image

গৃহকর্মী প্রীতির মৃত্যু: বিচার না পেলে ‘বৃহত্তর’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ঢাকার মোহাম্মদপুরে বহুতল ভবন থেকে ‘পড়ে’ গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে আদিবসী কয়েকটি সংগঠনের নেতারা।

বুধবার বিকেলে ঢাকার শাহবাগে ‘আদিবাসী ছাত্র-যুব ও নারী সংগঠনসমূহ’ ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তারা আদিবাসীদের নিয়ে ‘বৃহত্তর আন্দোলন’ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার বিচার দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন তারা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিত্তিঙ্গা গ্রামের লোকেশ উরাংয়ের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রীতি গত দুই বছর ধরে ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজ করে আসছিলেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে শাহজাহান রোডের ওই ভবনের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ‘অবহেলায় মৃত্যুর’ অভিযোগে মামলা করেন প্রীতির বাবা। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সৈয়দ আশফাকুল হক এবং তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ।

শাহবাগের বিক্ষোভ সমাবেশে আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ বলেন, “একজন শিক্ষিত লোক তার বাসায় শিশুকে দিয়ে কীভাবে কাজ করায়, শিশু শ্রম আইনের আওতায় এই ঘটনারও বিচার করা হোক। অবিলম্বে যদি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না করা হয়, আমরা আদিবাসীরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব।

“আমাদের বলতে কষ্ট হয়, কেননা আজকে প্রীতি উরাং না হয়ে অন্য কেউ যদি হত, তাহলে সারাদেশের মানুষ কথা বলত। কিন্তু প্রীতি উরাং চা শ্রমিকের মেয়ে, তার চেয়ে বড় কথা সে আদিবাসী। তাই তার জীবনের মূল্য নেই।”

সৈয়দ আশফাকুল হক এবং তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকার ‘দুই লাখ টাকা দিয়ে আপস করার চেষ্টা করেন’ বলেও অভিযোগ করেন অলিক মৃ।

তিনি বলেন, “প্রীতিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। যদি হত্যাই না হত, তাহলে তার মা-বাবার সঙ্গে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপস করার চেষ্টা করত না৷ প্রীতি উরাং নয় তলা থেকে কীভাবে পড়ে মারা গেল? সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তার সুষ্ঠু বিচার করা হোক।”

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল বলেন, “এই ঘটনায় ডেইলি স্টার কেন নীরব, আমরা বুঝতে পারছি না। এতদিন আমরা যাকে নিপীড়িত মানুষের পত্রিকা বলেন চিনতাম। কিন্তু ডেইলি স্টার তার নির্বাহী সম্পাদকের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।”

তিনি বলেন, “ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটছে, পাহাড় কিংবা সমতল সব জায়গায় একই অবস্থা। এই সব ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীনরাই জড়িত। আজকে পাহাড়ের আদিবাসীরা ভয় পায়। স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা আমাদের বোনের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।”

হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রিয়া চাকমা বলেন, “সমতল ও পাহাড়ে আদিবাসীদের জীবন হুমকি মধ্যে রয়েছে। বারবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, কেননা সরকার সুষ্ঠু বিচার করছে না। মহালছড়িতে আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা, প্রীতি হত্যার কারণ বিচারহীনতা৷ আমরা চাই শুধু গ্রেপ্তার নয়, দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।”

পিসিপি ঢাকা মহানগরের সভাপতি জগদীশ চাকমা বলেন, “আমরা শুনেছি, পরিবারের সাথে কথা বলে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন প্রীতির জীবন কখনোই দুই লক্ষ টাকা হতে পারে না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

আদিবাসী নারী সংগঠনের নেত্রী ফাল্গুনী ত্রিপুার সভাপতিত্বে সমাবেশে আদিবাসী যুব ফোরামের অর্থ-ফোরামের অর্থ সম্পাদক অনন্যা দ্রং, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চংয়ুং ম্রো, সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেংয়ং ম্রো, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঢাকা মহানগরের সহসাধারণ সম্পাদক রতীশ তপ্য বক্তব্য দেন।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

» রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন: হামলাকারীর আত্মসমর্পণ, রোগীদের দুর্ভোগ

সম্প্রতি