পুনরুত্থান
আমেনা তাওসিরাত
আলোর তীব্র আকর্ষণে
মরণোন্মুখ না হয়েও
ঘূর্ণায়মান মথেরা হোমকুণ্ডে পতিত হয়েছিল।
প্রস্ফুটিত হয়েছিল স্বর্গের ফুল।
মিথ্যা সূর্যমুখী ফুলেরা প্রতি শীতে মাটিতে ফিরে যায়,
আর বসন্তে কা- থেকে পুনর্জ্জীবনের আলো ছড়িয়ে
যেভাবে দাঁড়ায়-
সেভাবে দাঁড়িয়েছিল
বাংলা ভাষার ভয়হীন অংশুল ইতিহাস।
ভালবেসে যারা
জলাশয় নিয়ে শুয়েছিল,
তারা জেনেছিল
পৃথিবীর সব পাখি উড়ে গেছে।
প্রত্যাখানের ক্ষত
আর পুনঃপ্রবর্তিত ক্ষোভ নিয়ে শোকপ্রদর্শন নয়-
আমাদের ছিল অনুপুঙ্খ স্বত্ব,
আর ধমনীতে অপ্রত্যাবর্তী স্রোত।
বিষাদোত্তীর্ণ গ্রামে দূরায়ত সংগীত।
আরক্ত মাথার শীর্ষে
জয় আর ভয়ের সন্নিহিত আঁচড়।
বুকের দুপাশে দুটো রক্তের দাগ।
নীলাভ ভ্রুতে অন্তর্লীন কালো ডোরা,
মেদমন্থর ঠোঁটে ঝুঁকে আসা অসিত বর্ণ।
বাকি দেহ স্বর্ণাভ নীল-ধূসর পা,
আর চোখে রক্তদীপ্ত তারা।
নীলকণ্ঠ বসন্ত বাউরি পাখিরা
হয়তো ছোট ছোট দলে উড়তে উড়তে
সংঘবদ্ধ হয়ে সেদিন খুব ডেকেছিল।
ঘন গোয়ালের স্মৃতি নিয়ে
নিদ্রাচ্ছন্নতায় বচনপ্রপঞ্চরা।
অবসাদগ্রস্ত প্রাচীর ভেঙে পড়ে,
অব্যাহত মিছিলে নামে সারমেয় হিম।
ক্ষিপ্রতা, তূর্যনিনাদ,
আর বিচূর্ণ লেলিহান।
নক্ষত্রখচিত প্রাণেরা
অপ্রতিরোধ্য দেশপ্রেমে
সমুদ্র ভেবে রাজপথে ঢলে পড়ে।
গর্বের ঘণ্টানিনাদে
দেহাবশেষ স্মারকস্তম্ভ হয়ে যায়।
ভাইকিং যুগের সহস্র বছরের প্রাচীন
রুনিক শিলালিপি
প্রেম, ক্ষয় আর মহাকাব্যিক যুদ্ধের কাহিনি বলেছিল;
আর ভুলক্রমে সেই বাণীসমৃদ্ধ পাথরগুলো
গির্জার প্রধান ফটকের নিচে
গ্রানাইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
স্মৃতিস্তম্ভ আর স্মারক পাথরগুলো
শুধু ভালোবাসা নয়- মৃত্যু
আর ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের কথাও বলেছিল।
সংস্কৃতির সংকট
সানজিদ সকাল
চুলে কাঠগোলাপ দিও না-সখী
চারদিকে সংস্কৃতির সংকট
মানবতার সূর্য অস্তমিত আজ
ভাঙা প্লাটফর্মে দাঁড়াও। ট্রেন আসবে-
চলে যাব- দূরে কোথাও, বহুদূরে
যেখানে আছে মানুষ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি।
এবংবিধ সুবিধি সুন্দর
মনজুর শামস
তার পা দুটি হাঁটছিল, হাত নড়ছিল, চুল উড়ছিল বিচল হাওয়ায়
শুধু চোখ দুটি নড়ছিল না, তাকিয়ে ছিল সামনের গাছের দিকে
দূর থেকে গাছটার মগডালে বাহারি একটা অচিন পাখিকে বসে
থাকতে দেখে শিকারি চোখ দুটিকে জিএম-৪০৩ রাডার করে
অবিচল এগিয়ে যাচ্ছিল সে বন্দুকে অভ্যর্থ টিপের আঙুলটাকে
ট্রিগারের শীতল মারণ কোলে বাজের ছোঁ-মারা ওতে রেখে-
নিজেকে আড়ালে রাখছিল ঝানু শিকারির পাশব চতুরতায়
আর, জুতসই জায়গা বেছে নিয়ে বন্দুক তাক করে ট্রিগার
টেপার আগ মুহূর্তে চোখ কচলে নিয়ে তাকাতেই দেখে
পাখিটি নেই, চোখ কচলানোর ফাঁকেই ফুড়–ত- বারুদ
উগরানো বন্দুকের নল এড়িয়ে নিরাপদে সটকে পড়েছে
পাখিটি- ঠিক যেভাবে কুৎসিত পৃথিবীতে টিকে থাকে
ফুল-পাখি-গান-সুর-ছন্দ-কবিতা এবং তাবৎ সুন্দর
আমার চাওয়া
অনিন্দ্য অহম
স্বপ্ন, আশা, আকাক্সক্ষা, লোভ,
রাজনীতি, প্রেম, রাষ্ট্রীয় শোক;
সংসার, মান, অভিমান, ক্ষোভ-
সবকিছু শুধু তোমাদের হোক।
আমি চাই আলু, লঙ্কা নগদ,
সামান্য নুন, এক থালা ভাত;
গেলাস ভর্তি জোছনার মদ,
আঁধারের সাথে মাখামাখি রাত;
ঘাসের ডগায় পিছলানো ভোর,
মাটির শিয়রে জোনাকির দোল;
চোখ মেললেই বিস্ময় ঘোর,
সবুজের মাঝে ক্লান্তির কোল;
বৃষ্টি পড়ার টুপটাপ সুর,
মাতাল ডানার উদাস হাওয়া;
শালিক-চড়ুইর আলসে দুপুর-
এইটুকুনই আমার চাওয়া!
অর্থ-বাণিজ্য: বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
অর্থ-বাণিজ্য: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
সারাদেশ: বাঁচার আকুতি গৃহবধূ মুন্নির