রাকসু জিএস আম্মার ‘মানসিক রোগী’, চিকিৎসার দাবি জানালো রাবি ছাত্রদল

প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

https://sangbad.net.bd/images/2026/January/19Jan26/news/Untitled-2%20%281%29.jpg

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ‘মানসিক চিকিৎসার’ দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে মানববন্ধন শেষে প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

এসময় ছাত্রদলের কর্মীরা আম্মারের ঠিকানা — পাবনা, পাবনা’ বলে স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক জামাতপন্থী শিক্ষক উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তার পুত্র নামে পরিচিত সালাহউদ্দিন আম্মার একজন মুনাফেক ছাত্রনেতা যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস পদে নির্বাচিত হয় সেটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।সালাহউদ্দিন আম্মার গতকাল প্যারিস রোডে টানানো তারেক রহমানের একটি ব্যানার দুপুরে ছিঁড়ে ফেলেন। আমরা এখনো পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য ধৈর্য ধারণ করে আছি।আমাদের ধৈর্যের বিচ্যুতি ঘটলে বাংলাদেশের ইতিহাসে মানচিত্র রাখবো না।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুশিয়ার করে বলেন, ‘২৪ ঘন্টার মধ্যে সালাউদ্দিন আম্মারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সালাউদ্দিন আম্বারের সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে আমরা ধরে নেব তারেক রহমানের ব্যানার ছেঁড়ার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হাত রয়েছে।

https://sangbad.net.bd/images/2026/January/19Jan26/news/Untitled-1%20%282%29.jpg

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানে একটা নার্সিসিজম সিনড্রোম বলে একটা বিষয় আছে। যেখানে ব্যক্তি বিভিন্ন ভূমিকায় নিজেকে কল্পনা করেন। এবং সেই ব্যক্তি নিজেকে অনেক বড় মনে করেন। ২০০২ সালে “ক্যাচ নি উফ ইউ ক্যান” নামে একটি মুভি রিলিজ হয়, যেখানে ১৯ বছরের একটি ছেলে নিজেকে কখনো ডাক্তার, পাইলট বা অন্যান্য চরিত্রে নিজেকে কল্পনা করতো। আমাদের রাকসু জিএসের অবস্থাও হয়েছে তেমন। জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এক‌ই সাথে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে সে যেসব কাজ করবে ছাত্রদল তাকে সমারথন করবে। কিন্তু যখন সে সীমা লঙ্ঘন করবে তখন সেটাকে সহ্য করবো না।

তারেক রহমানের ব্যানার ছেঁড়া প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তিনি ফেসবুকে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন। তার এই ধরনের কাজ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষকের কলার টেনে ধরা, ভবনে তালা মেরে দেওয়া — এটা তো কোনো ছাত্রের কাজ না। সে ছাত্র হয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করতেছে।

শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন,‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নামধারী ছাত্র-প্রতিনিধি বিভিন্ন সময় শিক্ষক- কর্মচারীদের মারধর করে, শিক্ষার্থীদের সাথে বাজে ব্যবহার করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে তালা লাগায়।তার এই অস্বাভাবিক আচরণের প্রতিবাদে এবং তার মানসিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নেছারউদ্দিন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং প্রত্যেক হল ও অনুষদের নেতা-কর্মীসহ প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরের সামনে প্যারিস রোডে টানানো এ ব্যানার গতকাল রোববার দুপুরে ছিঁড়ে ফেলেন আম্মার। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আম্মার তার ফেইসবুক পোস্টে জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারকে বেলা দুইটার আগে ব্যানার খুলে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পোষ্য কোটা বহালের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনসহ একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। গত ১৭ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া ডিনদের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন এবং ডিনদের চেয়ারে দেখলে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ‘বাকিটা বুঝিয়ে দেব’ বলে হুঁশিয়ারি দেন। পরে তিনি সেই ডিনদের পদত্যাগপত্র লিখে এনে একে একে সবাইকে কল দেন এবং প্রশাসন ভবনের সব দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। নতুন ডিন নির্বাচিত না হওয়ায় ওই ডিনদের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তবে এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে এই ছয় ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। এ ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট’ কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরি করলে তাদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আম্মার। বিষয়গুলো নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

‘ক্যাম্পাস’ : আরও খবর

সম্প্রতি