image
স্বজনের আহাজারি

উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন, দুই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শুক্রবার, (১৬ জানুয়ারী ২০২৬) ছুটির দিনের সকালে রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিহত তিনজনের দাফন হবে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়

রাব্বি-সুবর্ণা দম্পতির জন্য থামছে না পরিবারের কান্না

ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ৬ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা।

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে গিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। তালহা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস।

তাদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ বলেন, নিহতরা দুই পরিবারের সদস্য। তারা পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। নিহতদের মধ্যে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এক ফ্ল্যাটে থাকতেন।

রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ে। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বির মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রিশানের মরদেহ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে রয়েছে।

অন্য পরিবারের বাকি ৩ মৃতের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, তারা কেউ দগ্ধ হননি, ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতরা অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন- মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

তাদের মধ্যে হারিছ ও রাহাবের মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোদেলার মরদেহ লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে রয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ফল ব্যবসায়ী হারিছ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কিডনি জটিলতার কারণে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হতো।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দোতলার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আমাদের ধারণা।’

তিনজনের দাফন হবে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়

রাজধানীর উত্তরায় আগুনের ঘটনায় নিহতদের তিনজন একই পরিবারের। নিহতরা হলেন, কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩২) ও তাদের সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশান (৩)। রাব্বি-সুবর্ণা দম্পতির বাড়ি কুমিল্লা নগরীতে। রাব্বির মা ফেরদৌস আরা বেগম কুমিল্লা নগরীর নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা।

স্বজনরা জানান, রাব্বি ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। আর তার একমাত্র বোন পেশায় চিকিৎসক। একমাত্র ছেলে, বউ মা, নাতিকে হারিয়ে তাদের পরিবারের কান্না থামছেই না। রাব্বির বাসা কুমিল্লা নগরীর নানুয়া দিঘিরপাড়ে। তবে তাদের পৈত্রিক বাড়ি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওরা কাজী বাড়ি। নিহত রাব্বির বাবা ঠিকাদার কাজী খোরশেদুল আলম।

নিহত রাব্বীর চাচা ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, তার ভাতিজা রাব্বি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। শুক্রবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমার ভাই ও ভাবী ঢাকায় যান। বাদ আছর ঢাকায় একটি জানাজা হয়। পরবর্তীতে রাতে মরদেহ নগরীতে আনার পর নগরীর দারোগা বাড়িতে ২য় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ( ১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে ৩য় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে। এদিকে তাদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন-প্রতিবেশীরা নগরীর বাসা ও গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান।

কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার বলেন, রাব্বির মা তার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ। সকালে যখন তিনি খবরটি জানান তখনও জানতেন না তার ছেলে, বউ ও নাতি আর বেঁচে নেই। এ দুর্ঘটনায় একটি সুখী পরিবার তছনছ হয়ে গেল।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

» কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার

» ‘যদি টালবাহানা করতেই থাকেন, চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবো’: ইনকিলাব মঞ্চ নেতা

সম্প্রতি