মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলস্টেশন বাংলাদেশের রেল ইতিহাসে এক নীরব কিন্তু দৃশ্যমান দলিল। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশন একসময় ছিল আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও এটি পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং যাতায়াতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ে গেছে এর পুরোনো স্থাপনা, আর রয়ে গেছে অবহেলার ছাপ। ১৮৯২ সালে আসামবেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর পূর্বাঞ্চলে রেললাইন নির্মাণে গতি আসে। ১৮৯৫ সালে চট্টগ্রাম–কুমিল্লা রুট ও ১৮৯৬ সালে কুমিল্লা আখাউড়া শাহবাজপুর রেলপথ গড়ে উঠতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ভানুগাছ রেলস্টেশনের উদ্ভবযা অঞ্চলজুড়ে মানুষের চলাচল, পণ্য পরিবহন ও প্রশাসনিক যোগাযোগ সহজ করে তোলে।
আজও স্টেশনটি আখাউড়াকুলাউড়াছাতক রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন এখানে নিয়মিত থামে। পর্যটকদের জন্য এটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা-বাগান ও প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলোয় প্রবেশের প্রধান দরজা হিসেবেও পরিচিত স্টেশনের ব্রিটিশ আমলের পুরোনো গুদামঘর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রেল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির দেয়াল, ছাদ ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। শুধু স্থাপনা নয়—রেললাইনেও আছে নিরাপত্তাহীনতার ছাপ। ক্লিপ-হুক চুরির মতো ঘটনাগুলো পথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যা বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়।
ভানুগাছ শুধু একটি রেলস্টেশন নয়—এটি স্থানীয় অর্থনীতির টানাপোড়েন সামলানো এক সরগরম কেন্দ্র। স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা বাজার—বিশেষ করে সবজি ও মাছের আড়ত—দৈনিক লেনদেনে প্রাণ পায়। কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার ওপরই এই স্টেশন-বাজারের প্রভাব গভীর। যাত্রীসেবা, ব্যবসা এবং পর্যটন মিলিয়ে স্টেশনটি আজও গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বেও এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য ও রেলঐতিহ্য সংরক্ষণে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ভানুগাছ স্টেশন শুধুই ইতিহাস বইয়ের পাতায় রয়ে যাবে দর্শনীয় স্থাপনা বা জীবন্ত স্মৃতি হিসেবে আর নয়।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলস্টেশন বাংলাদেশের রেল ইতিহাসে এক নীরব কিন্তু দৃশ্যমান দলিল। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশন একসময় ছিল আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও এটি পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং যাতায়াতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ে গেছে এর পুরোনো স্থাপনা, আর রয়ে গেছে অবহেলার ছাপ। ১৮৯২ সালে আসামবেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর পূর্বাঞ্চলে রেললাইন নির্মাণে গতি আসে। ১৮৯৫ সালে চট্টগ্রাম–কুমিল্লা রুট ও ১৮৯৬ সালে কুমিল্লা আখাউড়া শাহবাজপুর রেলপথ গড়ে উঠতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ভানুগাছ রেলস্টেশনের উদ্ভবযা অঞ্চলজুড়ে মানুষের চলাচল, পণ্য পরিবহন ও প্রশাসনিক যোগাযোগ সহজ করে তোলে।
আজও স্টেশনটি আখাউড়াকুলাউড়াছাতক রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন এখানে নিয়মিত থামে। পর্যটকদের জন্য এটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা-বাগান ও প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলোয় প্রবেশের প্রধান দরজা হিসেবেও পরিচিত স্টেশনের ব্রিটিশ আমলের পুরোনো গুদামঘর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রেল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির দেয়াল, ছাদ ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। শুধু স্থাপনা নয়—রেললাইনেও আছে নিরাপত্তাহীনতার ছাপ। ক্লিপ-হুক চুরির মতো ঘটনাগুলো পথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যা বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়।
ভানুগাছ শুধু একটি রেলস্টেশন নয়—এটি স্থানীয় অর্থনীতির টানাপোড়েন সামলানো এক সরগরম কেন্দ্র। স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা বাজার—বিশেষ করে সবজি ও মাছের আড়ত—দৈনিক লেনদেনে প্রাণ পায়। কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার ওপরই এই স্টেশন-বাজারের প্রভাব গভীর। যাত্রীসেবা, ব্যবসা এবং পর্যটন মিলিয়ে স্টেশনটি আজও গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বেও এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য ও রেলঐতিহ্য সংরক্ষণে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ভানুগাছ স্টেশন শুধুই ইতিহাস বইয়ের পাতায় রয়ে যাবে দর্শনীয় স্থাপনা বা জীবন্ত স্মৃতি হিসেবে আর নয়।