বার বার। আর তুমিও ছোটবেলাকার মতো ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছিলে। জীবদ্দশায় তাকে দেখে তুমি শিশুকাল থেকে ভয়ও পেতে ভীষণ। এ রকম স্বপ্ন দেখে তুমি নিজেও খানিকটা ভীতসন্ত্রস্ত ছিলে যেন।

“ও কিছু না” বলে তোমাকে সান্ত¡না দিলেও মনে মনে প্রমাদ গুনছিলাম সেদিন। মৃত্যুর আগে এবং পরে পরিবারে বা বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-স্বজনের যতো গল্প বা ঘটনা শুনেছি- তার সঙ্গে এই স্বপ্ন-সিরিয়ালেরও বড্ড বেশি মিল খুঁজে পেয়েছিলাম।

কিন্তু কিচ্ছু তো করার নেই আমাদের। সময়ের জন্যে অপেক্ষা করা ছাড়া। এতোটাই অসহায় প্রকৃতির সন্তান আমরা, বেঁচে থাকি অতিশয় কৃপায়, চলে যাই ইচ্ছামৃত্যু বরণ করে।

চির অনন্তবাসে আনন্দে থাকো হে নাথ!

সম্প্রতি