আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ নামে প্যানেল দিয়েছে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো।
জকসু লিগ্যাল এইড সেল সৃষ্টি করা।
মা শিক্ষার্থীদের জন্য ফিডিংজোন তৈরি করা।
মেয়েদের জন্য খেলাধুলায় ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সাইবার অ্যান্ড এন্টিহ্যারাসমেন্ট সাপোর্ট সেল গঠন।
এই প্যানেলের হয়ে নির্বাচনে ২১ সদস্যের প্যানেলের সাতটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৭ জন নারী শিক্ষার্থী। ব্রিগেড প্যানেলের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক আফিকা লেবিন মৌমি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জোয়ান অফ আর্ক, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আমরিন জাহান অপি, পাঠাগার ও সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক সায়্যিদা মুবাশ্বিরা। সদস্যপদে সুমাইয়া আবেদীন রিতিকা, সাগ্নিকা চক্রবর্তী, রিদি জাফরাত।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জোয়ান অফ আর্ক বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটি স্বাভাবিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্বমূলক প্রক্রিয়া, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই পদে নির্বাচন করার কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনফারেন্সে যাওয়ার হার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে খুবই কম, এমনকি সেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইউনিট হিসেবে যেতে হয়। এটার জন্যে আমি কাজ করবো। একইভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোলাবোরেশন বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে, সেজন্য একটা ইন্টারন্যাশনাল অ্যালামনাই তৈরি করতে কাজ করবো। এছাড়া নারী হিসেবে প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারটি তখনই উঠে আসবে যখন কেউ নিজের জন্য কথা বলতে পারবে না। বর্তমান সময়ে কেউ কারো জন্য জায়গা ছাড়তে প্রস্তুত নয়। বিভিন্ন খেলাধুলাতে মেয়েদের জন্য যেই ফান্ড-এর ব্যাপারটা রয়েছে সেটার কথা বলতে পারি। যেটা চোখে আঙুল দিয়ে উপেক্ষার ব্যাপারটি তুলে ধরে।
আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফিকা লেবিন মৌমি বলেন, বিগত সালের আমাদেরই একজন সিনিয়র আপু সাইবার বুলিংয়ের স্বীকার হয়ে এবং কোনো রকম আইনি সহায়তা না পেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন তাই আমি এই পদে নির্বাচিত হলে সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সাইবার অ্যান্ড এন্টিহ্যারাসমেন্ট সাপোর্ট সেল গড়ে তুলবো। আমাদের ক্যাম্পাসে কোনো লিগ্যাল এইড সেল নেই, একটি লিগ্যাল এইড সেল থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইনি সমস্যা সমাধান দিতে শিক্ষক, জগন্নাথের সাবেক আইনের শিক্ষার্থী যারা অলরেডি আইন পেশায় নিয়োজিত তাদের সমন্বয়ে গড়ে তুলবো জকসু লিগ্যাল এইড সেল এবং সব শিক্ষার্থীদের মৌলিক আইন এবং মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত ফ্যাকাল্টিভিত্তিক ক্যাম্পেইন চালু করবো। নারী হিসেবে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মেয়েদের জন্য একটি মাত্র কমনরুম যেখানে জায়গা সংকুলান, পর্যাপ্ত ফ্যানের অভাব, নেই কোনো স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা।
যেসব শিক্ষার্থী যারা বেবি নিয়ে ক্লাস করে তাদের জন্য ক্যাম্পাসে কোনো ফিডিংজোন নেই! প্রতিবার বাচ্চাকে ফিড করাতে হয়, আমি ছুটেছি টিচার্স রুমে আর না হয় ওয়াসরুমে। এই ফিল্ডটা নিয়ে আসলেই আমি কাজ করতে চাই।
পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদপ্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সায়্যিদা মুবাশ্বিরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই সব জাতি, ধর্ম ও মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখর থাকুক। তাছাড়া নতুন এডিশনের বইও খুব একটা সংযোজন করা হয় না। এছাড়া ধরুন কোনো শিক্ষার্থী যদি গতানুগতিক ধারার বাইরে অন্য কোনো জনরার বই পড়তে চায় তাহলেও সেটা সহজে সম্ভব হয় না তার পক্ষে। আমি এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ২০২১-২২ সেশন ও নির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী সুমাইয়া আবেদীন রিতিকা বলেন, একজন নারী হিসেবে আমি দেখতে পাই কীভাবে নারীরা বিশেষভাবে পিছিয়ে আছে, অংশদারীত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বে। এর মূলে কিন্তু যোগ্যতা প্রশ্ন নয় বরং নিরাপত্তাই মূল কারণ। ক্যাম্পাসে নিয়মিত সেমিনার, পাঠচক্র, মুক্ত আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে আরও গুরুত্ব দিবো।
প্যানেলে নয়টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এই সংগঠনগুলো হলো সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাষ্ট্রচিন্তা, চিন্তক সাহিত্য পত্রিকা, জবি ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ নামে প্যানেল দিয়েছে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো।
জকসু লিগ্যাল এইড সেল সৃষ্টি করা।
মা শিক্ষার্থীদের জন্য ফিডিংজোন তৈরি করা।
মেয়েদের জন্য খেলাধুলায় ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সাইবার অ্যান্ড এন্টিহ্যারাসমেন্ট সাপোর্ট সেল গঠন।
এই প্যানেলের হয়ে নির্বাচনে ২১ সদস্যের প্যানেলের সাতটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৭ জন নারী শিক্ষার্থী। ব্রিগেড প্যানেলের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক আফিকা লেবিন মৌমি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জোয়ান অফ আর্ক, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আমরিন জাহান অপি, পাঠাগার ও সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক সায়্যিদা মুবাশ্বিরা। সদস্যপদে সুমাইয়া আবেদীন রিতিকা, সাগ্নিকা চক্রবর্তী, রিদি জাফরাত।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জোয়ান অফ আর্ক বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটি স্বাভাবিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্বমূলক প্রক্রিয়া, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই পদে নির্বাচন করার কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনফারেন্সে যাওয়ার হার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে খুবই কম, এমনকি সেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইউনিট হিসেবে যেতে হয়। এটার জন্যে আমি কাজ করবো। একইভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোলাবোরেশন বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে, সেজন্য একটা ইন্টারন্যাশনাল অ্যালামনাই তৈরি করতে কাজ করবো। এছাড়া নারী হিসেবে প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারটি তখনই উঠে আসবে যখন কেউ নিজের জন্য কথা বলতে পারবে না। বর্তমান সময়ে কেউ কারো জন্য জায়গা ছাড়তে প্রস্তুত নয়। বিভিন্ন খেলাধুলাতে মেয়েদের জন্য যেই ফান্ড-এর ব্যাপারটা রয়েছে সেটার কথা বলতে পারি। যেটা চোখে আঙুল দিয়ে উপেক্ষার ব্যাপারটি তুলে ধরে।
আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফিকা লেবিন মৌমি বলেন, বিগত সালের আমাদেরই একজন সিনিয়র আপু সাইবার বুলিংয়ের স্বীকার হয়ে এবং কোনো রকম আইনি সহায়তা না পেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন তাই আমি এই পদে নির্বাচিত হলে সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সাইবার অ্যান্ড এন্টিহ্যারাসমেন্ট সাপোর্ট সেল গড়ে তুলবো। আমাদের ক্যাম্পাসে কোনো লিগ্যাল এইড সেল নেই, একটি লিগ্যাল এইড সেল থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইনি সমস্যা সমাধান দিতে শিক্ষক, জগন্নাথের সাবেক আইনের শিক্ষার্থী যারা অলরেডি আইন পেশায় নিয়োজিত তাদের সমন্বয়ে গড়ে তুলবো জকসু লিগ্যাল এইড সেল এবং সব শিক্ষার্থীদের মৌলিক আইন এবং মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত ফ্যাকাল্টিভিত্তিক ক্যাম্পেইন চালু করবো। নারী হিসেবে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মেয়েদের জন্য একটি মাত্র কমনরুম যেখানে জায়গা সংকুলান, পর্যাপ্ত ফ্যানের অভাব, নেই কোনো স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা।
যেসব শিক্ষার্থী যারা বেবি নিয়ে ক্লাস করে তাদের জন্য ক্যাম্পাসে কোনো ফিডিংজোন নেই! প্রতিবার বাচ্চাকে ফিড করাতে হয়, আমি ছুটেছি টিচার্স রুমে আর না হয় ওয়াসরুমে। এই ফিল্ডটা নিয়ে আসলেই আমি কাজ করতে চাই।
পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদপ্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সায়্যিদা মুবাশ্বিরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই সব জাতি, ধর্ম ও মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখর থাকুক। তাছাড়া নতুন এডিশনের বইও খুব একটা সংযোজন করা হয় না। এছাড়া ধরুন কোনো শিক্ষার্থী যদি গতানুগতিক ধারার বাইরে অন্য কোনো জনরার বই পড়তে চায় তাহলেও সেটা সহজে সম্ভব হয় না তার পক্ষে। আমি এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ২০২১-২২ সেশন ও নির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী সুমাইয়া আবেদীন রিতিকা বলেন, একজন নারী হিসেবে আমি দেখতে পাই কীভাবে নারীরা বিশেষভাবে পিছিয়ে আছে, অংশদারীত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বে। এর মূলে কিন্তু যোগ্যতা প্রশ্ন নয় বরং নিরাপত্তাই মূল কারণ। ক্যাম্পাসে নিয়মিত সেমিনার, পাঠচক্র, মুক্ত আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে আরও গুরুত্ব দিবো।
প্যানেলে নয়টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এই সংগঠনগুলো হলো সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাষ্ট্রচিন্তা, চিন্তক সাহিত্য পত্রিকা, জবি ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।