সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: জান্নাতুল বাকেয়া কেকা
প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী- দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক হিসেবেও তিনি ব্যাপক পরিচিত। লেখক, সমাজচিন্তক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন। এবছর এই প্রবীণ গুণিজন ৯০ বছরে পদার্পণ করেছেন। সেই সুবাদে তিনি দেখেছেন বৃটিশ শাসন-শোষণের ডামাডোল। দ্বিজাতি তত্ত্বের তকমায় মুসলিম জনগোষ্ঠীদের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানের পর অভ্যন্তরীণ উপনিবেশের ভোগান্তির হাল হকিকত তাঁর চোখে দেখা। সর্বশেষ ১৯৭১-এ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর ধারাবাহিকভাবে গত ৫৪ বছরের বাংলাদেশ তাঁর চোখের সামনেই বেড়ে উঠেছে। সদ্য স্বাধীন দেশটির কৈশর-তারুণ্য পেরিয়ে মধ্যবয়সের বাংলাদেশ তাঁর রোজকার জীবনে, কর্মের সুবাদে মিলেমিশে দেখার অভিজ্ঞতায় জীবন্ত। সেই তিনি বলছেন, ‘তাঁর জীবনের বিস্তর অভিজ্ঞতায় তিনি বৃটিশ থেকে পাকিস্তান আমল হয়ে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন দেখেছেন তা মানবিক-মর্যদার উন্নয়ন ঘটায়নি। বরং এই উন্নয়ন ইট-কাঠ-পাথর-দালানকোঠানির্ভর। তিনি তাই বলছেন,‘আসলে এই উন্নয়নের অন্তরালে অন্তঃকষ্ট আছে এই হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা’।
দীর্ঘ জীবনের অপার আর্শীবাদ ও রহস্যের ভারে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ এই গুণিজনকে যদি প্রশ্ন করা হয় কেমন আছেন, তিনি গতানুগতিক উত্তরে বলবেন-ভালোই আছি। দিন চলে চলে যাচ্ছে। তবে লক্ষণীয় এই যে, সেই ভালো থাকার জবাবে তিনি কেমন একটানে একটু বেশিই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন- ভালো থাকাটা গতানুগতিক। তখন তাঁর বক্তব্যের চেয়েও জোরেশোরেই টের পাওয়া যায়, কানে আসে তাঁর দীর্ঘশ^াস।
আর যদি পাল্টা প্রশ্নে বলা হয়, এই যে ভালো থাকা তা কতটা ভালো? তখনো তিনি তাঁর সেই ধারাবাহিক টোনে বলবেন- ‘কেটে যাচ্ছে দিন। তবে নানান চড়াই-উৎরাই অবশ্যই আছে’। ‘আবার গেছে যে দিন আর আজকের যে দিন, কী পরিবর্তন দেখছেন?’ তার উত্তরে তিনি ঝাঁপি খুলে বসেন তাঁর পেছনের পুরানো ও কাটিয়ে আসা দিনের বিস্তর অভিজ্ঞতার নানান ঘটনাক্রম। তিনি অসাধারণ আবেগের পটভূমিতে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত পরিবর্তন যেটা হচ্ছে সেই পরিবর্তনটা যদি আজকের প্রসঙ্গে বলি, তবে বলতেই হয় আমাদের কালে জীবন আনন্দেরই ছিল। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জীবনও আনন্দ ছিল ভরপুর।
পরিবর্তন যেটা হয়েছে তাঁর দৃষ্টিতে সেটা ঘটেছে বটে। তাঁর দেখা তিন আমল- বৃটিশ রাজত্ব, পাকিস্তানি শাসন এরপর বাংলাদেশ। এই তিন আমলে উন্নয়ন ঘটেছে ধারবাহিকভাবেই। কিন্তু তাঁর মতে, এই উন্নয়নের ধারা ছিল একটাই, সেটা হলো ‘পূঁজিবাদী’ উন্নয়নের ধারা। এই পুঁজিবাদী উন্নয়নের ধারা যা করে আমাদের জন্যও সেটাই করেছে। তিনি পুঁজিবাদী উন্নয়নের নানান প্রতিবন্ধকতার ধারাবাহিক ও ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন-
প্রথমত: পুঁজিবাদী উন্নয়ন এক নম্বরে যা করে তা হচ্ছে ‘বৈষম্য বৃদ্ধি’ করা।
দ্বিতীয়ত: এই উন্নয়ন আরেকটি কাজ করে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখে না। প্রকৃতির সঙ্গে শত্রুতা করে। প্রকৃতিকে নির্যাতন করে। ফলে প্রকৃতিও প্রতিশোধ নেয়। এটি বড় আকারে করেছে সেই পরিবর্তন হয়েছে জোরেশোরে।
তৃতীয়ত: আরো যেটা হলো এই উন্নয়ন কিন্তু কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে না।
তাঁর মতে ধারাবাহিক এই সব উন্নয়নের বাইরের দিক আছে। দালান কোঠা, রাস্তাঘাট, গাড়ি-ঘোডা, এইগুলো সব ঠিক আছে। কিন্তু ভেতরের সেটা প্রয়োজন সেইটা হচ্ছে অবকাঠামোর অন্তর্গত যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেটাই ঘটেনি। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার জন্য/ঘটানোর জন্য প্রধান যেই জিনিস দরকার তা হলো বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগটাই ঘটলো না। উল্টো যেটা ঘটলো সেটা হলো যে, আমাদের সম্পদ, যে সম্পদ সাধারণ মানুষের শ্রমের দ্বারা তৈরি সেই সম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে গেল। এটা আগেও ছিল। সেই মুঘল আমলে আমাদের সম্পদ পাচার হয়েছে দিল্লিতে। পাকিস্তান আমলে করাচিতে এবং বাংলাদেশ আমলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শহরে পাচার হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ মানুষের শ্রমে-ঘামে উপার্জনের সম্পদ।
আর এই সময় আরেকটি বড় ঘটনা যেটা ঘটেছে সেটা হলো যে, মানুষের দেশপ্রেম কমে গেছে। এই যে, দেশপ্রেম খুব কমে যাচ্ছে উন্নয়নের সাথে সাথে এটি লক্ষণীয়। অর্থাৎ মানুষেরা ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হচ্ছে পরস্পর থেকে। আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে এবং আত্মকেন্দ্রিকতার ফলে তার সামাজিকতার যে বোধ সেটা কমে যাচ্ছে। যে ধরনের সহিংসতা, পারিবারিক হিংস্রতা, যে ধরনের ধর্ষণ, গণধর্ষণ আজকে আমরা দেখি সেটা আগের সময়ে মানে আমাদের সময়ে ছিল অকল্পনীয়। এসব ঘটছে এই কারণে যে, মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ সেটা নেই। মানুষ নিজের বোধকেই প্রধান মনে করে। মানুষের মধ্যে ওই যে, বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে সেটা পুঁজিবাদী উন্নয়নের অবদান। এই যে পরিবর্তনের প্রথম কারণ যদি বলি বিচ্ছিন্নতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, দেশপ্রেম কমে যাওয়া। এসবের পেছনেও কিন্তু অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত।
তিনি বলছেন, অর্থনৈতিক কারণ যদি বলি তাহলে বলবো অর্থনীতির গতি সঞ্চার করতে পারে সেই কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বরং কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে- যা অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে না, যদি না আমরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করি। আর বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার জন্য যে পরিবেশ সেই পরিবেশটা তৈরি হয়নি। বিনিয়োগকারীরা যে, আস্থা অর্জন করবে, আস্থার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করবে সেই অবস্থাটা তৈরি হচ্ছে না, এগুলো হচ্ছে অন্যদিক। ‘আসলে উন্নয়নের অন্তরালে অন্তঃকষ্ট আছে এই হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা’।
তাঁর মতে, ‘দেশপ্রেম’ কমে যাচ্ছে। এর সাথে রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রজ্ঞার যোগসূত্র আছে নিশ্চয়। তবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তো থাকবেই থাকতেই হবে, এটা আলাদা কথা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ‘দেশপ্রেমের’ ক্ষেত্রে অতীতে কী ঘটেছিল; আজ কী ঘটেছে- সেই সময় আলাদা করে উল্লেখ করাও ভাবনার বিষয় আছে। তবে তা কতটা করা হচ্ছে সেটা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন এই প্রবীণ শিক্ষক-লেখক বুদ্ধিজীবী।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে, তাঁর মতো তিনি ও পূর্বসূরিরা বৃটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ যে উপনিবেশ ছিল সেই ঔপনিবেশিক অবস্থার বিরুদ্ধে তিনি ও তাঁর পূর্বসূরিরা লড়াই করেছিলেন। তাও সেই লড়াই ছিল ঐকবদ্ধভাবেই লড়াই। তিনি বলেন, ‘একাত্তরে সেই তাঁরা ভয়ংকর বিপদে ছিলেন। মৃত্যু প্রতিমুহূর্তে তাদের জন্য অপেক্ষা করেছে। কিন্তু তারপরও তাঁরা আশাবাদী ছিলেন, ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। আমরা মনে করতাম আমরা সকলে একসাথে আছি। যে মুহূর্তে দেশ স্বাধীন হলো তারপর থেকেই বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করলাম। আমরা তখন আর সমষ্টিগত স্বপ্ন আর ধারণ করলাম না। আমাদের প্রত্যেকের স্বপ্ন নিজস্ব স্বপ্নে পরিণত হলো। সমষ্টিগত মুক্তির যে স্বপ্নটা ছিল একটি নতুন সমাজব্যবস্থার যেখানে মানুষের সাথে মানুষের অধিকার এবং সুযোগের সাম্য থাকবে। সেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয়করণ ঘটবে। সেখানে প্রত্যেকটি জায়গাতে প্রতিটা স্তরে যথার্থ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। সেরকম ব্যবস্থা আমরা চেয়েছিলাম। সেটাই ছিল আমাদের মুক্তির স্বপ্ন। তো মুক্তি তখন ব্যক্তিগত চিন্তায় চলে গেল। সমষ্টিগত মুক্তির চিন্তা, মুক্তির স্বপ্ন ব্যক্তিগত স্বপ্নের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। সেই স্বপ্ন আর আমরা জোড়া লাগাতে পারলাম না। কেননা যত সরকার আমাদের এখানে ক্ষমতায় এসেছে প্রতিটা সরকারই কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ওই নিজেদের স্বার্থই দেখেছে। তারা ক্ষমতায় থাকার বা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজনেই রাজনীতি করেছে।’
প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ মনে করেন, এই যে মানুষের মুক্তি, সেটা কিন্তু তথাকথিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে হবে না। পুঁজিবাদী ধারার এই উন্নয়ন দিয়ে মানবের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে না। এর জন্য দরকার হবে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার এবং এক্ষেত্রে মালিকানার প্রশ্নটি খুব জরুরি। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত মালিকানার জায়গা থেকে আমাদেরকে সামাজিক মালিকানায় যাবার জন্য চেষ্টা করতে হবে। সেই সামাজিক মালিকানা ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের এই সমস্যাটা পুরো পৃথিবীতে শুধু আমাদের দেশের সমস্যা না। আজ সারা পৃথিবীতেই এখন ব্যক্তি মালিকানার যে চরম পর্যায় চলে এসেছে।
মার্কসবাদী তাত্ত্বিক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলছেন, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। গণমাধ্যম এখন কৃতদাস হয়ে গেছে যার যার ক্ষমতার মানদ-ে। ফলে পৃথিবীর মুক্তিও কিন্তু নির্ভর করছে ব্যক্তিগত মালিকানার জগত থেকে সামাজিক মালিকানার জগতে পর্দাপণের ওপরে। সেটা আমার, আমাদের প্রত্যেকটা দেশকে করতে হবে আলাদা আলাদাভাবে। কিন্তু এটা শুধু আমাদের বা আমাদের মতো একটি দেশের সমস্যা না, পুরো বিশ্বের সমস্যা। সেই জন্যই আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি মানে সারা পৃথিবীর মানুষই বিপদের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নানান কার্যক্রম নিয়ে তাঁর ভাবনা আছে। তিনি মনে করেন, আসলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা খুব জরুরি। এটা করতে পারে জনগণ। সেই জন্য যা দরকার তা হলো জনগণের সচেতনতা বাড়ানো। সেটা খুবই অত্যাবশকীয়। জনসচেতনার মান যদি আমরা উন্নত করতে না পারি অর্থাৎ সংস্কৃতির মান বাড়াতে হবে। আজকে বাংলাদেশে সংস্কৃতির চর্চা নেই। এখানে অন্ধকার হয়ে গেছে। গান, নাটক, বিতর্ক, পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার এবং সেখানে মেলামেশা-খেলাধুলার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে সামাজিকীকরণের বিষয়গুলি নেই। এখন মানুষ প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে যেটুকু বিনোদন পাওয়া যায় সেই বিনোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সেই বিনোদন কিন্তু একাকী অর্থাৎ আমরা দেখছি যে, তিনজন মানুষ বসে আছে কিন্তু সবাই সেইখানে বসেই যে যার মতো মোবাইলে ব্যস্ত। একজন মানুষ আরেকজনের সাথে কথা বলছে না। এই যে অসামাজিকতা, এই যে বিচ্ছিন্নতা। এটা দূর করতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা করতে হবে। এ চর্চার মধ্য দিয়ে সামাজিকতার যে বোধ সেটা বাড়াতে হবে।
সংস্কৃতি চর্চা বলতে তিনি আদর্শ, নিরপেক্ষ সংস্কৃতির চর্চার কথা বলছেন না। বরং সংস্কৃতির নিজস্ব আদর্শ থাকবে। সেটা হচ্ছে ওই যে তাঁরা যে নতুন সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন, নতুন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা ভেবেছিলেন। সেই স্বপ্ন এবং সেই ভাবনা, এই দুটিকে ধারণ করতে পারে যে আদর্শ, সেই আদর্শের আলোকে ও অনুকূলে যে সংস্কৃতিচর্চা সেগুলোকে সামনে আনতে হবে। তাঁর মতে বিনোদন থাকবে, কিন্তু বিনোদন উদ্দেশ্যবিহীন হবে না। বিনোদনের মধ্য দিয়ে মানুষ সচেতন হবে। এমনকি খেলাধুলার মধ্য দিয়েও মানুষ সচেতন হবে। ওসব এখন আমাদের এখানে হচ্ছে না, এটা দুঃখজনক।
উগ্র, ধর্মান্ধ, পশ্চাৎমুখী চিন্তার বিকাশ ও বিস্তার ওই সংস্কৃতি চর্চার গ্যাপের কারণেই হচ্ছে কি না এমন বিষয় তিনি তাঁর নিজস্ব ভাবনায় ব্যাখা করেন। তিনি বলেন সংস্কৃতি চর্চার গ্যাপের কারণেই এমনটা ঘটছে। মূলত দুটি কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।
প্রথমত: একটি হচ্ছে সাংস্কৃতিকচর্চা নেই। দ্বিতীয়ত: মানুষ কিন্তু ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। সমাজে ন্যায় বিচার নেই। আদালতে নেই, সামাজিকভাবে নেই। এমনকি পারিবারিক পরিম-ল, সেখানেও নেই। এখন মানুষেরা ন্যায় বিচার যদি না পায় তখন মানুষ কার ওপর নির্ভর করবে? এখন মানুষ নির্ভর করে পরকালের ওপর। ইহকালে পেলাম না পরকালে বিচার হবে। ইহকালে তুমি আমার ওপর অত্যাচার করলে এর শাস্তি তুমি একদিন পাবে। যেদিন তুমি এখানে এই ইহজগতে থাকবে না। এই যে নির্ভরশীলতা পরকালের ওপর, এই জগতের ওপর অনাস্থা এইটি কিন্তু মানুষকে হতাশ করে। এই হতাশার দিক থেকে মানুষ বেরিয়ে আসতে চায়। তখনই কারো কাছে আশ্রয় চায়। তখনই এই আশ্রয় চাইতে গিয়ে মানুষ ধর্মের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশে ঘটছে।
তিনি বলেন যে, ১৯৭১ এদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছে আমাদের/এদেশকে ফিরতেই হবে, সে যেভাবেই হোক। যে চেতনাটা একটি সামাজিক মালিকানার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে। তিনি মনে করেন, সামাজিক মালিকানা অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক উপায়ে ওই জায়গায় যেতে চেষ্ট করতে হবে এই জাতিকে। এর বাইরে তিনি আর ব্যাখাও করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন। কেননা তিনি এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ননবলে তার ধারণা।
অর্থ-বাণিজ্য: বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
অর্থ-বাণিজ্য: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
সারাদেশ: বাঁচার আকুতি গৃহবধূ মুন্নির