দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আভ্যন্তরীণ রাজীতিতে ‘নাক গলায়’ বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া, ব্যাংক দখল, মিডিয়া দখলেও গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার কমিশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল বা মিডিয়া হাউজ দখল করা কি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের কাজ তাদেরকে নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।’
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন সময়ে ‘অপব্যবহার’ করার কথা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন।
কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, ‘দেশের প্রত্যেকটা গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার করতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘নাক গলায়’, কারণ তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়। তাদেরকে অপব্যবহার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আগের সরকারগুলো এবং ‘সদ্য বিদায়ী’ সরকার, সবাই তাদের অপব্যবহার করেছে। তবে ‘সদ্য বিদায়ী’ সরকার অনেক বেশি করেছে। সে প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ আগের সরকারের সময়ের গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত এ কমিশন গত রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সোমবার এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মইনুল ইসলাম চৌধুরী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাজ হচ্ছে দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আর সেনাবাহিনীর কাজ হচ্ছে ক্যান্টনমেন্টের থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা, নতুন নতুন যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করা।’
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সেনা কর্মকর্তাদের কাজ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে। বরং পুলিশের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি এলিট ফোর্স গঠন করা যেতে পারে।’