গোয়েন্দা পুলিশ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাপ্পির পরিকল্পনাতেই হাদিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, "পতিত (আওয়ামী লীগ) সরকারের বিরুদ্ধে হাদি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।"
গত মঙ্গলবার আদালতে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন। তবে বাপ্পি ছাড়াও ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর, ফিলিপ, মুফতি মাহমুদ এবং ফয়সালের বোন জেসমিন পলাতক রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর তিনি বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে সেখানে হামলার শিকার হন। একটি চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় এক আততায়ী আরেকটি চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে হাদিকে গুলি করে।
আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়।