ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে বুধবার, (১৪ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল থমকে গিয়েছিল। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। রাজধানীর পাঁচ জায়গায় তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। আজ আবার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করা হবে বলে ঘোষণা করেছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অবরোধের ডাক দিয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলছেন, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫-এর অনুমোদন দিয়ে একইদিনে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন তারা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশর খসড়া প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করছেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন এর আশু কাঠামো নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংশ মুখোমুখি অবস্থান রয়েছেন। খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা ‘স্কুলিং’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারাদেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কায় আছেন। তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ‘অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে’ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
বুধবার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর টেকনিক্যাল, মহাখালীর আমতলী, সায়েন্সল্যাব ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পাশাপাশি তেজগাঁও কলেজের ছাত্ররা তাদের সহপাঠী সাকিব হত্যার বিচারের দাবিতে সাড়ে ১১টার দিকে ইন্দিরা রোডের মূল রাস্তা এবং ইন্দিরা রোডের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডাউন র্যাম্পের মুখ বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্দিরা রোডের মুখে গাড়ি ডাইভারশন করে বিজয় সরণির দিকে পাঠানো শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ইন্দিরা রোডের র্যাম্প বন্ধ রাখতে বলা হয়।
বাঙলা কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা টেকনিক্যাল ক্রসিং এর মাঝখানে অবস্থান নেয়ায় আসা, যাওয়া এবং বাঙলা কলেজের দিকে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না বলে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঢাকা ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় আটকে সড়কে অবস্থান নেন। ফলে সেখানেও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। তাতে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে যেসব শিক্ষার্থীরা আছেন তাদের বোঝানো হচ্ছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির স্বাভাবিক হবে।’