জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা ভোট গণনা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে একটি বিভাগে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা করা হবে এবং সেটির সঙ্গে মিল রেখে পরবর্তীতে পুনরায় মেশিনের মাধ্যমে পুরো ভোট গণনা সম্পন্ন করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২ টার দিকে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা কাকলি একথা জানান।
তিনি জানান, রাত ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও ভিপি-জিএস প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় শেষে লাইনে থাকা ভোটারদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ।
ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের নিয়ন্ত্রণকক্ষে আনা হয়। সন্ধ্যার পর ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা শুরু হলেও ফলাফলে গরমিল ধরা পড়ায় গণনা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন নতুন করে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জুলফিকার মাহমুদ বলেন, প্রথমে আমরা একটি বিভাগের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করে মেশিনে ফলাফল চেক করবো। তারপর মেশিনের মাধ্যমেই ফল গণনা সম্পন্ন করা হবে।
কোন বিভাগের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা হবে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ৩০০ এর আশেপাশে ভোট কাস্ট হয়েছে এমন কোনো বিভাগের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করা হবে, তারপর মেশিনে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং একমাত্র ছাত্রী হল সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।