image
ছবিঃ সংগৃহীত

উত্তরার আগুনে ছাই হলো ঈশ্বরগঞ্জের একটি পরিবার

প্রতিনিধি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক নিমিষেই নিভে গেল ঈশ্বরগঞ্জের একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ। বাবা, ছেলে ও ভাতিজিকে একসঙ্গে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোক আর আহাজারির ভারী আবহ।

নিহতরা হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দড়িপাঁচাশি গ্রামের বাসিন্দা হারিস উদ্দিন (৫০), তার একমাত্র ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) এবং হারিস উদ্দিনের ভাই শহীদুল্লাহর কন্যা রোদেলা (১৪)।

সরেজমিনে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নার রোল আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গ্রামের প্রতিটি ঘরে যেন নেমে এসেছে স্তব্ধতা। মসজিদ প্রাঙ্গণের কবরস্থানে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হচ্ছে-একই পরিবারের তিনটি নিথর দেহের জন্য। সেই দৃশ্য দেখে উপস্থিত মানুষ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

স্বজনরা জানান, হারিস উদ্দিন জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করছিলেন। ফলের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে জমজম টাওয়ারের পাশের একটি সাততলা ভবনের পঞ্চম তলায় ছিল তার ভাড়া বাসা। সেই বাসাতেই আগুন সবকিছু গ্রাস করে নেয়।

নিহত হারিস উদ্দিনের ছেলে রাহাব চৌধুরী উত্তরার একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। বাবা হারিস উদ্দিনের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে বড় মানুষ করবেন। আর হারিসের ভাই শহীদুল্লাহর মেয়ে রোদেলা একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের সবার আদরের মানুষ ছিল সে।

একটি দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিনটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় দড়িপাঁচাশি গ্রামসহ পুরো ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিভে গেছে একটি পরিবারের হাসি, থেমে গেছে বহু স্বপ্ন।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি