হামলাকারীরা প্রকাশ্যে প্ররোচনা দিয়েছিল; তারপরও সরকার ছিল নিস্পৃহ
উদীচী, ছায়ানট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের প্রগতিশীল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে এসব হামলার ঘটনা উগ্র ডানপন্থি শক্তির নয়া ফ্যাসিবাদী প্রকল্পের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক তৎপরতা বলে মন্তব্য করেছে উদীচী।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডের মৈত্রী মিলনায়তনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জাতীয় পরিষদের সভায় এ মন্তব্য করা হয়। সভায় বলা হয়, এসব হামলার লক্ষ্য হচ্ছে ভিন্নমত, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত ও আতঙ্কিত করা। গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষাকে নিশ্চিহ্ন করা। অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয় সভায়।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী উদীচীর এই জাতীয় পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম। কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। সভায় সারাদেশের জেলা ও শাখা সংসদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর উদীচী কার্যালয়ে চোরাগোপ্তা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগের দিন ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার অফিসে এবং ছায়ানট কার্যালয়ে উগ্র ডানপন্থি ফ্যাসিস্টরা হামলা করে। শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে সারাদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়।
হামলাকারীরা প্রকাশ্যে এর প্ররোচনা দিয়েছিল। তারপরও সরকার ছিল নিস্পৃহ। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের নির্বিঘে্ন হামলা করতে সহায়তা করে।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উদীচী ও ছায়ানটের ওপর আগেও হামলা হয়েছে। যশোর ও নেত্রকোনায় উদীচীর ওপর বোমা হামলায় প্রায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। রমনার বটমূলের ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা করে ১০ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেসব হামলা ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক। কিন্তু হামলাকারীরা জানে না হামলা ও হত্যা করে কোনো আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে আজও সংস্কৃতিকর্মী এবং দেশের মানুষ সোচ্চার। হামলা করে উদীচীকে ভয় পাইয়ে দেয়া যাবে না। উদীচী কখনোই তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে অবিচল থেকে একটি শোষণ-বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করে যাবে।
সভায় শরিফ ওসমান হাদি, ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্ট শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস, শিশু আয়েশাসহ সব হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।
সভায় শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর সদস্য রুমি দে। অর্থ রিপোর্ট পেশ করেন কোষাধ্যক্ষ পারভেজ মাহমুদ। বক্তব্য দেন- জাতীয় পরিষদের সদস্য রফিকের হাসান, তদারক হোসেইন, বালু হক খান, মুঠোফোনে পাঠান, নিরঞ্জন দেব প্রমুখ।
অর্থ-বাণিজ্য: কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা