‘যদি টালবাহানা করতেই থাকেন, চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবো’: ইনকিলাব মঞ্চ নেতা

হাদি হত্যায় শত-সহস্র কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও ঢাবি প্রতিনিধি

হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় শুক্রবার, (১৬ জানুয়ারী ২০২৬) এক সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেছেন, ‘ইন্টেরিম কী আমাদের সঙ্গে টালবাহানা করছে? এই চট্টগ্রাম থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, যদি আপনারা টালবাহানা করতেই থাকেন, তাহলে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’ আরেক নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ বলেছেন, ‘হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী সরকার) টালবাহানা শুরু করে দিয়েছে। হাদি হত্যার বিচার না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ইন্টেরিমকে অপসারণে আন্দোলন করা হবে।’

এদিকে ঢাকায় এক সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যায় শত-সহ¯্র কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। যারা এই বিনিয়োগ করেছে, তারা শুধু শহীদ হাদির মাথায় গুলি করেনি, তারা বাংলাদেশের মাথায় গুলি করেছে, বাংলাদেশের পতাকায় গুলি করেছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর গুলি করেছে।

সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হাদি হত্যাকা-ের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে হাজির হয়ে পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নেন। এদিন মামলার বাদী অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি দাখিল করেন।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের কেউ যদি ৪০ ফুট মাটির নিচে লুকিয়েও থাকতো, রাষ্ট্র তাকে খুঁজে বের করেছে। অথচ এখন যারা শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, তারা দেশেই রয়েছে। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। এ কারণেই আজ জনগণ রাজপথে নেমেছে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে।

হত্যাকা-ের পরিকল্পনা ও অর্থের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একজন মানুষকে হত্যা করতে শত কোটি টাকার প্রয়োজন হয় না। এক লাখ টাকা দিলেই নেশাগ্রস্ত কিছু লোক খুন করে আসে। তাহলে প্রশ্ন হলো- এই শত কোটি টাকা কোথায়, কারা বিনিয়োগ করেছে এবং কেন?

চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাবের বলেন, এ ঘটনার জন্য সেদিন পাঁচটি টিম ছিল- এ কথা তারা অস্বীকার করেনি। কিন্তু তাহলে চার্জশিটে শুধু চারজনের নাম কেন? যারা সরাসরি গুলি করেছে, শুধু তাদের নামই আছে। বাকি পাঁচটি গ্রুপের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই কেন? এটা আমরা জানতে চাই।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

» কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার

সম্প্রতি