চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার, (১৯ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুরে এ আদেশ দেন এ আদেশ দেয় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ। এর আগে গতকাল রোববার এ রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজন।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শুরু করেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ অনেক শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে নির্বাচন স্থগিতের খবর পেল শিক্ষার্থীরা।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাশনা ইমাম, মনিরুজ্জামান আসাদসহ কয়েকজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। শুরুতে ভোটগ্রহণের জন্য গত ১৭ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও পরে তা ২০ জানুয়ারি (আজ) করা হয়।
এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি ইসি এক আদেশে পেশাজীবীসহ সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়।
তবে ভোটের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এর মধ্যে ১৫ জানুয়ারি আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
এ সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু ঘটনায় ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের সামনে গতকাল রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। সোমবার দুপুরে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপিপন্থি ৮ শিক্ষক। এর পরপরই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত এলো উচ্চ আদালতের আদেশে।
এবারের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ২৩ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন। এছাড়া ছয়টি হল সংসদে লড়ছেন ৮৪ জন। প্রতিটি হল সংসদে নির্বাচনের জন্য ৯টি পদ রয়েছে। সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ অগাস্ট।