ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল। তিনি জানিয়েছেন, মেঘমল্লার বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল।
তবে কেন মেঘমল্লার বসু এমন আত্মঘাতী ঘটনা ঘটিয়েছেন সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। জাবির আহমেদ জুবেলও কিছু জানাতে পারেননি। পরিবার, ঘনিষ্টজনদের পক্ষ থেকেও মানসিক চাপ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সংকটকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে মেঘমল্লার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, মেঘমল্লার বসু একসঙ্গে প্রায় ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর সহপাঠী ও সহকর্মী নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তরুণ নেতৃত্বের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনাও শুরু হয়েছে। থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা জিডি হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা) ক্যাম্পাসে মেঘমল্লার বসু অতি পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে বামঘেঁষা ছাত্র রাজনীতিতে তিনি সক্রিয়।সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তার বক্তব্য, স্লোগান ও ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সমর্থক-সমালোচকদের মধ্যে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার কিছু বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্ক হয়েছে। এমনকি কিছু কনটেন্ট বিকৃত বা ভুলভাবে প্রচারিত হয়েছে বলে ফ্যাক্ট-চেক প্ল্যাটফর্মের একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।