image

চবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে টেনে-হিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আওয়ামীপন্থি এক শিক্ষককে টেনে-হিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেছেন চাকসু নেতারা।

গতকাল দুপুর ১২টায় আইন অনুষদে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

ওই সময় আইন অনুষদের গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান। খবর পেয়ে চাকসু নেতারা আইন অনুষদের ডিন কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষক রোমান ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

চাকসুর আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে ছিলেন, যার মধ্যে আইন অনুষদের ওই সহকারী অধ্যাপক অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় ডেকে ‘নেশা’ করানো এবং শাহ আমানত হলে গৃহশিক্ষক থাকাকালে হলটিকে আওয়ামী লীগের ও সিএফসির আস্তানায় পরিণত করে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে জাপটে ধরে টেনে-হিঁচড়ে রিকশায় তোলা হয়। এরপর রিকশাটি প্রক্টর অফিসের উদ্দেশে যায়।

চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তারা আইন অনুষদে পরিদর্শনের সময় ওই খবর পান। এরপর সেখানে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই শিক্ষক আইন অনুষদের গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যাথা পান। তবে তাকে কেউ আঘাত করেনি বলে দাবি করেন আল নোমান।

তবে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হয় মন্তব্য করে প্রক্টর অফিসে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান বলেন, পরীক্ষার হলে থাকা অবস্থায় স্টাফ ও শিক্ষকরা তাকে জানায় পরিস্থিতি ভালো নয়। এরপর তিনি হল থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন চাকসু নেতারা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তিনি ভয়ে দৌড় দেন এবং আহত হন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি একদিনের জন্যও বের হননি। কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না। মৌন মিছিলেও অংশ নেননি। তিনি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের বোর্ডের সদস্যও ছিলেন না। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কাউকে মামলা দেননি বলেও দাবি করেন রোমান।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, তিনি যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মব হয়নি। তিনি ‘পতিত সরকারের’ একজন সৈনিক হলেও তার ভেতরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে তাকে মবে ফেলা হতে পারে। সে কারণেই তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। তবে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া যেত, যাতে কোনো শিক্ষকের মানহানি না হয়।

‘ক্যাম্পাস’ : আরও খবর

» জকসু: ১৫৭ প্রার্থী কে কত ভোট পেলেন

সম্প্রতি