ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর তাদের দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে।
সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার শিকার হয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই সময় কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা সংগঠিত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদুল্লাহ হলের পাশ থেকে কোটাবিরোধীদেরও ধাওয়া করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
সংঘর্ষের মধ্যে পাঁচটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কারা এই ককটেল নিক্ষেপ করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত ছাত্রলীগের সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বিকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিল।
বিকাল সোয়া ৫টার দিকে জরুরি বিভাগের সামনে লাঠিসোঁটা হাতে বেশ কয়েকজন এলে সেখানে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরে বাঁশি বাজিয়ে আনসার সদস্যরা ছুটে এলে তারা সরে যায়। এরপর মেডিকেলের প্রধান ফটক ও জরুরি বিভাগের সামনে বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি বিভাগের সামনে উপস্থিত হন।
আসাদুজ্জামান জানান, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শতাধিক আহত মেডিকেলে এসেছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে।
“যাদের এখন ডিউটি নেই তাদেরও কল করা হয়েছে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি বিভাগের সামনে অতিরিক্ত আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।”
এসময় আহতদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন পরিচালককে বলেন, “আপনারা কীসের নিরাপত্তা দিচ্ছেন? তারা তো মেডিকেলে এসে আমাদের আহতদের ওপর আবারও হামলা চালাচ্ছে।”
পরিচালক জানান, “আমাদের ধারণা অনুযায়ী, আহতদের সঙ্গে যারা রয়েছেন, তারা সকলেই আপনাদের দলের সদস্য। তবে, তাদের শনাক্ত করতে পারলে আমাদের কাজ সহজ হবে।”
পরবর্তীতে তিনি মূল ফটকে অতিরিক্ত আনসার মোতায়েন করেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত ছাত্রলীগের সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিল।