image

পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় বেধড়ক পিটুনি, ঠাণ্ডা পানিতে নামিয়ে শাস্তি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, ঢাকা ও জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেয়ায় একজনকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে, যিনি বিএনপির কর্মী। এরপর তাকে ঠাণ্ডা পানিতে নামিয়ে চুবানো হয়েছে।

পরবর্তীতে ঠাণ্ডা পানিতে দাঁড় করিয়ে তাকে অজু করে শপথ পাঠ করনো হয়েছে। গত রোববার রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় প্রভাবশালীদের ভয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়নি।

গতকাল পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম মুঠোফোনে সংবাদকে ঘটনা স্বীকার করে বলেন, গত রোববার ওই কৃষক মহিদুল ইসলামকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, যাকে কাঠের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র কৃষক ও বিএনপির কর্মী। পুঠিয়া এলাকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের (এমপি) লোকজন তাকে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই দরিদ্র কৃষককে নির্যাতনের একটি ভিডিও সংবাদ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, পুকুর পাড়ে ও কলা বাগানের ভেতরে একজন কালো জ্যাকেট পরা ওই কৃষককে দুই হাতেরও বেশি লম্বা কাঠের লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল। প্রচণ্ড জোরে লাঠি দিয়ে পেটানোর সময় প্রথমে একটি লাঠি ভেঙে যায়। এরপর আরেকটি লাঠি দিয়ে বাম পায়ে, হাঁটুর নিচে, উরুতে ও হাতে পেটানো হয়। তিনি হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেও তাকে ক্ষমা করা হয়নি।

আরেকজন লাঠি ভেঙে যাওয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে বলে। হাতুড়ের ভিডিও দেখা গেছে। পিটানোর সময় বারবার ওই কৃষক ক্ষমা চাইলে তাকে জামা-কাপড়সহ পানিতে নামতে বলা হয়। কোনো উপায় না পেয়ে ওই কৃষক পানিতে নামেন। তাকে ডুব দিতে বলা হয়। তিনি ডুব দেন, ক্ষমা চান। আবার ডুব দিয়ে ওজু করতে বলা হয়। এরপর তাকে শপথ পড়ানো হয়। ওই কৃষক বলেন, ‘আর কোনো দিন এভাবে এলাকার লোক রেখে বাহিরের লোককে ভোট দিবো না। আমার ভুল হয়েছে। আমি আর কখনো এভাবে ভোট দিবো না।’

একজন আরেকজনকে বলেন, লাঠি ভেঙে যাচ্ছে। আপনি এডা (হাতুড়ে) দিয়ে পিটান। ভাঙবে না, ফাটবেও না। এরপর আবার পেটানো হয়। এভাবে দফায় দফায় ওই কৃষককে বেধড়ক পেটানো হয়েছে।

ঠাণ্ডা পানিতে দাঁড়ানো অবস্থায় শপথের ভিডিওতে শোনা গেছে, আর জীবনে ভুল করবো না, ভুল হবে না। এভাবে শপথ পড়ানো হয়েছে। নির্যাতনের সময় ঘটনাস্থলে আরও দেখা গেছে।

পুলিশের একজন সিনিয়র অফিসার মন্তব্য করে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বন্ধ না করলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনই বন্ধ করা উচিত।

আমাদের রাজশাহী জেলা রিপোর্টার জানায়, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া -দূর্গাপুর) আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে এ মারপিট করা হয়েছে। পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা সংবাদকে জানায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ও ভোট দেয়ায় ধানের শীর্ষের সমর্থকরা ওই কৃষককে নির্যাতন করেছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ সম্পর্কে বিজয়ী বিএনপি নেতার সমর্থক ও স্থানীয় যুবদল নেতারা সাংবাদিকদের বলেছেন, এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সংগঠনবিরোধী।

এই ঘটনায় রাজশাহী জেলা এসপির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিভাগীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» মহেশপুরে ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর ইন্তেকাল

সম্প্রতি