পুলিশ তাদের লাঠিপেটা, টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড সরিয়ে দেয়
জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) স্থগিত করা এবং গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তিসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলনরত মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ‘গ্রেমার্কেটের’ মোবাইল ব্যবসায়ীরা রোববার,(০৪ জানুয়ারী ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁ ইন্টার সেকশন অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে, টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড সরিয়ে দেয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ‘আমরা সাউ- গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি।’ এ সময় সেখান থেকে কয়েকজনকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিতে দেখা যায়। কিছু সময়ের জন্য কারওয়ান বাজার মোড় হয়ে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয়। পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। আন্দোনকারীদের একটি অংশ বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে অবস্থান নেন, আরেকটি অংশ হাতিরপুলে মোতালেব প্লাজার দিকে চলে যান।
এখানে মূলত বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স ও হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করছিলেন। ধাওয়া খেয়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ বসুন্ধরা মার্কেটে ঢুকে পড়ে। আরেক অংশ যায় হাতিরপুলের দিকে। দুপুর ২টার দিকে মোতালেব প্লাজার দিক থেকে আবারও সংগঠিত হয়ে ব্যবসায়ীরা সোনারগাঁ ক্রসিংয়ের দিকে আসতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল পৌনে ৪টায় ব্যবসায়ীদের মোতালেব প্লাজার সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের এডিসি শওকত হোসেন বলছেন, মোবাইল ব্যবসায়ীরা হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার সামনে জড়ো হয়ে সামনে এগোচ্ছিলেন। তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা মোতালেব প্লাজার সামনে রয়েছেন। দুপুর ২টার দিকে মোতালেব প্লাজার দিক থেকে আবারও সংগঠিত হয়ে ব্যবসায়ীরা সোনারগাঁ ক্রসিংয়ের দিকে আসতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়।
গত ১ জানুয়ারি এনইআইআর পদ্ধতি চালু হওয়ার পর ওই দিনই মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয় হামলা চালায়। সেই ঘটনায় ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে রোববার তারা সোনারগাঁ ক্রসিং অবরোধ করেন। এনইআইআর বাস্তবায়ন আরও তিন মাস পিছিয়ে দেয়া, পুরানো ফোন আমদানির সুযোগ দেয়া এবং মোবাইলের আমদানি শুল্ক আরও কমানোর দাবি জানান তারা।
তবে প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যব বলেছেন, ‘আমরা কাউকে অপরাধ, প্রতারণা করার লাইসেন্স দিতে পারি না। আমরা মোবাইল ফোনের শুল্ক কমিয়েছি, ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছি, তবুও যদি কেউ এরকম করে, তাহলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সরকার পদক্ষেপ নেবে।’ হামলায় ভাঙচুর হওয়া বিটিআরসি ভবন পরিদর্শনে গিয়ে রোববার তিনি এ কথা বলেন।
এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছিলেন দেশের আনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবসায়ীরা। যারা নানা ‘অবৈধ রুটে কর ফাঁকি’ দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড, রিফারবিশড ও পুরানো ফোন দেশের বাজারে ঢোকাচ্ছেন বলে সরকারের অভিযোগ। কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফোন দেশে ঢোকা বন্ধ করতে সরকার এ পদ্ধতি কার্যকরের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এনইআইআর চালু হলে দেশে অবৈধ পথে আসা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পুরানো ফোনের ব্যবসাও। মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। তবে এনইআইআর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহার হওয়া কোনো ফোনই বন্ধ হবে না।
অর্থ-বাণিজ্য: বছরের শুরুতেই বাড়লো স্বর্ণের দাম
অর্থ-বাণিজ্য: ইউসিবির আমানতে ৩ গুণের বেশি প্রবৃদ্ধি