মা-মেয়ে খুন: শিক্ষিকা মিমের স্বামী তিন দিনের রিমান্ডে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষিকা মিম আক্তারের স্বামী হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ মঙ্গলবার, (২০ জানুয়ারী ২০২৬) এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এএসআই সুমাইয়া আক্তার জানান।

গত ১৫ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে ৩১ বছর বয়সী রোকেয়া রহমান এবং তার ১৪ বছরের মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাসায় থাকেন ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার। লাশ উদ্ধারের পর মিম, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক বোনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রোকেয়া ও ফাতেমা গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের খোঁজ না পেয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় জিডি করেছিলেন রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ। পরে গত ৬ জানুয়ারি তিনি মামলা করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিম আক্তার গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে ‘হত্যার দায় স্বীকার করে’ জবানবন্দি দেন। তার বোন অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫) হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় গাজীপুরে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে।

মিমের জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার এসআই রনি চৌধুরী বলেছিলেন, এক এনজিও থেকে মিম ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের জিম্মাদার হয়েছিলেন তার ছাত্রীর মা রোকেয়া রহমান। মিম ঋণের বিপরীতে প্রতি মাসে কিস্তি দিতেন ৫ হাজার টাকা।

‘ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়ায় মিমের সঙ্গে রোকেয়ার রহমানের সম্পর্কের অবনতি হয়। ফাতেমা গত ২৫ ডিসেম্বর মিমের কাছে পড়তে গেলে ঋণের টাকার প্রসঙ্গ উঠে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা থাপ্পড় দেন মিমকে। ক্ষিপ্ত হয়ে তখন মিম ও তার বোন গলাটিপে হত্যা করেন ফাতেমাকে।’

এরপর ‘ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে’ এমন কথা বলে মিম তার রোকেয়াকেও বাসায় ডেকে নেন। ‘বাসায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মিমের ছোট বোন ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ফাতেমার মরদেহ রাখা হয় বাথরুমের ছাদে, আর তার মা রোকেয়ার মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয় খাটের নিচে।’

গত ১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকা থেকে মিমের স্বামী হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে তদন্ত কর্মকর্তা রনি চৌধুরী। তবে মামলার মূল নথি না থাকায় রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রাখা হয়। এদিন শুনানির সময় হুমায়ুন কবিরকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট নাশিদুস জামান নিশান রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি