স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন তার অনুসারীরা। শুক্রবার, (০৯ জানুয়ারী ২০২৬) জুমার নামাজের পর ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা পশ্চিম তেঁজতুরি বাজার (বসুন্ধরা সিটির পেছনে) এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। এরপর ফার্মগেট ঘুরে কারওয়ান বাজারে এসে মিছিল শেষ করেন।
মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন এক সময়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে গেছেন। গত বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে বন্দুকধারীরা তাকে গুলি করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। গত বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজার ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে মুছাব্বির ‘জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন’ বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। মুছাব্বির হত্যার ঘটনার পেছনে কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনার যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করলে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
হত্যা মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের এলাকায় আধিপত্য কমে গেলে মুছাব্বির সেই জায়গা ‘নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে’ বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা চলছিল।
এছাড়াও ফার্মগেট এলাকায় একটি গ্যারেজ দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলে আসছে। এই গ্যারেজ দখল ঘটনায় মুছাব্বিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে পুলিশ। এসব কারণেই মুছাব্বিরের স্ত্রীর অভিযোগের মিল আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন। তবে এর পাশাপাশি হত্যার পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখার কথা বলছেন তদন্তে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এদিকে পুলিশ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুইজনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে একজনের চেহারা কিছুটা বোঝা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপ-কমিশনার ইবনে মিজান। তিনি বলেন, ‘তাকে শনাক্ত করতে পারলেই হত্যার তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি হবে।’ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব সমন্বয় করে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
হত্যা মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের এলাকায় আধিপত্যটা কমে গেলে মুছাব্বির সেই জায়গা ‘নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে’ বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা চলছিল। এছাড়াও ফার্মগেট এলাকায় একটি গ্যারেজ দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলে আসছে। এই গ্যারেজ দখল ঘটনায় মুছাব্বিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে পুলিশ। এসব কারণেই মুছাব্বিরের স্ত্রীর স্বামীর জীবননাশের হুমকির অভিযোগের মিল আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারের সুপারস্টার হোটেলের দ্বিতীয় তলায় প্রতিদিনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন মুছাব্বির। আড্ডা শেষে ৮টা ১০ মিনিটে মাসুদকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। তারা ৮টা ২০ মিনিটে তেঁজতুরি বাজারে আহসানউল্লাহ ইন্সটিটিউটের সামনে পাঁকা রাস্তায় পৌঁছালে ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন তাদের গতিরোধ করে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তাতে মুছাব্বিরের ডান হাতের কনুই, পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। রক্তাক্ত জখম নিয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ এগিয়ে গেলে তাকেও পেটের বাঁ পাশে গুলি করে হামলাকারীরা। মাসুদও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাদের মৃত ভেবে গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়।