বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ: ‘হঠকারী’ বলছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বঙ্গবন্ধু হলের নাম বদলে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ রাখার যে সুপারিশ সিন্ডিকেটের তরফে করা হয়েছে, সেটাকে ‘হঠকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বিপরীতে হাদিকে ‘দাঁড় করানোর কূটকৌশলের’ নিন্দাও জানিয়েছে তারা। গতকাল শনিবার সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জুলাই পরবর্তী রাজনীতিতে তরুণ হাদি এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হন। তাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার প্রতি মানুষের আবেগ আকাশচুম্বী হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও যথাযথ বিচার চেয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্ক বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ও হাদির নাম ব্যবহার করে নিজ নিজ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছে কোনো কোনো পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে শহিদ হাদির নামে নতুন কোনো ভবনের নাম দেয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রায় ৩-৪ দশক ধরে জাতীয় নেতার নামে যে ছাত্রাবাস এক নামে পরিচিত, তা বদলে দেয়ার উদ্যোগকে আমরা সন্দেহ করি ও মনে করি, হীন রাজনৈতিক ক্ষুদ্রতা থেকে উদ্ভূত। অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই আমরা।’

গত বৃহস্পতিবার দুটি হলসহ ক্যাম্পাসের পাঁচটি স্থাপনা থেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম সরানোর সুপারিশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। নাম বদলানোর সুপারিশ আসা পাঁচ স্থাপনার মধ্যে দুটি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম হল’ রাখার সুপারিশ এসেছে। এর বাইরে ‘শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল’ এবং দুটি স্টাফ কোয়ার্টার ‘রাসেল টাওয়ার’ ও ‘বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের’ নাম বদলানোর সুপারিশ করা হয়।

শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলছে, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক ডামাডোলে অনেক ভাঙচুর ও পরিবর্তন হচ্ছে, যার অনেক কিছুই ন্যায্য নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়টি সংঘটিত হয়েছিল শেখ মুজিবের নেতৃত্বে এবং তার নামেই মুক্তিযুদ্ধের লড়াই চূড়ান্ত বিজয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন শেখ মুজিবুরের নাম স্মরণ করেই। জাতীয় নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে বাংলাদেশের প্রধানতম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি পাশাপাশি ছাত্রাবাস থাকার যে সহাবস্থানগত সৌন্দর্য, তা দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্পন্দিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু, তার মানে এই নয় যে, ‘স্বৈরাচারী’ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে বলে শেখ মুজিবুরের নাম মুছে ফেলতে হবে বরং তার নামে একটি ছাত্রাবাস থাকা কেবল ন্যায্যই নয়, প্রয়োজনীয়ও বটে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নামান্তরিত না হলেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর পূর্ব নাম বাতিল করে কোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ঘটনার নাম জুড়ে দেয়া হচ্ছে। যেমন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের নাম রাখা হয়েছে বিজয় ২৪, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নতুন নাম শেরে বাংলা একে ফজলুল হক হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে মওলানা ভাসানী হল। এছাড়া এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদের নামে থাকা ভবনগুলোর পরিচয় বদলে ফেলা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, ‘এগুলো কোনো চেতনা থেকে নয় বরং যা কিছু বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতি-ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত সেগুলোকে মুছে দেয়ার একটি রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের নীলনকশা চলমান রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে। আমরা আবারও এই প্রবণতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

‘ক্যাম্পাস’ : আরও খবর

» জকসু: ১৫৭ প্রার্থী কে কত ভোট পেলেন

সম্প্রতি