চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট বৃহস্পতিবার, (২২ জানুয়ারী ২০২৬) দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। এদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হোসেন আলী নিজেই হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তরে এসে আত্মসমর্পণ করলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ধর্মঘটের ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে অপারেশনসহ দায়িত্ব পালনের সময় এক রোগীর স্বজনরা এসে তাদের রোগীকে আগে অপারেশন করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। চিকিৎসকরা জানান, সিরিয়াল অনুযায়ী অপারেশন করা হচ্ছে এবং তাদের রোগীর অপারেশনও যথাসময়ে করা হবে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রোগীর স্বজন হোসেন আলীর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা সিনিয়র চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে আহত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বুধবার বেলা ১১টা থেকে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলাকারী হোসেন আলী নিজেই হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
হোসেন আলীর বাবার নাম হাফেজ আশরাফুল ইসলাম। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট গ্রামে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, শুধু হামলার নেতৃত্বদানকারী যুবককে আটক করলেই হবে না; হাসপাতালের ভেতরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালে শত শত রোগী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আসিফ বলেন, ‘শনিবারের (আগামীকাল) মধ্যে হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু, আনসার সদস্যদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেলে আমরা কাজে যোগ দেব। তার আগে নয়।’
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধর্মঘটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত হোসেন আলীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সে ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার (আগামীকাল) থেকে হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে মিড-লেভেল চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও জরুরি স্কোয়াড করে সেবা দিচ্ছেন।’